‘উপরের নির্দেশে’ সুরতহালে গুলির তথ্য গোপন করেন এসআই শাহাদাত: ট্রাইব্যুনালে তাইমের বাবা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ২৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমের সুরতহাল প্রতিবেদনে গুলির তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাবা পুলিশের এসআই ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবিরের একক বেঞ্চে তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে এসআই ময়নাল হোসেন বলেন, তাঁর ছোট ছেলে ইমাম হাসান তাইম ভূঁইয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অংশ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তাইম বন্ধু শাহরিয়ারের ফোন পেয়ে চা খাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাজলা এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে থাকাকালে খবর পান তাইম কাজলা ফুটওভার ব্রিজে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১০ দিনের ছুটি দিলে তিনি দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছান এবং মর্গে গিয়ে ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ শনাক্ত করেন।

ছেলের লাশের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, 'ছেলের বুকে, পেটে ও পায়ে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল। আমি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলি—একটা মানুষ মারতে কয়টি গুলি লাগে?'

সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত নিয়ে পুলিশের টালবাহানা প্রসঙ্গে এই বাবা বলেন, রাজারবাগ থেকে তাঁর সহকর্মীরা সান্ত্বনা দিতে আসেন এবং জানান শাহবাগ থানার এসআই শাহাদাত সুরতহালের দায়িত্ব পেয়েছেন। পরদিন ২১ জুলাই এসআই শাহাদাত সুরতহাল করার সময় গুলিতে মৃত্যুর কথা না লিখে কিছু ‘ছিদ্র ও কালো স্পট’ থাকার কথা লিপিবদ্ধ করেন। ময়নাল হোসেন প্রতিবাদ করলে শাহাদাত তাঁকে বলেন, 'এটা উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারব না। ছাত্র-জনতার আঘাতে ও গুলিতে আপনার ছেলে মারা গেছে।' এসআই ময়নাল জানান, চাকরি হারানো ও লাশে পচন ধরার ভয়ে তিনি তখন ওই রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।

ছেলের বন্ধুদের বরাতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার দিন কাজলায় পুলিশ ধাওয়া করলে তাইম ও তার বন্ধুরা একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে শাটার নামিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশ দোকানের শাটার খুলে তাঁদের বের করে লাঠি ও রাইফেলের বাট দিয়ে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে দৌড় দিলে পরিদর্শক (অপারেশন) মামুন ও এসআই সাজ্জাদ গুলি করেন। তাইম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ‘মা মা’ করে চিৎকার করতে থাকলে পরিদর্শক জাকির খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে বারবার গুলি করেন।

ময়নাল হোসেন অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই তিনি ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কমিশনার তাঁর সাথে দেখা করেননি। পরে ডিসি (ওয়ারী) ইকবালের কাছে গেলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আপনার ছেলে কেন আন্দোলনে গিয়েছিল?' পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তাইম হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১১ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন এই পুলিশ সদস্য। এ মামলায় বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী কারাগারে আছেন এবং বাকি ৯ জন পলাতক।

সম্পর্কিত