প্রাথমিকে ড্রেস-ব্যাগ-মিড ডে মিল, সুবিধার বাইরে ইবতেদায়ি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ছবি: বাসস

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতি বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার। তবে এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে সমমানের ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা—এমন ধারণা সামনে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত সেপ্টেম্বরে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই খাবার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং মনোযোগ ধরে রাখার লক্ষ্যে খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট।

এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস এবং জুতা-মোজা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে দেশের প্রত্যেক উপজেলার নির্বাচিত দুটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক লাখ শিক্ষার্থীকে জুতা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ৪ হাজার ৪২৫টি। এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার। শিক্ষক আছেন প্রায় দুই হাজার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থাকছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আটটি বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি শুরুর পর ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরে অন্তর্ভুক্ত করার এই নীতি দীর্ঘদিনের অবহেলারই ধারাবাহিকতা মাত্র। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, খাবার ও পোশাক দেওয়া হলেও সমমানের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো ধুঁকছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও কম সুযোগসুবিধা পাচ্ছে। ইবতেদায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা মিড ডে মিল ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। আরও নানা সুযোগসুবিধা যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু একই দেশের শিশু হয়েও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা পাচ্ছে না। সরকারের উচিত হবে এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দেওয়া এবং এসব সুবিধার আওতায় আনা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণও করা উচিত।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ডিজিটাল মনিটরিং এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল বাজেট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত না থাকায় এই আধুনিকায়নের ছোঁয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কম।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি দেলওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া এসব সুযোগ-সুবিধা যদি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া না হয়, আগামী দিনে ইবতেদায়িতে শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক অনুষ্ঠানে বলেন, মাদ্রাসায় বৈষম্যের প্রসঙ্গে এসেছে, আমরা ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় আনতে চাই। তবে সেটি এখনই হচ্ছে না। কিন্তু এই চিন্তা আমাদের আছে, অর্থাৎ সামনে হবে। তখন এই অভিযোগ আর থাকবে না।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত