স্ট্রিম প্রতিবেদক

২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ নয়জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি জানান, সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছসহ মামলার সব আসামি আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দেন। এই মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার একমাত্র আসামি হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—মুহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাঁদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া খালাসপ্রাপ্ত অপরজন আব্দুস সালাম মৃত্যুবরণ করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৩০২ ধারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন।’
আদালত চত্বরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অন্যায়ভাবে এই মামলায় আমাদের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কারাবরণ করেছি, আজ আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। আমরা মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।’
সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘আজকের গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আদালত স্বাধীনভাবে সত্যের ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন। আজ আমরা বেকসুর খালাস পেয়েছি। এই মামলায় প্রায় সাড়ে ২৬ মাস আমি এবং আরিফ ভাই বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব রাজনৈতিক কারণে যারা মানুষকে ক্ষতি করে, তারা যেন নিবৃত্ত হয়। যেমন নেতা ইলিয়াস আলী আজ আমাদের মধ্যে নেই, তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। শুধু রাজনৈতিক কারণে ইলিয়াস আলীকে আমাদের মধ্য থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের মতো আর কেউ যেন এমন কষ্ট না পান। অন্যান্য আরও যেসব মিথ্যা মামলা রয়েছে, আমরা যেন সেগুলোতেও ন্যায়বিচার পাই।’
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা জানেন, আমাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আটক করা হয়েছিল, যাতে আমাদের তৎকালীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নামে মিথ্যা সাক্ষ্য দিই। আমি মিথ্যা সাক্ষ্য দিইনি। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাঁদের কথামতো কাজ না করলে আমাকে সব গ্রেনেড মামলায় জড়িত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাকে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আসামি করা হয়েছে। সিলেটের এই ঘটনার সঙ্গে আমি, গউছ বা আরিফ ভাই কেউ জড়িত ছিলাম না। আজ আল্লাহর বিচার হয়েছে। আজ দেখেন শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ নয়জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি জানান, সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছসহ মামলার সব আসামি আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দেন। এই মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার একমাত্র আসামি হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—মুহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাঁদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া খালাসপ্রাপ্ত অপরজন আব্দুস সালাম মৃত্যুবরণ করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সাঈদ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৩০২ ধারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন।’
আদালত চত্বরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অন্যায়ভাবে এই মামলায় আমাদের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কারাবরণ করেছি, আজ আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। আমরা মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।’
সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘আজকের গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আদালত স্বাধীনভাবে সত্যের ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন। আজ আমরা বেকসুর খালাস পেয়েছি। এই মামলায় প্রায় সাড়ে ২৬ মাস আমি এবং আরিফ ভাই বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব রাজনৈতিক কারণে যারা মানুষকে ক্ষতি করে, তারা যেন নিবৃত্ত হয়। যেমন নেতা ইলিয়াস আলী আজ আমাদের মধ্যে নেই, তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। শুধু রাজনৈতিক কারণে ইলিয়াস আলীকে আমাদের মধ্য থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের মতো আর কেউ যেন এমন কষ্ট না পান। অন্যান্য আরও যেসব মিথ্যা মামলা রয়েছে, আমরা যেন সেগুলোতেও ন্যায়বিচার পাই।’
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা জানেন, আমাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আটক করা হয়েছিল, যাতে আমাদের তৎকালীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নামে মিথ্যা সাক্ষ্য দিই। আমি মিথ্যা সাক্ষ্য দিইনি। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাঁদের কথামতো কাজ না করলে আমাকে সব গ্রেনেড মামলায় জড়িত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাকে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আসামি করা হয়েছে। সিলেটের এই ঘটনার সঙ্গে আমি, গউছ বা আরিফ ভাই কেউ জড়িত ছিলাম না। আজ আল্লাহর বিচার হয়েছে। আজ দেখেন শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
.png)

এবারের বাজেট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীয় দলীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন।
৪১ মিনিট আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এই বৈঠক হয়।
৪২ মিনিট আগে
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ সেমিনার। এ সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি আরও জোরদার করতে ‘ই-পার্টিসিপেশন র্যাঙ্কিং’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
১ ঘণ্টা আগে