মানহানিকর কনটেন্ট অপসারণে বিধান আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত ছবি

অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে তা আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে সাইবার স্পেসের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ চলছে।
এ লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রিপোর্ট করা কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়াকে আরো জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকেও তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ব্লক বা হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত