এক্সপ্লেইনার
মাহজাবিন নাফিসা

সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলামের সঙ্গে। তবে এ সফরের কথা বাংলাদেশ কিংবা ভারত কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্প্রতি তাঁর ভারত থেকে দেওয়া সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ঢাকার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এই সফর অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হলেও, প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একে বর্ণনা করেছেন নিছক ‘স্বাভাবিক যোগাযোগ’ হিসেবে।
পরাগ জৈনের এই সংক্ষিপ্ত সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনপরিসরে আলোচনা হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ নিয়ে।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হলো সরকার, সংসদ, সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ। কিন্তু রাষ্ট্রের এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের কাজের বড় অংশই সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম গোয়েন্দা সংস্থা।
সিনেমায় দেখা গুপ্তচরের সঙ্গে বাস্তব গোয়েন্দা সংস্থার অবশ্য খুব বেশি মিল নেই। গোয়েন্দা কাজের বড় অংশ আসলে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, বিশ্লেষণ এবং সেই তথ্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোথাও মানুষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, কোথাও যোগাযোগ বা প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, আবার কোথাও বিদেশি রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
যেকোনা রাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রকাশ্য সূত্র থেকে সহজে পাওয়া যায় না এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, কোনো প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে। শুধু স্যাটেলাইট ছবি দেখলেই পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। কেন সেনা বাড়ানো হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ভাবছে, সামরিক বাহিনীর পরবর্তী পরিকল্পনা কী—এসব জানতে মানুষের কাছ থেকেও তথ্য দরকার হতে পারে। আবার কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন কোথায় হামলার পরিকল্পনা করছে, সেটি জানতে যোগাযোগের তথ্য, আর্থিক লেনদেন কিংবা অনলাইন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হতে পারে।
এই কাজগুলোকে মোটামুটি মানবসূত্রভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য এবং প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণের মতো কয়েকটি ভাগে দেখা যায়। তবে সব গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা ও দায়িত্ব এক নয়। কোনোটি মূলত বিদেশে কাজ করে, কোনোটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দেখে, আবার কোনো সংস্থার সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের ভূমিকাই রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি হলো যুক্তরাজ্যের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এমআই৬। এর যাত্রা শুরু ১৯০৯ সালে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ইউরোপে জার্মান গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ব্রিটেনে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার দেশের ভেতরের নিরাপত্তা এবং বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজকে আলাদা কাঠামোয় সংগঠিত করে। সেই ব্যবস্থা থেকেই পরবর্তী সময়ে এমআই৫ ও এমআই৬-এর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
এমআই৬ মূলত যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। যুদ্ধের সময় শত্রুর সামরিক পরিকল্পনা বোঝা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ—বিভিন্ন পর্যায়ে এর কাজের ধরন বদলেছে।
জেমস বন্ডের কারণে এমআই৬ নামটি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু বাস্তব এমআই৬-এর কাজ সিনেমার মতো একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ বা বিস্ফোরণ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করাই গোয়েন্দা কাজের বড় অংশ।

কেজিবি: সোভিয়েত ইউনিয়নের ছায়া
কেজিবি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা। এর পূর্ণ নাম ছিল ‘কমিটি ফর স্টেট সিকিউরিটি’। ১৯৫৪ সালে কেজিবি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন পর্যন্ত এটি কার্যকর ছিল।
রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাষ্ট্র একের পর এক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পুনর্গঠন করেছে। চেকা থেকে শুরু করে এনকেভিডি—বিভিন্ন নামে সেই কাঠামো বদলেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালে কেজিবি নামে যে সংস্থাটি পরিচিত হয়, সেটিই সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রধান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।
কেজিবির বিশেষত্ব ছিল এর বহুমুখী দায়িত্ব। এটি শুধু বিদেশে গুপ্তচরবৃত্তি করত না; দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক বিরোধিতা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করত। অর্থাৎ আধুনিক অনেক দেশের আলাদা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ও পাল্টা-গোয়েন্দা ব্যবস্থার কিছু দায়িত্ব কেজিবির মধ্যেই কেন্দ্রীভূত ছিল।
কোল্ডওয়ারের সময় কেজিবি ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএর মধ্যে প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা লড়াইয়ে পরিণত হয়।

সিআইএ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে। এর পেছনে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস বা ওএসএস গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও গোপন অভিযান পরিচালনা করেছিল। যুদ্ধ শেষ হলে ওএসএস বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আরও বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১৯৪৭ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। আইনটি সিআইএ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
সিআইএর প্রধান কাজ বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, সিআইএর পুলিশ বা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নেই।

নতুন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চিন্তা থেকে ‘মোসাদ’
ইসরায়েলের মোসাদও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরের পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন বুঝতে পারেন, নতুন রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় সাজানো দরকার।
১৯৪৮ সালের ৩০ জুন আগের হাগানাহ গোয়েন্দা কাঠামো ‘শাই’ বিলুপ্ত করা হয়। এরপর ইসরায়েল ধীরে ধীরে তিন ধরনের গোয়েন্দা কাঠামো গড়ে তোলে—সামরিক গোয়েন্দা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা।
বিদেশি গোয়েন্দা কাঠামোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোসাদ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত আসে ১৯৪৯ সালে। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ বেন-গুরিয়ন রিউভেন শিলোয়াহর নেতৃত্বে এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
মোসাদের মূল কাজ বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা। ইসরায়েলের নিরাপত্তা-চিন্তায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র, সশস্ত্র সংগঠন এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
নতুন রাষ্ট্রটির সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় একটি বড় সমস্যা ছিল—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় যথেষ্ট ছিল না। ১৯৪৭ সালের যুদ্ধ সেই দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়। এর পরেই তিন বাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানের সমন্বয় বাড়াতে আইএসআই গঠন করা হয়।
আইএসআইয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ ওয়াল্টার জোসেফ কাওথর্নের নাম যুক্ত। পরে ব্রিগেডিয়ার শাহিদ হামিদ সংস্থাটিকে কার্যকর কাঠামো দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
শুরুতে আইএসআইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এর ভূমিকা অনেক বিস্তৃত হয়। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে আইএসআইয়ের প্রভাবও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়েও সংস্থাটির রাজনৈতিক প্রভাব এবং নজরদারির ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সরকার আইএসআইকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফোন ও বার্তা নজরদারির আইনি ক্ষমতা দেয়, যা দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

র: ১৯৬০-এর দশকের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা
ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে। এর জন্মের পেছনে ছিল ভারতের পরপর দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ।
এর আগে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি—দুই ধরনের গোয়েন্দা কাজই সামলাত। কিন্তু ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ভারতের গোয়েন্দা ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে যায়। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধও দেখিয়ে দেয় যে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের জন্য আলাদা ও বিশেষায়িত কাঠামো প্রয়োজন। ফলে ১৯৬৮ সালে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা সংস্থা হিসেবে র গঠিত হয়। এর প্রথম প্রধান ছিলেন রমেশ্বর নাথ কাও।
র মূলত ভারতের বাইরের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এর গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির ক্ষেত্র। সময়ের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, সন্ত্রাসবাদ, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয়ও এর কাজের আওতায় এসেছে।

সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলামের সঙ্গে। তবে এ সফরের কথা বাংলাদেশ কিংবা ভারত কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্প্রতি তাঁর ভারত থেকে দেওয়া সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ঢাকার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এই সফর অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হলেও, প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একে বর্ণনা করেছেন নিছক ‘স্বাভাবিক যোগাযোগ’ হিসেবে।
পরাগ জৈনের এই সংক্ষিপ্ত সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনপরিসরে আলোচনা হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ নিয়ে।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হলো সরকার, সংসদ, সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ। কিন্তু রাষ্ট্রের এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের কাজের বড় অংশই সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম গোয়েন্দা সংস্থা।
সিনেমায় দেখা গুপ্তচরের সঙ্গে বাস্তব গোয়েন্দা সংস্থার অবশ্য খুব বেশি মিল নেই। গোয়েন্দা কাজের বড় অংশ আসলে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, বিশ্লেষণ এবং সেই তথ্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোথাও মানুষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, কোথাও যোগাযোগ বা প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, আবার কোথাও বিদেশি রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
যেকোনা রাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রকাশ্য সূত্র থেকে সহজে পাওয়া যায় না এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, কোনো প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে। শুধু স্যাটেলাইট ছবি দেখলেই পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। কেন সেনা বাড়ানো হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ভাবছে, সামরিক বাহিনীর পরবর্তী পরিকল্পনা কী—এসব জানতে মানুষের কাছ থেকেও তথ্য দরকার হতে পারে। আবার কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন কোথায় হামলার পরিকল্পনা করছে, সেটি জানতে যোগাযোগের তথ্য, আর্থিক লেনদেন কিংবা অনলাইন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হতে পারে।
এই কাজগুলোকে মোটামুটি মানবসূত্রভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য এবং প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণের মতো কয়েকটি ভাগে দেখা যায়। তবে সব গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা ও দায়িত্ব এক নয়। কোনোটি মূলত বিদেশে কাজ করে, কোনোটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দেখে, আবার কোনো সংস্থার সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের ভূমিকাই রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি হলো যুক্তরাজ্যের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এমআই৬। এর যাত্রা শুরু ১৯০৯ সালে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ইউরোপে জার্মান গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ব্রিটেনে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার দেশের ভেতরের নিরাপত্তা এবং বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজকে আলাদা কাঠামোয় সংগঠিত করে। সেই ব্যবস্থা থেকেই পরবর্তী সময়ে এমআই৫ ও এমআই৬-এর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
এমআই৬ মূলত যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। যুদ্ধের সময় শত্রুর সামরিক পরিকল্পনা বোঝা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ—বিভিন্ন পর্যায়ে এর কাজের ধরন বদলেছে।
জেমস বন্ডের কারণে এমআই৬ নামটি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু বাস্তব এমআই৬-এর কাজ সিনেমার মতো একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ বা বিস্ফোরণ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করাই গোয়েন্দা কাজের বড় অংশ।

কেজিবি: সোভিয়েত ইউনিয়নের ছায়া
কেজিবি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা। এর পূর্ণ নাম ছিল ‘কমিটি ফর স্টেট সিকিউরিটি’। ১৯৫৪ সালে কেজিবি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন পর্যন্ত এটি কার্যকর ছিল।
রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাষ্ট্র একের পর এক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পুনর্গঠন করেছে। চেকা থেকে শুরু করে এনকেভিডি—বিভিন্ন নামে সেই কাঠামো বদলেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালে কেজিবি নামে যে সংস্থাটি পরিচিত হয়, সেটিই সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রধান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।
কেজিবির বিশেষত্ব ছিল এর বহুমুখী দায়িত্ব। এটি শুধু বিদেশে গুপ্তচরবৃত্তি করত না; দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক বিরোধিতা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করত। অর্থাৎ আধুনিক অনেক দেশের আলাদা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ও পাল্টা-গোয়েন্দা ব্যবস্থার কিছু দায়িত্ব কেজিবির মধ্যেই কেন্দ্রীভূত ছিল।
কোল্ডওয়ারের সময় কেজিবি ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএর মধ্যে প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা লড়াইয়ে পরিণত হয়।

সিআইএ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে। এর পেছনে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস বা ওএসএস গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও গোপন অভিযান পরিচালনা করেছিল। যুদ্ধ শেষ হলে ওএসএস বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আরও বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১৯৪৭ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। আইনটি সিআইএ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
সিআইএর প্রধান কাজ বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, সিআইএর পুলিশ বা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নেই।

নতুন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-চিন্তা থেকে ‘মোসাদ’
ইসরায়েলের মোসাদও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরের পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন বুঝতে পারেন, নতুন রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় সাজানো দরকার।
১৯৪৮ সালের ৩০ জুন আগের হাগানাহ গোয়েন্দা কাঠামো ‘শাই’ বিলুপ্ত করা হয়। এরপর ইসরায়েল ধীরে ধীরে তিন ধরনের গোয়েন্দা কাঠামো গড়ে তোলে—সামরিক গোয়েন্দা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা।
বিদেশি গোয়েন্দা কাঠামোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোসাদ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত আসে ১৯৪৯ সালে। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ বেন-গুরিয়ন রিউভেন শিলোয়াহর নেতৃত্বে এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
মোসাদের মূল কাজ বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা। ইসরায়েলের নিরাপত্তা-চিন্তায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র, সশস্ত্র সংগঠন এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
নতুন রাষ্ট্রটির সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় একটি বড় সমস্যা ছিল—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় যথেষ্ট ছিল না। ১৯৪৭ সালের যুদ্ধ সেই দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়। এর পরেই তিন বাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানের সমন্বয় বাড়াতে আইএসআই গঠন করা হয়।
আইএসআইয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ ওয়াল্টার জোসেফ কাওথর্নের নাম যুক্ত। পরে ব্রিগেডিয়ার শাহিদ হামিদ সংস্থাটিকে কার্যকর কাঠামো দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
শুরুতে আইএসআইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এর ভূমিকা অনেক বিস্তৃত হয়। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে আইএসআইয়ের প্রভাবও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়েও সংস্থাটির রাজনৈতিক প্রভাব এবং নজরদারির ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সরকার আইএসআইকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফোন ও বার্তা নজরদারির আইনি ক্ষমতা দেয়, যা দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

র: ১৯৬০-এর দশকের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা
ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে। এর জন্মের পেছনে ছিল ভারতের পরপর দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ।
এর আগে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি—দুই ধরনের গোয়েন্দা কাজই সামলাত। কিন্তু ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ভারতের গোয়েন্দা ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে যায়। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধও দেখিয়ে দেয় যে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের জন্য আলাদা ও বিশেষায়িত কাঠামো প্রয়োজন। ফলে ১৯৬৮ সালে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা সংস্থা হিসেবে র গঠিত হয়। এর প্রথম প্রধান ছিলেন রমেশ্বর নাথ কাও।
র মূলত ভারতের বাইরের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এর গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির ক্ষেত্র। সময়ের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, সন্ত্রাসবাদ, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয়ও এর কাজের আওতায় এসেছে।
.png)

গত আট বছরে তিনবার বদলেছে বাংলাদেশের ডিজিটাল আইন। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইন। প্রতিবারই সরকার বলেছে, নতুন আইন আগের আইনের বিতর্কিত দিকগুলো সংশোধন করবে, অযথা হয়রানির সুযোগ কমাবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সাইবার অপরাধ মোকাবিলায়
৭ ঘণ্টা আগে
বরাবরের মতো এবারও এসএসসির ফলে চমক দেখিয়েছে মেয়েরা। এবার ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের হিসাবেও একই চিত্র। ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জনই ছাত্রী।
১০ আগস্ট ২০২৬
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি সংখ্যা নিয়ে—৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে এবার পাসের হার নেমে এসেছে প্রায় ছয় শতাংশীয় পয়েন্ট নিচে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাতেও ধস নেমেছে।
১০ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ইতিহাস, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পুরনো নীতি। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অতীতে ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন। দেখে নেওয়া যাক, কারা তাঁরা?
০৯ আগস্ট ২০২৬