leadT1ad

পাহাড়ে বাড়ছে আম চাষ, বাজারজাতকরণ ও দামে ধরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙামাটি

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১০: ০৩
রাঙামাটির বনরূপা সমতাঘাটে পাহাড়ি বন থেকে আনা আম। স্ট্রিম ছবি

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বাড়ছে আম বাগান। বাণিজ্যিকভাবে আম্রপালি, বারি-৪, রাংগুইসহ বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হলেও পরিবহন, বাজারজাতকরণে সমস্যা এবং দাম কম থাকায় আশানুরূপ লাভের দেখা পাচ্ছেন না বাগানিরা।

বাগানমালিক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাঙামাটির বেশির ভাগ আম বাগান কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক। ওই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় আম বাজারজাতের পাশাপাশি উৎপাদনে বেশি খরচ হয়। তবে দাম সেইভাবে মিলে না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, দাম কিছুটা কম পেলেও লাভ থাকবে।

রাঙামাটি কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন। গত মৌসুমে ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে ৩৮ হাজার ২৮৫ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

জেলার বনরূপা সমতাঘাট এলাকায় সাপ্তাহিক হাটে এখন বেশি আসছে রাংগুই ও আম্রপালি আম। এখানে রাংগুই আমের ক্রেট (১৫-২০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ এবং আম্রপালি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থেকে এই হাটে আসা আমের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সাগর ও জালাল হোসেন জানান, তিন বছর ধরে তারা রাঙামাটি থেকে পাইকারিতে আম কিনে নোয়াখালী অঞ্চলে বিক্রি করছেন। চলতি বছরে রাঙামাটি থেকে ৩০ মণ আম কিনেছেন। তাঁরা বলেন, সরকার বাগানিদের বালাইনাশক ব্যবহারে ভর্তুকি দিলে পরিচর্যা খরচ কমত।

বাগান মালিকদের মতে, ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। পরিবহন ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় অধিকাংশ চাষি অনেকটা বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে আগেই বাগান বিক্রি করে দেন। এতে বাজারে দাম বাড়লেও তারা তা পান না।

রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে প্রায় এক দশক ধরে আম চাষ করছেন সুমেত চাকমা। মগবান ইউনিয়নে ৫০-৬০ একর জমিজুড়ে আমসহ অন্যান্য ফলের বাগান রয়েছে তার। চলতি বছর আমের ফলন ভালো হলেও দাম কম বলছেন এই বাগানি।

সুমেত চাকমা বলেন, আমার মোট ৫০-৬০ একর জায়গাজুড়ে আমের বাগান রয়েছে। বাগানে রাংগুই ও রুপালি জাতের আম গাছ রয়েছে, তবে রাংগুই বেশি। চলতি মৌসুমে বাগান বিক্রি করে ১০ লাখ টাকার মতো পাব।

এত বড় বাগান হিসেবে দাম কম কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আম বাজারে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাগান বিক্রি করে দেন। এ কারণে দাম বেশি পান না।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, এবার ফলন ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা কম থাকলেও তাই সামগ্রিকভাবে চাষিরা লাভবান হবেন।

পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, ছত্রাক প্রতিরোধ ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙামাটি কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখানে কিছু জাতের আমে পোকা হয়। আবার বাজারজাতকরণে কিছুটা অসুবিধার কারণে খরচ বেশি পড়ে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে আমে পোকামাকড় ও ছত্রাক আক্রমণ হয় না। কিন্তু এটিও ব্যয়বহুল। সবমিলিয়ে চাষিদের লাভের অঙ্কে টান পড়ে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত