leadT1ad

হাদি হত্যাকাণ্ড: ফয়সালের ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ডিএমপি

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪৪
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদের দুটি ভিডিও বার্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার-ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের দুটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য কেউ কেউ ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করছেন।

আজকের অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘হাদির বিষয়ে যে প্রশ্ন করা হয়েছে, নো-কমেন্ট। ভিডিওটা আমরা পেয়েছি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে বলবো।’

ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার হিসেবে যতই চেষ্টা করি আপনাদের বন্ধু বানানোর, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা আমাকে ছাড় দিয়েন না। আমার সহকর্মীদেরও যে আপনারা ছাড় দেন না, সেটা আমার জানা। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে যাতে আপনাদের একটা সেতুবন্ধন থাকে। আপনারা পুলিশের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু অনুরোধ থাকবে, সেক্ষেত্রে যেন কোনো বাড়াবাড়ি বা ত্রুটির কারণে আমার সহকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে পুলিশের ব্যাপক রদ-বদল লটারির মাধ্যমে হয়েছে। ডিএমপি একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এখানে ভোলার তমিজউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জকে নিয়ে এসে গুলশানের ওসি করলে, সে পারে না। সে তখন বিল্ডিংয়ের তালা গোণে। মেয়েটা মোজা পরেছে, নাকি তার চামড়াই এমন; সেটা দেখে। এমন অবস্থার মধ্যে মফস্বল থেকে একজন অফিসার নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি বানিয়ে দিলে তার মাথা ঘুরবে। বলবে- এ কোথায় এলাম!’

মফস্বল থেকে কর্মকর্তাদের বদলি করে রাজধানীতে আনলে সবার অসুবিধা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও ঢাকার ওসি যারা ছিলেন, কিছু বাদ দিয়ে তাদের মধ্যেই লটারি করে রদবদল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, সবুজবাগ থানায় ওসি ওই এলাকার কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি দিয়ে মোহাম্মদপুর থানা চলে না। এর মধ্যেও আমার অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছে।’

নির্বাচনের আগে আগামী ৪০ দিন আইনশৃঙ্খলা এবং অন্য বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে জাতীয় নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২১ বা ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তখনই সবচেয়ে বড় জটিলতা হওয়ার কথা। একপক্ষ আরেক পক্ষে দোষারোপ, এটা-সেটা অভিযোগ আসবে। আপনারাও খেয়াল রাখবেন, আমরা নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। নির্বাচনই এখন আমাদের মুখ্য বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়ে ঢাকা মহানগরী আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণেই আছে। ছিনতাই খুব কম। অপরাধ কম। তো আগামীতে যাতে এটা আমরা ধরে রাখতে পারি, সেই সেজন্য সবাই দোয়া করবেন।’

নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে আমরা প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিছি, অনেকেই চাচ্ছে। আমাদের রিসোর্স সক্ষমতার দিকেও তাকাতে হচ্ছে। হুমকি বিবেচনা করে তখন এসবি অথবা গানম্যান দিচ্ছি। তবে বেশ কয়েকজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতেও যদি কেউ ক্যান্ডিডেট বা ওরকম কোনো ব্যক্তি যদি জীবনের নিরাপত্তা বা ঝুঁকির কথা আমাদের বলে আমরা যাচাই করে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত