leadT1ad

চুয়াডাঙ্গার ভোটে এবার ফ্যাক্টর হতে পারে ১৮ হাজার প্রবাসী ও চাকরিজীবী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চূয়াডাঙ্গা

পোস্টাল ব্যালট। সংগৃহীত ছবি

বিদেশের মাটিতে থেকেও এবার ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন চুয়াডাঙ্গার প্রবাসীরা। আসন্ন নির্বাচনে তারা শুধু প্রার্থী বাছাই করবেন না, বরং প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোট দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রায় ১৮ হাজার ভোটার ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যারা এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার ১০ হাজার ৫৭৬ জন প্রবাসী এবং দেশের অন্যান্য জেলায় কর্মরত ৭ হাজার ১০৭ জন সরকারি চাকরিজীবী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। সর্বমোট ১৭ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করেও ডাকযোগে নিজেদের রায় পাঠাবেন।

এই প্রথম এমন সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত চুয়াডাঙ্গার রেমিট্যান্সযোদ্ধারা। সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভোটার শাকিল আহমেদ বলেন, ‘৩২ বছরের প্রবাস জীবনে এই প্রথম দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারব। এই অনুভূতি অন্যরকম। যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে আমার এই ভোটটি কাজে লাগবে বলে ভালো লাগছে।’

দুবাই প্রবাসী এসএম শাফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো যারা বাস্তবায়ন করতে পারবে, এমন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই আমরা নির্বাচিত করব।’

আরেক প্রবাসী বকুল আহমেদ জানান, তারা এমন একজন নিষ্ঠাবান নেতা আশা করেন, যিনি প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধার দিকেও খেয়াল রাখবেন।

তবে প্রবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। নাগরিক প্রতিনিধি মানিক আকবর বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে পোস্টাল ব্যালট প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে এটি নতুন। এই পদ্ধতির প্রভাব পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে কেমন পড়ে তা দেখার বিষয়।’

মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ মনে করেন, প্রক্রিয়াটি নতুন হওয়ায় কিছু জড়তা থাকলেও প্রবাসীদের শতভাগ ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে।

ভোটের স্বচ্ছতা ও গণনা পদ্ধতি সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত যত পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে আসবে, তা নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ করা হবে। ভোট গণনার দিন প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে এসব ব্যালট গণনা করা হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের মতোই এখানে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।’

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট চালুর ফলে রাষ্ট্রের সাথে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর ও জনপ্রিয় করতে সরকার ও প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত