বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সংসদ অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রাপ্তির পর এ বিষয়ে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে।’

বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনে কমিটি গঠন

রাজবাড়ী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত আরেক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত মুখস্থনির্ভর সিলেবাসের পরিবর্তে স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজার এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য অর্জনে বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত মুখস্থনির্ভর সিলেবাসের পরিবর্তে স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা বর্তমান কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।’

এই লক্ষ্য অর্জনে কমিশন বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে, যা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন করবে বলে আশা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশন শিগগিরই যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার (সিবিআই) চালু করতে যাচ্ছে, যাতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাব মূল্যায়ন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় পরীক্ষা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে বর্তমান কমিশন গঠনের পর ইতোমধ্যে ৪৪, ৪৫, ৪৬ বিসিএস এবং ৪৮ ও ৪৯ (বিশেষ) বিসিএসের কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ

এছাড়া চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রশাসনের শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে আরও ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’ এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪ অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসের শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি।

এরমধ্যে ১ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪ টি, ১০ম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬ টি, ১৩তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ টি, ১৭তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫ টি এবং অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক-যারা বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থান করে এমন ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ রয়েছে।

সম্পর্কিত