হুমায়ূন শফিক

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রচারের ভিন্ন কৌশল সামনে এনেছেন নারীরা। বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলের নারী কর্মীরা মিছিল, জনসভার বাইরে গিয়ে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব তৈরি করছেন। অন্দরমহলে তালিমে কোন প্রার্থীকে, কেন বেছে নিতে হবে, তা বিশদে বলছেন।
নির্বাচনী প্রতিপক্ষের অভিযোগ, প্রচারের আড়ালে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ইসলামপন্থী দলের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছেন। নানা আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আচরণবিধির এই লঙ্ঘন দেখেও না দেখার ভান করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা। একটি বাড়ির ড্রইংরুমের জমায়েতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত। ফাঁকে ফাঁকে চলছে আলোচনা। শ্রোতা থেকে বক্তা– সবাই নারী। ভোটারদের উদ্দেশে বক্তারা ইসলাম ও দেশের স্বার্থে ‘সৎ এবং আল্লাহভীরু’ প্রার্থী বেছে নিতে বলছেন।
নির্বাচনে আলোচিত আসনের মধ্যে অন্যতম ঢাকা-১৪ (মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম)। বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান নিজে গুমের শিকার।
নিয়মিত তালিমে অংশ নেন ঢাকা-১৪ আসনের ভোটার মাহমুদা বেগম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘তালিমে আমরা আল্লাহ-খোদার জিকির করি। শরিয়তের আলোকে যাপিত জীবনের পথনির্দেশনা পাই।’ আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয় কিনা– প্রশ্নে মাহমুদা বেগম বলেন, ‘হ্যাঁ। তালিমের আপারা ইসলামের পক্ষে যে প্রার্থী, তাঁকে বেছে নিতে বলেন। তালিমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’– এর পক্ষে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও হাতপাখায় ভোট দেওয়ার জন্য আমাদের একাধিক দিন বলা হয়েছে।’
অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার আসর বা তালিমকে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী দল দীর্ঘকাল ধরে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কাজে ব্যবহার করে আসছে। এবারের নির্বাচন সামনে রেখে তালিমগুলো হয়ে উঠেছে প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। দলগুলোর নারী কর্মীরা ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও এনআইডি বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো বিষয়কে ভোটের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি নেতারা অহরহ এমন অভিযোগ করছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্ট্রিমকে বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভোট কিনতে তারা অবৈধ লেনদেনের জন্য বিকাশ নম্বর নিচ্ছেন। এটি দলটির মোনাফেকি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।’
ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই আসনের এক গৃহিণী বলেন, সপ্তাহে একদিন পাড়ায় তালিম হয়। সেখানে প্রথমে দ্বীনি কথাবার্তা হয়। এরপর তালিমের আপারা দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে কাদের ভোট দেওয়া উচিত, তা বোঝান। তারা বলেন, ‘ভোট পবিত্র আমানত। এটির বরখেলাপ হলে পরকালে আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য আল্লাহভীরু প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে’।
চা দোকানি কাজীপাড়ার বাসিন্দা বশির উদ্দিন জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নারী কর্মীরা এসেছিলেন। তারা নিজ দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন। তবে জামায়াতের নারী কর্মীরা আল্লাহর ওয়াস্তে ভোটটা দাঁড়িপাল্লায় দিতে বলেছেন।
এনআইডি ও ফোন নম্বর
জানা যায়, প্রচারের সময় নারী কর্মীদের অন্যতম কাজ হলো– সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীদের কাছ থেকে তাদের এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর সংগ্রহ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর নারী কর্মীরা।
সরেজমিন তুলি ও ব্যারিস্টার আরমানের আসনের বিভিন্ন বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিচরণ পাওয়া যায়। সংসদীয় এলাকার গৃহিণী শিল্পী আক্তার স্ট্রিমকে জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা মাসদুয়েক আগে তাঁর বাসায় এসেছিলেন। তখনই দাঁড়িপাল্লার জন্য ভোট চেয়েছেন। বিকাশ বা এনআইডি নম্বর নিয়েছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, না, শুধু নাম ও ফোন নম্বর নেন, যাতে আমরা ভোটকেন্দ্রের তথ্য সহজে পেতে পারি। আমি এখানকার ভোটার নই, বলার পর চলে যান তারা।
একই আসনের বিভিন্ন বাড়িতে বিএনপির নারী কর্মীদেরও পাওয়া যায়। মিরপুর-২ এর বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, দুই নারী এসে আমাকে একটি লিফলেট ধরিয়ে দেন। তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিকাশ নম্বর বা এনআইডি চেয়েছেন কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, না। তারা অন্য কিছু চাননি। অনেক নারীই এসে প্রতিদিন নিজেদের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দিতে বলছেন।
মিরপুর-১ এর বাসিন্দা রাসেল মিয়া কাজ করেন ক্যাফেতে। তিনি জানান, এখানে বিএনপির নারী কর্মীদের বেশি দেখা যায়। কারণ বিএনপির প্রার্থীও নারী, সানজিদা ইসলাম তুলি। জামায়াতের কেউ আসেন না– প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসেছেন। তাদের কোনো নারীকে দেখিনি।
কলামিস্ট, সংগঠক ও শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি নাহিদ হাসান স্ট্রিমকে বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার– এটি নানা কারণে কারও জানা না থাকতে পারে। তাদের অজ্ঞতার এই সুযোগে গোপনীয় জিনিস হাতিয়ে নেওয়া অপরাধ। ভোটারের কাছে বিকাশ নম্বর চাওয়া বড় অপরাধ। তিনি বলেন, ভোটকে যে কালো টাকামুক্ত করার কথা বলি। ভোটের রাজনীতিতে নতুন নোংরামো এই বিকাশ নম্বর চাওয়া।
এ ব্যাপারে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের নারী কর্মীরা নাকি বাসায় বাসায় গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি তথ্য নিচ্ছেন। এটি অদ্ভুত অভিযোগ। ধরেই নিলাম, বিকাশ বা এনআইডি নম্বর নিচ্ছেন, তাহলে কি ওই কর্মীর গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও আছে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেউ আচরণবিধি ভাঙলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নেবে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের নারীদের কেন হেনস্তা করা হচ্ছে?
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘বন্ধুত্ব থাকলে আপনাকে আমি আমার এনআইডি দিতে পারি। এটি কিন্তু ভিন্ন জিনিস। সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কারও বিরুদ্ধে এনআইডি কিংবা বিকাশ নম্বর নেওয়ার অভিযোগ থাকলে, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে দিতে পারেন। তারা ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। লঙ্ঘনের ঘটনায় ইতোমধ্যে কিছু কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রচারের ভিন্ন কৌশল সামনে এনেছেন নারীরা। বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলের নারী কর্মীরা মিছিল, জনসভার বাইরে গিয়ে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব তৈরি করছেন। অন্দরমহলে তালিমে কোন প্রার্থীকে, কেন বেছে নিতে হবে, তা বিশদে বলছেন।
নির্বাচনী প্রতিপক্ষের অভিযোগ, প্রচারের আড়ালে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ইসলামপন্থী দলের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছেন। নানা আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আচরণবিধির এই লঙ্ঘন দেখেও না দেখার ভান করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা। একটি বাড়ির ড্রইংরুমের জমায়েতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত। ফাঁকে ফাঁকে চলছে আলোচনা। শ্রোতা থেকে বক্তা– সবাই নারী। ভোটারদের উদ্দেশে বক্তারা ইসলাম ও দেশের স্বার্থে ‘সৎ এবং আল্লাহভীরু’ প্রার্থী বেছে নিতে বলছেন।
নির্বাচনে আলোচিত আসনের মধ্যে অন্যতম ঢাকা-১৪ (মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম)। বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান নিজে গুমের শিকার।
নিয়মিত তালিমে অংশ নেন ঢাকা-১৪ আসনের ভোটার মাহমুদা বেগম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘তালিমে আমরা আল্লাহ-খোদার জিকির করি। শরিয়তের আলোকে যাপিত জীবনের পথনির্দেশনা পাই।’ আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয় কিনা– প্রশ্নে মাহমুদা বেগম বলেন, ‘হ্যাঁ। তালিমের আপারা ইসলামের পক্ষে যে প্রার্থী, তাঁকে বেছে নিতে বলেন। তালিমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’– এর পক্ষে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও হাতপাখায় ভোট দেওয়ার জন্য আমাদের একাধিক দিন বলা হয়েছে।’
অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার আসর বা তালিমকে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী দল দীর্ঘকাল ধরে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কাজে ব্যবহার করে আসছে। এবারের নির্বাচন সামনে রেখে তালিমগুলো হয়ে উঠেছে প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। দলগুলোর নারী কর্মীরা ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও এনআইডি বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো বিষয়কে ভোটের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি নেতারা অহরহ এমন অভিযোগ করছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্ট্রিমকে বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভোট কিনতে তারা অবৈধ লেনদেনের জন্য বিকাশ নম্বর নিচ্ছেন। এটি দলটির মোনাফেকি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।’
ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই আসনের এক গৃহিণী বলেন, সপ্তাহে একদিন পাড়ায় তালিম হয়। সেখানে প্রথমে দ্বীনি কথাবার্তা হয়। এরপর তালিমের আপারা দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে কাদের ভোট দেওয়া উচিত, তা বোঝান। তারা বলেন, ‘ভোট পবিত্র আমানত। এটির বরখেলাপ হলে পরকালে আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য আল্লাহভীরু প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে’।
চা দোকানি কাজীপাড়ার বাসিন্দা বশির উদ্দিন জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নারী কর্মীরা এসেছিলেন। তারা নিজ দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন। তবে জামায়াতের নারী কর্মীরা আল্লাহর ওয়াস্তে ভোটটা দাঁড়িপাল্লায় দিতে বলেছেন।
এনআইডি ও ফোন নম্বর
জানা যায়, প্রচারের সময় নারী কর্মীদের অন্যতম কাজ হলো– সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীদের কাছ থেকে তাদের এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বর সংগ্রহ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর নারী কর্মীরা।
সরেজমিন তুলি ও ব্যারিস্টার আরমানের আসনের বিভিন্ন বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিচরণ পাওয়া যায়। সংসদীয় এলাকার গৃহিণী শিল্পী আক্তার স্ট্রিমকে জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা মাসদুয়েক আগে তাঁর বাসায় এসেছিলেন। তখনই দাঁড়িপাল্লার জন্য ভোট চেয়েছেন। বিকাশ বা এনআইডি নম্বর নিয়েছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, না, শুধু নাম ও ফোন নম্বর নেন, যাতে আমরা ভোটকেন্দ্রের তথ্য সহজে পেতে পারি। আমি এখানকার ভোটার নই, বলার পর চলে যান তারা।
একই আসনের বিভিন্ন বাড়িতে বিএনপির নারী কর্মীদেরও পাওয়া যায়। মিরপুর-২ এর বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, দুই নারী এসে আমাকে একটি লিফলেট ধরিয়ে দেন। তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিকাশ নম্বর বা এনআইডি চেয়েছেন কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, না। তারা অন্য কিছু চাননি। অনেক নারীই এসে প্রতিদিন নিজেদের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দিতে বলছেন।
মিরপুর-১ এর বাসিন্দা রাসেল মিয়া কাজ করেন ক্যাফেতে। তিনি জানান, এখানে বিএনপির নারী কর্মীদের বেশি দেখা যায়। কারণ বিএনপির প্রার্থীও নারী, সানজিদা ইসলাম তুলি। জামায়াতের কেউ আসেন না– প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসেছেন। তাদের কোনো নারীকে দেখিনি।
কলামিস্ট, সংগঠক ও শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি নাহিদ হাসান স্ট্রিমকে বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার– এটি নানা কারণে কারও জানা না থাকতে পারে। তাদের অজ্ঞতার এই সুযোগে গোপনীয় জিনিস হাতিয়ে নেওয়া অপরাধ। ভোটারের কাছে বিকাশ নম্বর চাওয়া বড় অপরাধ। তিনি বলেন, ভোটকে যে কালো টাকামুক্ত করার কথা বলি। ভোটের রাজনীতিতে নতুন নোংরামো এই বিকাশ নম্বর চাওয়া।
এ ব্যাপারে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের নারী কর্মীরা নাকি বাসায় বাসায় গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি তথ্য নিচ্ছেন। এটি অদ্ভুত অভিযোগ। ধরেই নিলাম, বিকাশ বা এনআইডি নম্বর নিচ্ছেন, তাহলে কি ওই কর্মীর গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও আছে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেউ আচরণবিধি ভাঙলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নেবে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের নারীদের কেন হেনস্তা করা হচ্ছে?
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘বন্ধুত্ব থাকলে আপনাকে আমি আমার এনআইডি দিতে পারি। এটি কিন্তু ভিন্ন জিনিস। সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কারও বিরুদ্ধে এনআইডি কিংবা বিকাশ নম্বর নেওয়ার অভিযোগ থাকলে, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে দিতে পারেন। তারা ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। লঙ্ঘনের ঘটনায় ইতোমধ্যে কিছু কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী প্রবেশের অনুমতির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন।
৩ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে গণসংযোগকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি গোষ্ঠী একাত্তরের চেতনাকে পেছনে ফেলতে চায়। কিন্তু একাত্তরই আমাদের মূল অস্তিত্ব। এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ভারতীয় আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা পরিবর্তন চায় এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে।’
৫ ঘণ্টা আগে
জনগণ পুরোনো পচা রাজনীতি আর চায় না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'ঠ্যালায় পড়ে' অনেকেই এখন 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
৫ ঘণ্টা আগে