লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ২২: ৫১
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তাঁর তিন মেয়ে। সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে একজনকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয়রা বাসায় ঢুকে মেঝেতে চারজনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযুক্ত অন্তর ওই বাসার ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁকে পিটুনি দেয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া ছিলেন এবং আট মাস আগে চলে যান। বাসা ভাড়ার টাকা শাহিনুরের কাছে জমা থাকে এবং তাঁর কিছু স্বর্ণালংকার ছিল—এটি জানতেন অন্তর। ডাকাতির উদ্দেশ্যেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ধারণা।

নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, ‘আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।’

বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ‘টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে এই হামলা হতে পারে। বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিত। বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনো আসতে দেখিনি।’

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘একজনের পক্ষে চারজনকে খুন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। খুনের সঙ্গে আর কেউ আছে কি না, তা তদন্ত শেষে প্রশাসন জানাবে বলে আশা করছি।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Ad 300x250

সম্পর্কিত