leadT1ad

মোবাইল নিবন্ধননের বাধ্যবাধকতা

বিটিআরসি ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর, আটক ৪

আজ বিকেলে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ হঠাৎ করে বিটিআরসি কার্যালয় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার প্রতিবাদ অংশ নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় হাজারখানে হামলাকারী ভবনের চতুর্দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের হামলায় একটি বাস, ভবনের চারপাশের কাচের গ্লাস ভেঙে যায়। ভাঙচুর করতে হামলাকারীরা ভেতরেও ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ভেতরের গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও আনসার বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা বেপরোয়া হওয়ার তাদের সামাল দিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখেই হামলাকারীরা ধীরে ধীরে পালিয়ে যান। এ সময় ভেতর থেকে চারজনকে আটক করেন আনসার বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাঁদেরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ সময় হামলাকারীদের নিয়ে আসা চারটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। এগুলো সেনাবাহিনীর হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বেলা তিনটার দিকে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এর কিছুক্ষণ পর উত্তেজিত হয়ে আন্দোলনকারীরা বিটিআরসি ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।

এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনাস্থলের দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরা জানান, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা ১ জানিয়ারি থেকে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার প্রতিবাদ অংশ ব্যবসা করার বিভিন্ন দাবি নিয়ে এখানে জড়ো হয়েছিলেন, সেই দাবি পূরণ না হয় তারা উত্তেজিত হয়ে এই ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিটিআরসি ভবনের ভেতরে নিরাপদে অবস্থান নেন। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ, কোস্টগার্ড, ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বিটিআরসি ভবনে অবস্থিত বেসিক ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড শ্যাম সাহা স্ট্রিমকে জানান, বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর চালায়, প্রাথমিকভাবে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন হামলাকারী সন্দেহে আটক করা হয়।

হামলার সময় প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক ছিলেন বলে জানান শ্যাম সাহা।

আনসারের সহকারী প্লাটুন কমান্ডার মোহাম্মদ বাবুল মিয়া স্ট্রিমকে জানান, বিটিআরসি ভবনের চতুর্দিকের বাউন্ডারি ভেঙে ফেলেছে, মূল ভবনের ভেতরের দিকের গ্লাসও ভেঙে ফেলেছে, রাস্তা থেকে ভবন লক্ষ্য করে ওপরের দিকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়ে মেরেছে তারা। এতে ভবনের ওপরের দিকের গ্লাসও ভেঙে ফেলেছে। গ্লাসের পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

আনসারের সহকারী কমান্ডার বাবুল আরও জানান, ‘১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের কাছে থাকা অবৈধ ফোনগুলো বৈধ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় বিটিআরসির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে। তাদের দাবি ছিল আরও সময় বাড়িয়ে দেওয়ার। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর থানা পুলিশ ভাঙচুরের আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত