জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সাপাহারে জমি নিয়ে বিরোধে চালককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ

সাপাহারে শহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি। সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর সাপাহারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোরের দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মামলার পর আজ দুপুর আড়াইটার দিকে এজাহার নামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সাপাহার থানা-পুলিশ। বেলা সাড়ে চারটা দিকে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনারুল ইসলাম।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় শহিদুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ সাপাহার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা। নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার গোয়ালা খরিবোন গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোয়ালা মাসনাতলা গ্রামের মো. মতিবুর ইসলাম (৫৫) ও তাঁর ছেলে আল মামুন (২০), একই গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম (৭০) এবং খরিবনা গ্রামের আব্দুর রায়হান (২০) ও মো. শফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় লোকজন জানায়, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শহিদুলের পরিবারের সঙ্গে মতিবুর ইসলামের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহিদুল তাঁর ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় রাস্তায় বাঁশ ফেলে তাঁর গতিরোধ করে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাঁকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

পরে শহিদুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সেখানে তাঁকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে শহিদুলের ওপর হামলার পর ওই রাতে তাঁর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর মা ও দুই পুত্রবধূকে মারধর করে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

সাপাহার থানার ওসি আনারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এজাহার নামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারে করে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সম্পর্কিত