শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের আবেদন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে ও ভাতিজাসহ পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে শামীম ওসমান নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই আবেদন উপস্থাপন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) মামলা থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদনের জন্য সময় প্রার্থনা করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, ছাত্র-জনতাকে হত্যার পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে শামীম ওসমান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে গুলি করেছেন। আদালতে প্রমাণ হিসেবে শামীম ওসমানের একটি অডিও ক্লিপও শোনানো হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পূর্বানুমতি নিয়ে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীসহ নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলেন শামীম ওসমান। এ মামলার প্রধান আসামি তিনি এবং অন্য আসামিদের মধ্যে তাঁর ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

অভিযোগ প্রমাণের জন্য ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, অডিও, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালিলিক নথিপত্র এবং ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর তালিকা দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় মোট ১০ জনকে হত্যার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় আদিল, ইয়াসিন, পারভেজ, রাসেল ও ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই ভূঁইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার বর্ণনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ গত ১৯ জানুয়ারি মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছিল। আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

সম্পর্কিত