আবদুল্লাহ কাফি

বেলা ১১টা। সড়কে গাড়ির চাপ বেশ কম। তবুও সিগন্যাল মেনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তিনটি পথের গাড়ি দাঁড়িয়ে; চলছে শুধু একটিতে। লাল বাতি জ্বলতেই থেমে গেল সেই সড়কের চলাচলও। ততক্ষণে চলতে শুরু করেছে অন্য সড়কের গাড়ি।
মাস দেড়েক আগেও রাজধানীর সড়কে এটি ছিল অচিন্তনীয়। সড়কে শৃঙ্খলা রাখতে ওই সময় ছুটতেন ট্রাফিক পুলিশরা। হাতে থাকত ব্যাটন বা লাঠি হাতে। তবে কোনো কিছুতেই নিয়ম মানানো যেত না চালকদের। সেই মোড়গুলোতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর বদলে গেছে চিত্র।
এখন আর ট্রাফিক পুলিশদের গলদঘর্ম হতে হয় না। মামলার ভয়ে জেব্রা ক্রসিংসের আগেই থেমে যায় গাড়ি। সামনে পুলিশ না থাকলেও ব্যত্যয় হয় না। কারণ একটাই, মানুষের চোখে ধরা না পড়লেও ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই। এতে নিয়ম ভাঙলেই ঘরে পৌঁছে যাবে মামলার কাগজ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কারওয়ান বাজার সিগন্যালে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ মো. শামসুজ্জামন স্ট্রিমকে বলেন, আগে সিগন্যাল দেওয়ার পরও চালকরা মানতেন না। এমনকি কেউ কেউ শরীরেও ধাক্কা দিত। অনেকে আসতো উল্টো রাস্তায়। তবে, এখন এসব অনেকটাই কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন আর গাড়ি থামানোর জন্য হাত দেখাতে হয় না। চালকরা সিগন্যাল দেখেই দাঁড়িয়ে যান।
ঢাকায় স্থাপন করা এআই ক্যামেরাগুলোতে সংযোজন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার। এতে কোনো যান ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই শনাক্ত করে ক্যামেরা। পরে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে দেওয়া হয় মামলা।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড় বা ক্রসিংয়ে গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এই ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এর কয়দিন পরই শুরু হয় মামলা দেওয়া।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের তথ্যমতে, কার্যক্রম শুরুর পর ডিএমপির সার্ভারে সড়কে নিয়ম ভাঙার ২০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা পড়েছে। গত ৩৯ দিনে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ৭৬৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ-মহাখালী রোডের নিয়মিত যাত্রী সাহাবুদ্দিন মোল্লা স্ট্রিমকে বলেন, এই সড়কে আগে যে পরিমাণ বিশৃঙ্খলা হতো, এখন অনেকটাই কমে গেছে। মামলার ভয়েই চালকরা রাস্তায় আর ভুল করেন না।
এআই ক্যামেরার সফটওয়্যার এখন উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য, লেন বন্ধ করে রাখা, অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। রাজধানীতে ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ যত্রতত্র পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানো-নামানো এখনও এর আওতায় আসেনি।
তবে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনও যেন যেখান-সেখানে দাঁড়াতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাঁরা।
ডিএমপি ট্রাফিকের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘যেখানে সেখানে যাত্রী উঠা নামা বন্ধ করতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এআই ক্যামেরাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর থেকে কোনো গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করলে বা যাত্রী উঠা নামা করল ক্যামেরা সেই গাড়িকে শনাক্ত করবে। পরে মামলা দেওয়া হবে।’
মামলার ভয়ে গাড়ির চালকরা সোজা হলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি রাজধানীতে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পথচারীরাও নিয়ম মানছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও কার্যকর হয়নি। লাইসেন্স প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরাও এসব যান শনাক্ত করতে পারে না। এতে অটোরিকশার অনেক চালক উল্টো রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি প্রায়শ ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙছেন।
এ ছাড়া পথচারীরা আগের মতোই যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন। পদচারী সেতু বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করছেন না অনেকে। কেউ কেউ গাড়ি চলাচলরত অবস্থায়ই সড়ক পার হতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধাচ্ছেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ রফিক স্ট্রিমকে বলেন, যেসব গাড়ির নম্বর প্লেট আছে, সেগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই এখন নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু অটোরিকশাগুলো আগের মতোই আছে। যেসব রাস্তায় এআই ক্যামেরা আছে, সেগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নেই, তবুও তারা আসে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অটোরিকশারই নিবন্ধন নেই। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়লেও মামলা দেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘যেসব রাস্তায় এআই সিস্টেম আছে সেখানে রিকশা চলাচল বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেউ নিয়ম ভাঙলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে পরের সিগন্যালের ট্রাফিক পুলিশকে মেসেজ পাঠানো যায়। এতে চালকদের মনে ভয় থাকবে, এক সিগন্যাল পার হলেও পরের সিগন্যালে ধরা পড়তে হবে।’
রাজধানীর সড়কের এআইভিত্তিক ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ ব্যবহার করছে পুলিশ। আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে পারে এই ক্যামেরা। ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির ক্যামেরাটি জনসমাগমস্থল পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। এসব ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ভিডিও-ছবিধারণ করাসহ চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণও করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো অনেক দূর থেকেও গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এআই ক্যামেরার সফটওয়্যারে প্রাথমিকভাবে ৬ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো অমান্য করলে গাড়ির নম্বর প্লেটসহ ছবি-ভিডিও তুলে ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা পড়ে।
তারা আরও জানান, এই সফটওয়্যারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে মালিকের তথ্যও পাওয়া যায়। পরে তথ্য বিশ্লেষণ করে মালিকের নামে মামলা দেওয়া হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে রাজধানীর ৩০টি মোড়ে ১১০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশই বসানো হয়েছে শাহবাগ থেকে উত্তরা সড়কে। এর মধ্যে রয়েছে– হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মৎস ভবন, গুলশান ১ ও ২ নম্বর মোড়।
মো. নাঈম নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘আগে কারওয়ান বাজার-ফার্মগেট এলাকায় ঢুকতে ভয় পেতাম। এই রাস্তায় জ্যামের কোনো হিসাব ছিল না। যখন তখন সিগন্যালে পড়তে হতো। কিন্তু এখন নিয়মতান্ত্রিক যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা। সারা ঢাকাতেই এই ব্যবস্থা করা গেলে সড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’
ডিএমপির ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীই এআই ক্যামেরার আওতায় আসবে। ডিএমপির সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ইতোমধ্যে ১১০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাকি মোড়গুলোকে ক্যামেরার আওতায় আনতে আরও ৫০০টি স্থাপন করা হবে।
সড়ক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করাকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বুয়েট শিক্ষক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, আগে সিগন্যাল অমান্য করে কেউ চলে গেলে তাকে ধরার সুযোগ ছিল না। কিন্তু এখন একটা বার্তা গেছে, পুলিশ না থাকলেও ক্যামেরায় সিগন্যাল অমান্য ঠিকই ধরা পড়বে এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এতে মানুষ এখন নিয়ম মেনে চলছে।
সাইফুন নেওয়াজ আরও বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রচুর তথ্য আসছে। এটি শুধু জরিমানার জন্য নয়, বরং সড়কের সক্ষমতা ও চাহিদা বোঝার জন্যও ব্যবহার করা যায়।
তথ্যের সুরক্ষার কথাও বলেন এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন অননুমোদিতভাবে ডাটা ব্যবহার করতে না পারে। আর মানুষ যাতে ভুয়া মেসেজ পেয়ে প্রতারিত না হয়, সেজন্য পুলিশের ওয়েবসাইট থেকে জরিমানা চেক করার সুবিধা থাকা প্রয়োজন।

বেলা ১১টা। সড়কে গাড়ির চাপ বেশ কম। তবুও সিগন্যাল মেনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তিনটি পথের গাড়ি দাঁড়িয়ে; চলছে শুধু একটিতে। লাল বাতি জ্বলতেই থেমে গেল সেই সড়কের চলাচলও। ততক্ষণে চলতে শুরু করেছে অন্য সড়কের গাড়ি।
মাস দেড়েক আগেও রাজধানীর সড়কে এটি ছিল অচিন্তনীয়। সড়কে শৃঙ্খলা রাখতে ওই সময় ছুটতেন ট্রাফিক পুলিশরা। হাতে থাকত ব্যাটন বা লাঠি হাতে। তবে কোনো কিছুতেই নিয়ম মানানো যেত না চালকদের। সেই মোড়গুলোতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর বদলে গেছে চিত্র।
এখন আর ট্রাফিক পুলিশদের গলদঘর্ম হতে হয় না। মামলার ভয়ে জেব্রা ক্রসিংসের আগেই থেমে যায় গাড়ি। সামনে পুলিশ না থাকলেও ব্যত্যয় হয় না। কারণ একটাই, মানুষের চোখে ধরা না পড়লেও ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই। এতে নিয়ম ভাঙলেই ঘরে পৌঁছে যাবে মামলার কাগজ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কারওয়ান বাজার সিগন্যালে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ মো. শামসুজ্জামন স্ট্রিমকে বলেন, আগে সিগন্যাল দেওয়ার পরও চালকরা মানতেন না। এমনকি কেউ কেউ শরীরেও ধাক্কা দিত। অনেকে আসতো উল্টো রাস্তায়। তবে, এখন এসব অনেকটাই কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন আর গাড়ি থামানোর জন্য হাত দেখাতে হয় না। চালকরা সিগন্যাল দেখেই দাঁড়িয়ে যান।
ঢাকায় স্থাপন করা এআই ক্যামেরাগুলোতে সংযোজন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার। এতে কোনো যান ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই শনাক্ত করে ক্যামেরা। পরে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে দেওয়া হয় মামলা।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড় বা ক্রসিংয়ে গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এই ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এর কয়দিন পরই শুরু হয় মামলা দেওয়া।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের তথ্যমতে, কার্যক্রম শুরুর পর ডিএমপির সার্ভারে সড়কে নিয়ম ভাঙার ২০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা পড়েছে। গত ৩৯ দিনে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ৭৬৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ-মহাখালী রোডের নিয়মিত যাত্রী সাহাবুদ্দিন মোল্লা স্ট্রিমকে বলেন, এই সড়কে আগে যে পরিমাণ বিশৃঙ্খলা হতো, এখন অনেকটাই কমে গেছে। মামলার ভয়েই চালকরা রাস্তায় আর ভুল করেন না।
এআই ক্যামেরার সফটওয়্যার এখন উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য, লেন বন্ধ করে রাখা, অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। রাজধানীতে ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ যত্রতত্র পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানো-নামানো এখনও এর আওতায় আসেনি।
তবে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনও যেন যেখান-সেখানে দাঁড়াতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাঁরা।
ডিএমপি ট্রাফিকের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘যেখানে সেখানে যাত্রী উঠা নামা বন্ধ করতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এআই ক্যামেরাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর থেকে কোনো গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করলে বা যাত্রী উঠা নামা করল ক্যামেরা সেই গাড়িকে শনাক্ত করবে। পরে মামলা দেওয়া হবে।’
মামলার ভয়ে গাড়ির চালকরা সোজা হলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি রাজধানীতে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পথচারীরাও নিয়ম মানছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও কার্যকর হয়নি। লাইসেন্স প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরাও এসব যান শনাক্ত করতে পারে না। এতে অটোরিকশার অনেক চালক উল্টো রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি প্রায়শ ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙছেন।
এ ছাড়া পথচারীরা আগের মতোই যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন। পদচারী সেতু বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করছেন না অনেকে। কেউ কেউ গাড়ি চলাচলরত অবস্থায়ই সড়ক পার হতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধাচ্ছেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ রফিক স্ট্রিমকে বলেন, যেসব গাড়ির নম্বর প্লেট আছে, সেগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই এখন নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু অটোরিকশাগুলো আগের মতোই আছে। যেসব রাস্তায় এআই ক্যামেরা আছে, সেগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নেই, তবুও তারা আসে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অটোরিকশারই নিবন্ধন নেই। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়লেও মামলা দেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘যেসব রাস্তায় এআই সিস্টেম আছে সেখানে রিকশা চলাচল বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেউ নিয়ম ভাঙলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে পরের সিগন্যালের ট্রাফিক পুলিশকে মেসেজ পাঠানো যায়। এতে চালকদের মনে ভয় থাকবে, এক সিগন্যাল পার হলেও পরের সিগন্যালে ধরা পড়তে হবে।’
রাজধানীর সড়কের এআইভিত্তিক ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ ব্যবহার করছে পুলিশ। আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে পারে এই ক্যামেরা। ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির ক্যামেরাটি জনসমাগমস্থল পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। এসব ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ভিডিও-ছবিধারণ করাসহ চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণও করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো অনেক দূর থেকেও গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এআই ক্যামেরার সফটওয়্যারে প্রাথমিকভাবে ৬ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো অমান্য করলে গাড়ির নম্বর প্লেটসহ ছবি-ভিডিও তুলে ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা পড়ে।
তারা আরও জানান, এই সফটওয়্যারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে মালিকের তথ্যও পাওয়া যায়। পরে তথ্য বিশ্লেষণ করে মালিকের নামে মামলা দেওয়া হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে রাজধানীর ৩০টি মোড়ে ১১০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশই বসানো হয়েছে শাহবাগ থেকে উত্তরা সড়কে। এর মধ্যে রয়েছে– হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মৎস ভবন, গুলশান ১ ও ২ নম্বর মোড়।
মো. নাঈম নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘আগে কারওয়ান বাজার-ফার্মগেট এলাকায় ঢুকতে ভয় পেতাম। এই রাস্তায় জ্যামের কোনো হিসাব ছিল না। যখন তখন সিগন্যালে পড়তে হতো। কিন্তু এখন নিয়মতান্ত্রিক যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা। সারা ঢাকাতেই এই ব্যবস্থা করা গেলে সড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’
ডিএমপির ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীই এআই ক্যামেরার আওতায় আসবে। ডিএমপির সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ইতোমধ্যে ১১০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাকি মোড়গুলোকে ক্যামেরার আওতায় আনতে আরও ৫০০টি স্থাপন করা হবে।
সড়ক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করাকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বুয়েট শিক্ষক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, আগে সিগন্যাল অমান্য করে কেউ চলে গেলে তাকে ধরার সুযোগ ছিল না। কিন্তু এখন একটা বার্তা গেছে, পুলিশ না থাকলেও ক্যামেরায় সিগন্যাল অমান্য ঠিকই ধরা পড়বে এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এতে মানুষ এখন নিয়ম মেনে চলছে।
সাইফুন নেওয়াজ আরও বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রচুর তথ্য আসছে। এটি শুধু জরিমানার জন্য নয়, বরং সড়কের সক্ষমতা ও চাহিদা বোঝার জন্যও ব্যবহার করা যায়।
তথ্যের সুরক্ষার কথাও বলেন এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন অননুমোদিতভাবে ডাটা ব্যবহার করতে না পারে। আর মানুষ যাতে ভুয়া মেসেজ পেয়ে প্রতারিত না হয়, সেজন্য পুলিশের ওয়েবসাইট থেকে জরিমানা চেক করার সুবিধা থাকা প্রয়োজন।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে পাঠাতে পরিচয় নিশ্চিতকরণ, মামলার বিস্তারিতসহ বিভিন্ন নথি চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিগুলো কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।
২০ মিনিট আগে
আজ ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে সংবাদপত্রের কালো দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার তাদের অনুগত ৪টি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়ে।
৩ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের আড়াই ঘণ্টা পর কংস নদে মরদেহ পাওয়া শিশুটি (৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। চার যুবক ধর্ষণের পর নিস্তেজ অবস্থায় শিশুটিকে নদে ফেলে দেয়।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে সালিস বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে শ্রমিক দলের নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
১৫ ঘণ্টা আগে