জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

‘ঘুষের’ অডিও ফাঁস: চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামিকে জামিন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভনে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

সদ্য সাবেক প্রসিকিউট সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিনভর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রসিকিউটরদের কয়েক দফায় বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রসিকিউটর স্ট্রিমকে জানিয়েছে, আজ সকালে প্রসিকিউটরদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পর বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রসিকিউশন বিভাগের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।

কমিটিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মো. আব্দুস সোবহান তরফদার, সদ্য নিয়োগ পাওয়া দুই প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান (মদিনা) ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিন এবং ট্রাইব্যুনালের ল রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ।

আজ রাতে ট্রাইব্যুনালের এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে ঢাকা স্ট্রিমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক প্রসিকিউটর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুধু সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগই নয়, ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক আরও কিছু বিষয় এই কমিটির তদন্তের আওতায় থাকবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) করাকে কেন্দ্র করে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ। মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার সার্বিক তদন্ত করবে এই কমিটি।

এর আগে আজ দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সদ্য সাবেক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাইমুমের বিষয়ে যে সংবাদ বেরিয়েছে, তাতে আমরা ব্যথিত হয়েছি।’

অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি জানান, নিউজে যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাঁর কাছে যায়, তবে আইনানুগভাবে তাঁর যতটুকু ক্ষমতা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, প্রসিকিউশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে যদি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাবে প্রসিকিউশন।

সম্পর্কিত