মেট্রোরেলের বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর ফাঁকি

স্ট্রিম গ্রাফিক

মেট্রোরেলের ৪টি স্টেশনে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া এন এন কমিউনিকেশন প্রায় ৪৫ লাখ আয়কর ও ভ্যাট কম জমা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম ভেঙে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডর (ডিএমটিসিএল) অনুকূলে কর জমা না দিয়ে রাশেদুজ্জামান খান নামের এক ব্যক্তির নামে জমা দিয়েছে।

আয়কর হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ১৬ লাখ। ভাড়া ও আয়করের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসাবে প্রায় ৬৯ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দিয়েছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। ভ্যাট কম দিয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার।

গত ১৫ এপ্রিল ডিএমটিসিএলের মার্কেটিং শাখা থেকে এন এন কমিউনিকেশনের চিফ অপারেটিং অফিসারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও উপসচিব ওসমান গনির সই করা চিঠিতে এখনো জমা না দেওয়া অর্থ ডিএমটিসিএলর অনুকূলে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাশেদুজ্জামান খানের নামে দেওয়া অর্থও ডিএমটিসিএলের অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসবের প্রমাণিক দাখিলও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠির হিসাব অনুযায়ী, এন এন কমিউনিকেশনের এক বছরের ভাড়ার পরিমাণ ৪ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৯২০ টাকা। আয়কর আইনের ধারা-১০৯ অনুযায়ী এক বছরের ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর হিসাবে আসে ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বিজ্ঞাপনী সংস্থাটি জমা দিয়েছে মাত্র ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৭ টাকা। অর্থাৎ আয়কর বাবদ ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭২ টাকা কম জমা দিয়েছে।

এছাড়া ভাড়া ও আয়করের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। এই হিসাবে ভ্যাট ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৪৮৬ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এন এন কমিউনিকেশন জমা দিয়েছে ৫৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে ভ্যাট হিসাবে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮৩ টাকা কম জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে এন এন কমিউনিকেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ইকবাল হোসেন স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, চিঠি পাওয়ার পরে তারা সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের কমপ্লায়েন্সের যে ইস্যুগুলো আছে সেগুলো আমরা সব ধরনের সেফটি মেইনটেইন করেই করছি। এ বিষয়ে অনেক আইন আছে। শুরুতে একটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল বলেই তারা চিঠিটা দিয়েছে। পরে আমাদের ওই বিষয়ের অধ্যাদেশটা জানানো হলে, আমরা সব ঠিক করে আবার সাবমিট করেছি। আমরা সব ধরনের প্রসেস মেইনটেইন করেই আয়কর ও ভ্যাট দিয়েছি।’

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) রাকিবুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা তাদের চিঠি পাঠিয়েছি। এখনও তারা ওই টাকা পরিশোধ করেনি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত