এটি একেবারেই বাংলাদেশের নিজস্ব আয়োজন: রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৪৮
রবীন্দ্র সরোবরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ছবি: চ্যানেল আইয়ের ভিডিও থেকে

সব জরা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরে নতুন প্রত্যয় নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র সরোবরে উদযাপিত হলো ‘হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ-১৪৩৩’। বছরের প্রথম সূর্যালোকের সঙ্গে সুরের মূর্ছনায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘এই যে আয়োজন, এটি একেবারেই বাংলাদেশের নিজস্ব। এর চরিত্র-আকার-আঙ্গিক; সবকিছুই বাংলাদেশের নিজের। আর সেটিই আমাদের অহংকারের জায়গা।’

‘চ্যানেল আই’ ও ‘সুরের ধারার’ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক শাশ্বত ও সর্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই উৎসবে শামিল হই। বর্তমান বৈশ্বিক অশান্ত পরিবেশে শান্তি ফেরাতে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দেড় দশক ধরে চ্যানেল আই এই আয়োজনটির মাধ্যমে সারাবিশ্বের বাঙালির কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছরের সব ব্যথা-বেদনা ভুলে আমরা নতুনের সুন্দরকে গ্রহণ করতে চাই। আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

তাঁর বক্তব্যে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। দল-মত ও বিভক্তি থাকলেও একটি জায়গায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আর তা হলো বাংলাদেশ। পহেলা বৈশাখ বা আমাদের স্বাধীনতা—এগুলো সবার জন্য সার্বজনীন।’ তিনি এমন আয়োজনের জন্য চ্যানেল আই ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের মধ্যমণি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা তাঁর বক্তব্যে এই উৎসবের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এখানে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ও জাতির কোনো ভেদাভেদ নেই; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা। আজকের মঞ্চে শুধু সুরের ধারার শিক্ষার্থীরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা পেশা ও বয়সের মানুষ প্রাণের আনন্দে মিলিত হয়েছেন।’

আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চে আমরা যেভাবে সবাই পাশাপাশি বসে আছি, সেই একই সহমর্মিতা ও ভালোবাসায় যেন পুরো বছরটি মিলেমিশে দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি। মানুষে মানুষে এই মেলবন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের এই ভালোবাসার বন্ধন ও সহমর্মিতা শেখাতে হবে। আর এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।’

বন্যা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতির মাঝে যে বহমান আনন্দের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা যেন কেবল আজকের দিনে সীমাবদ্ধ না থাকে। এই নিরন্তর আনন্দকে হৃদয়ে ধারণ করে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অপু হাফেজ ও সামন্তা ইসলামের সঞ্চালনায় এবং ‘পোলার’-এর সৌজন্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘সুরের ধারা’র সহস্রাধিক শিল্পী সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই রবীন্দ্র সরোবর এলাকা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে, যা চ্যানেল আইয়ের পর্দায় সরাসরি উপভোগ করেছেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি বাঙালি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত