দুই শিশুসন্তানকে হাওরে ফেলে নিখোঁজের নাটক বাবার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২১: ২২
ছেলে-মেয়েকে হত্যার পর নিখোঁজ বলে প্রচার করেন কামরুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে হাওরের পানিতে ফেলে দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাবার বিরুদ্ধে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ওই বাবা কামরুল হাসানকে (৩২) আটক করে পুলিশ। পরে কামরুল নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, সন্তানদের তিনিই হত্যা করেছেন।

কামরুল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর তথ্যে হাওর থেকে ছেলে মুহাদ্দিস (৭) ও মেয়ে তুলনা আক্তারের (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সন্তানদের দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে বউ-শাশুড়ির বিভেদ-ঝগড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে কামরুল সন্তানদের হাওরে ফেলে হত্যা করে নিখোঁজের নাটক সাজান।

স্থানীয়রা জানান, কামরুলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকায় ফেরি করে জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদরের দেখার হাওরের গোবিন্দপুর এলাকায় মুহাদ্দিসের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে একই হাওরের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকায় হাওর থেকে তুলনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ জানান, দুই শিশুর লাশ সদর থানায় আছে। লাশ দুটির ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে দিরাই থানার পুলিশ পেরুয়া গ্রামে গিয়ে কামরুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। এ সময় তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তিনি পুলিশের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।

কামরুলের বরাত দিয়ে দিরাই থানা পুলিশ জানায়, তাঁর চার সন্তান। সন্তানেরা বাড়িতে দুষ্টুমি করলে মা আফরোজা বেগম মারধর করেন। এ নিয়ে কামরুলের মা ফুলজান বিবির সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হয় আফরোজার। গত শুক্রবার সকালে বাচ্চাদের দুষ্টুমি ও মারধরের ঘটনা নিয়ে বউ-শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া হয়। কামরুল জুমার নামাজ শেষে বাড়িতে আসার পর ফুলজান জানান আফরোজা তাঁকে মারধর করেছেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় তাঁর। এরপর কামরুল আফরোজাকে ভাত দিতে বললে তিনি গালাগাল করেন। এতে কামরুল চরম ক্ষুব্ধ হন। এরপর বিকেলে কাউকে না জানিয়ে মুহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দিরাই শহরে এসে সেখান থেকে চলে যান সিলেটে।

পুলিশ আরও জানায়, সিলেটে দুদিন থেকে গত রোববার সন্তানদের নিয়ে সুনামগঞ্জে আসার পথে গাড়িতে তাদের ঘুমের ওষুধ খাওয়ান কামরুল। সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার বরকাপন এলাকায় এসে গাড়ি থকে নেমে প্রথমে তুলনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরে ফেলে দেন। এরপর সেখান থেকে মুহাদ্দিসকে নিয়ে আসেন সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায়। এখানে হাওরে ফেলে দেন মুহাদ্দিসকে। রাতে বাড়িতে গিয়ে কামরুল এলাকার প্রচার করেন তাঁর দুই সন্তানকে পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় জিডিও করেন তিনি। স্থানীয় লোকজন তখন দুই শিশুর সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে প্রচার করেন।

দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, বাবা দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন খবর পাই আমরা। বুধবার মধুপুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানদের হত্যা করার কথা স্বীকার করেন কামরুল। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত