২০২২ সালের রেকর্ড স্পর্শ করছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের বাজার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সাধারণ মানের গ্যাসোলিন বা পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ২২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪ দশমিক ১৭৬ ডলার। এই দর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় যে পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপট সেই পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই মাসে প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ১৯ ডলার পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও প্রায় ৯৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়িচালকদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়ছে। ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। অনেক অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৪৬ থেকে ৫ দশমিক ৬৯ ডলারের মধ্যে রয়েছে, কিছু এলাকায় তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি মৌসুমি নয়, বরং ভূরাজনৈতিক কারণে তৈরি হওয়া একটি বড় ধাক্কা। তাঁর মতে, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে গড় মূল্য আরও বাড়তে পারে। আরেক বিশ্লেষক অ্যান্ডি লিপো মনে করেন, পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়া এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াত কমাতে শুরু করেছেন। অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করছেন। উচ্চমূল্যের কারণে কিছু এলাকায় জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে ৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে এর ফলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংকট দ্রুত নিরসন না হলে গ্রীষ্মকালীন সময়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। তবে কোনো সমঝোতা হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম কমার গতি সাধারণত বাড়ার তুলনায় অনেক ধীর হয়।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি নিউজ, সিএনবিসি নিউজ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত