নতুন উৎস থেকে তেল আনার চেষ্টা, এপ্রিলে জ্বালানির সংকট দেখছে না সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১২
জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। স্ট্রিম ছবি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে গত মাসে জ্বালানি মজুতে কিছুটা টান পড়লেও এপ্রিলে সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানের কাছ থেকে বাংলাদেশের ৬টি জাহাজের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। আগামীকাল শুক্রবার (২ এপ্রিল) থেকে নতুন তেলের চালান দেশে পৌঁছানো শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, নিয়মিত উৎসের বাইরেও নতুন উৎস থেকে তেল কেনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভারত থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি আসছে। জ্বালানি বিভাগের ২ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ টন, পেট্রোল ১২ হাজার ১৯৪ টন এবং জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

চলতি মাসে সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার টনের নিশ্চয়তা মিলেছে। দেশে ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রোলের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন অকটেন চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎস থেকে আসবে ৩০ হাজার টন এবং আমদানি করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন। পেট্রোলের ৪৪ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে ৩৫ হাজার টন উৎপাদিত হবে।

বিপিসি জানায়, আগামীকাল চীনা কোম্পানি ইউনিপ্যাকের দুটি জাহাজে ৬০ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এ মাসে এই কোম্পানির আরও চালানসহ ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকেও ডিজেল আসবে। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি জানিয়েছেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন সংকটে না পড়ে, সেজন্য ৬টি জাহাজকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ অ্যান্ড এ এনার্জি ও এক্সন মোবিলসহ ৫টি নতুন কোম্পানি থেকে তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, প্রতিটি জাহাজ সঠিক সময়ে আসছে এবং এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে জানান, রিফাইনারিতে পর্যাপ্ত তেল ও ক্রুড অয়েল আছে; কেবল ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে পাম্পে ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে পাচার রোধে সীমান্তে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত