রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে খালের পানিতে ফেলে প্রতিবাদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজবাড়ী

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ০৭
পানিতে ফেলে দেওয়া পেঁয়াজ। সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীতে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে খালের পানিতে পেঁয়াজ ফেলে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন এক কৃষক। কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন বেশি হওয়ায় কমেছে পেঁয়াজের দাম। সামনে দাম বাড়ার আশা করছেন তারা।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষোভে খালের পানিতে পেঁয়াজ ফেলার ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইলার হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়া কৃষক পলাশ মিয়া বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর বাজারে ৪ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে আনি। সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত বাজারে বসে থাকলেও ন্যায্য দাম পাইনি। ৩০০ থেকে শুরু করে শেষ ৬০০ টাকা দাম করে। পরে ক্ষোভে আমার মাথা ঠিক ছিল না তাই লোহার ব্রিজের ওপর থেকে বস্তায় থাকা চার মণ পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিই।’

রাজবাড়ীর সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের বাজার বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর। এ বাজারে প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মণ পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে এ বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক দিদার হোসেন বলেন, এ বছর প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে অন্তত ১২০০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে প্রতি মণেই অন্তত ৫০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অনেক কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

একই এলাকার কৃষক খায়রুল ইসলাম লিটন বলেন, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি। কিন্তু পেঁয়াজের দাম একেবারেই কম। এতে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা ওঠা নিয়েই চিন্তিত কৃষক। সরকার যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয় তাহলে পথে বসবে এই অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষিরা।

কৃষক ও পেঁয়াজচাষি টুকু জমাদ্দার বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় শতকরা ৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়। এ বছর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ রোপণ করায় ফলন হয়েছে দ্বিগুণ। অনেকে ব্যাংক থেকে লোন নিয়েও পেঁয়াজ চাষ করেছে। সরকার যদি পেঁয়াজের দাম বেঁধে না দেয়, কৃষক যদি এভাবে লোকসান গুনতে থাকে তাহলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজবাড়ীর উপপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর জেলায় ৩০ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় লোকসানে পড়ছে চাষিরা। দ্রুতই এই সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার মেট্টিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত