পুলিশের ইউনিফর্মে আবার পরিবর্তন আসছে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত ছবি

পুলিশের ইউনিফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রং আগের মতো থাকলেও প্যান্টের ক্ষেত্রে ফিরছে আগের ‘খাকি’ রং।

আজ সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের আবেদন ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভায় পুলিশের পোশাকের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাপড় উৎপাদন ও প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুতই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে। সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে কাজ করছে। মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের ভয়াবহতা রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অবসর—সবই আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২–১৪ লাখ মিয়ানমার নাগরিকের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা ও মাদক চোরাচালান রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জয়েন্ট ফোর্সের নেতৃত্ব ও অপারেশনাল বিষয়গুলো নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক হয়েছে।

সম্পর্কিত