যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কের গুঞ্জনকে অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলাপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা স্ট্রিমের নিয়মিত আয়োজন ‘স্ট্রিম টকে’ তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন ও অডিও লিক প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি সম্ভবত কোনো কূটনীতিকের ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অফিশিয়াল পজিশন বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নয়।
সম্প্রতি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়ে, তাঁদের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, মার্কিন কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত আগামী নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করতে যাচ্ছে—এমনটা আঁচ করতে পেরেই এই তোড়জোড়। অতীতে একাধিকবার নিষিদ্ধ হওয়া এবং শরিয়া আইনের পক্ষে থাকা এই দলটি বর্তমানে দুর্নীতি নির্মূলকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে রেখে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
এ প্রসঙ্গে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো 'অফিশিয়াল পজিশন' বা আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। এটি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিনিধির নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে।‘
ড. সাইমুম পারভেজ আরও বলেন, ‘কোনো কূটনীতিক কী বললেন তার চেয়ে বিএনপির কাছে দেশের স্বার্থ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই বড় বিষয়। বিএনপি চায় না কোনো পরাশক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করুক। এটি যেহেতু কোনো অফিশিয়াল ঘোষণা নয়, তাই এ নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।‘
সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সাথে বিএনপির সমঝোতা ও তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে চলমান গুজব নাকচ করে জানান, ৫ আগস্টের পর তিস্তা ও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিএনপিই রাজপথে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বিরোধী পক্ষ বিপুল অর্থ খরচ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বটের মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মকে পুঁজি করা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাইম পারভেজ বলেন, ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে ‘জান্নাতের টিকিট’ বা ‘আল্লাহর দল’—এ ধরনের কথা বলা ধর্মীয় দৃষ্টিতে ‘শিরক’। বিএনপি ধর্মের অপব্যবহার না করে ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে রাজনীতি করার পক্ষে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, ৩১ দফার আলোকে ক্ষমতায় গেলে তারা ৫০ লক্ষ হতদরিদ্র পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সহায়তা দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দলের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও তিনি জানান।