জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বগুড়ায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ স্বজনের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৩৯
ব্যাংক কর্মকর্তা সামিউল হাসান শুভ। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

বগুড়া শহরের ‘মায়ের আশ্রয়’ নামে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সেখানে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে একে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার হুমায়ুন কবীরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার পর্যন্ত বগুড়া সদর থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।

ব্যাংক কর্মকর্তা সামিউল শুভর মরদেহে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নেওয়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর। তিনি বলেন, নিরাময় কেন্দ্রের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। সেখানে তাঁকে মারধর করার কোনো আলামত মেলেনি। ফুটেজ আরও বিস্তারিত দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত সামিউল হাসান শুভ (৩৩) জেলার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জনতা ব্যাংকের দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি শহরের একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ থাকতেন।

পুলিশ ও মৃতের স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন সামিউল শুভ। এজন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কয়েক মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে একটি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ।

চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের সাবগ্রাম এলাকায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন শুভ। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শুভ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। এর কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক অমিত সাহা বলেন, হাসপাতালে পালাক্রমে দায়িত্ব (শিফটিং ডিউটি) চলে। তাঁর আগে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, মৃত অবস্থায় শুভকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এদিকে শুভর পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। হাতের কনুইয়ের নিচ থেকে বাহু পর্যন্ত ও পিঠের নানা স্থান কালচে হয়ে গেছে।

মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

তবে এমন দাবি অস্বীকার করে ‘মায়ের আশ্রয়’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসক আবু তালহা জানান, শুভকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শারীরিক কোনো আঘাত করা হয়নি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরিবার অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া সদর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, আলোচিত ও সন্দেহজনক ঘটনা হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তা মরদেহের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন পেলে শরীরে দাগের চিহ্ন সম্পর্কে জানা যাবে। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত