leadT1ad

যেসব অসচেতন অভ্যাসের কারণে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করতে পারে

আমরা অনেকেই ভাবি যে মানুষ যখন কাউকে অপছন্দ করে, এর পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দৈনন্দিন ছোটোখাটো কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেও আমরা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠি। এই লেখায় এমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা অজান্তেই আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো সম্পর্কে।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৫
দৈনন্দিন ছোটোখাটো কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেও আমরা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠি। এআই জেনারেটেড ছবি

একজন মানুষকে সবাই একইভাবে ভালোবাসবে, তা আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। তবে আশেপাশের অনেকেই যদি কারো প্রতি বিরক্ত থাকে বা তাঁকে এড়িয়ে চলতে চায়, ধরে নিতে হবে, কোনো না কোনো সমস্যা তাঁর আচরণের ভেতরেই লুকিয়ে আছে।

আমরা অনেকেই ভাবি যে মানুষ যখন কাউকে অপছন্দ করে, এর পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ থাকে। হয়ত সেই ব্যক্তি খুব অহংকারী, স্বার্থপর কিংবা রূঢ় আচরণের অধিকারী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ সময় বড় কোনো দোষ নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন ছোটখাটো কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেই আমরা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠি।

এই অভ্যাসগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে আমরা নিজেরাও টের পাই না, কখন এগুলো আমাদের ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওল্ডেস্ট ডট অর্গ-এর একটি আর্টিকেলে এমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা অজান্তেই আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো সম্পর্কে।

কথায় কথায় নিজেকে সেরা প্রমাণ করার চেষ্টা

কথোপকথনের সময় অনেকেরই একটা প্রবণতা থাকে, সব কিছুকে প্রতিযোগিতায় পরিণত করা। কেউ হয়ত নিজের জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন, আপনি সঙ্গে সঙ্গে এর চেয়েও বড় বা রোমাঞ্চকর কোনো গল্প শুনিয়ে দিলেন। আপনি হয়ত ভাবছেন এতে আড্ডা জমবে, কিন্তু আসলে উল্টোটা ঘটে।

যখনই আপনি ‘ওয়ান-আপ’ বা নিজেকে বাড়িয়ে বলার চেষ্টা করেন, তখন সামনের মানুষটি নিজেকে তুচ্ছ মনে করতে পারেন। এতে সেই ব্যক্তির মনে হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য আপনার কাছে নেই।

বোঝার জন্য না শুনে শুধু উত্তর দেওয়ার জন্য শোনা

অনেকেই আছেন, যাঁরা কথা শোনার সময় কেবল মাথা নাড়েন বা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কিন্তু তাঁদের মন থাকে অন্য কোথাও। ভুলে যাবেন না, মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারে আপনি তাঁর কথা মন দিয়ে শুনছেন কিনা।

যখন কেউ বুঝতে পারে আপনি তাঁর কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তখন সে নিজেকে অবচেতন মনেই অবহেলিত ভাবতে শুরু করে। এই বদ অভ্যাসটি আপনাকে অন্যের কাছে আত্মকেন্দ্রিক হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

মুখের অভিব্যক্তি

কথা বলার সময় এদিক ওদিক চোখ ঘোরানো, কপাল কুঁচকে থাকা বা ভাবলেশহীন তাকিয়ে থাকা; এগুলো আপনার সামনে বসা মানুষটিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

আপনি হয়ত অন্যমনস্ক হয়ে বা কোনো কারণে চিন্তিত হয়ে এমন করছেন, কিন্তু সামনের মানুষটি একে অপমানজনক মনে করতে পারেন। আপনার মুখের এই সূক্ষ্ম অভিব্যক্তিগুলো বুঝিয়ে দেয় যে আপনি তাঁর কথায় আগ্রহী নন বা তাকে ‘জাজ’ করছেন। ফলে মানুষ আপনার সঙ্গে আর কথা বলতে আগ্রহবোধ করেন না।

অজান্তেই কথায় বাধা দেওয়া

কারো কথার মাঝখানে কথা বলা সবসময় যে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, তা নয়। অনেক সময় আমরা উত্তেজনার বশে বা কোনো পয়েন্ট ভুলে যাওয়ার ভয়ে অন্যকে থামিয়ে কথা বলি।

কিন্তু এটি আধিপত্য বিস্তারের একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন অনেকে। বারবার কথার মাঝখানে বাধা দিলে সামনের মানুষটি মনে করতে পারেন, তাঁর কথার চেয়ে আপনার কথাটিই বেশি জরুরি। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সম্পর্ক কেবল পারস্পরিক লেনদেনের বিষয় নয়

কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা জরুরি, কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়। যারা সব আলোচনায় খুব দ্রুত কাজের কথায় আসতে চান বা তাড়াহুড়ো করেন, তাঁদেরকে মানুষ প্রায়ই যান্ত্রিক মনে করে।

আপনাকে মনে রাখতে হবে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল পারস্পরিক লেনদেনের বিষয় নয়, এখানে আবেগের জায়গাও আছে। আপনি যদি মানুষকে কেবল ‘কাজের মাধ্যম’ হিসেবে দেখেন, তবে তাঁরা আপনার থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাবে।

আবেগপূর্ণ মুহূর্তে ভাবলেশহীন থাকা

কেউ যখন খুব উৎসাহ নিয়ে কিছু বলে বা কষ্টের কথা শেয়ার করে, তখন যদি আপনি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখান বা ‘নিউট্রাল’ থাকেন, তবে তা অপরদিকের মানুষটির জন্য অনেক সময় কষ্টদায়ক হতে পারে।

ভাবলেশহীন প্রতিক্রিয়াকে মানুষ উদাসীনতা বা প্রত্যাখ্যান হিসেবে ধরে নিতে পারে। যা সম্পর্কের বোঝাপড়ার বেলায় খুবই ক্ষতিকর।

সারাক্ষণ ভুল ধরা

কথায় কথায় অন্যের ব্যাকরণ ভুল ধরা বা তথ্যের ছোটখাটো ভুল সংশোধন করে দেওয়া অনেকের বদ অভ্যাস। আপনি হয়ত ভাবছেন এতে তাঁদের উপকার হচ্ছে, কিন্তু আসলে এটি বিরক্তি তৈরি করতে পারে। মানুষ চায় না প্রতি মুহূর্তে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হোক। সারাক্ষণ ভুল ধরলে মানুষ আপনার সামনে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে নিজেকে আপনার কাছ থেকে গুটিয়ে নেয়।

অনুপস্থিত ব্যক্তির সমালোচনা করা

যারা উপস্থিত নেই, তাঁদেরকে নিয়ে গসিপ বা সমালোচনা করা খুব সাধারণ একটি অভ্যাস। কিন্তু এটি আপনার চারপাশের মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। তাঁরা ভাবতে শুরু করে, আপনি তাঁদের অবর্তমানে একইভাবে সমালোচনা করেন। এটি বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে করে দেয়।

পাল্টা প্রশ্ন না করা

কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলছে, আপনি শুনছেন, কিন্তু কোনো পাল্টা প্রশ্ন করছেন না; এটি কথোপকথনকে একপাক্ষিক করে তোলে। পাল্টা প্রশ্ন করা মানে হলো আপনি তাঁর কথায় আগ্রহী এবং আরো জানতে চান। এটি না করলে মানুষ মনে করে আপনি কেবল তাঁদের সহ্য করছেন, গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

কখনো অনিশ্চয়তা স্বীকার না করা

ভুল জেনেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা মানুষকে আমরা পছন্দ করি না বা তাঁদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে চাই। আপনি যখন কোনো কিছু না জেনেও জানার ভান করেন, তখন সহযোগিতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি সততার লক্ষণ। এই গুণ না থাকলে মানুষ আপনাকে অহংকারী বা কপট মনে করতে পারে।

এই ১০ অভ্যাসের বেশিরভাগই আমরা হয়ত সচেতনভাবে করি না। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো আনা সম্ভব। নিজের আচরণের দিকে একটু নজর দিলে এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে খুব সহজেই আপনি প্রিয়পাত্র হয়ে উঠতে পারেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত