জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না

এমপির সঙ্গে থানার সামনে দিয়ে গেলেন জামায়াতকর্মী হত্যার প্রধান আসামি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ২১: ৫৮
রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনকে বিমানবন্দরে রিসিভ করে তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলেন হত্যা মামলার আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেন রাইসুল ইসলাম রাসেল। এরপর তাঁর গাড়িবহরের সঙ্গে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন তিনি।

রাসেল গত ৮ মার্চ মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দীন (৬৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। আলাউদ্দীনের মৃত্যুর পরপরই তানোরের সরনজাই কলেজের এই প্রভাষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

পুলিশের দাবি, আলাউদ্দীন হত্যার প্রধান আসামি রাসেলসহ অন্যরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। এমপির সঙ্গে হত্যা মামলার প্রধান আসামির চলাফেরার বিষয়ে ‘আইনের শাসন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন কে, তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ও জামায়াতের কর্মী মো. আলাউদ্দীন মারা যান।

পরে নিহতের ছেলে এমরান আলী মোহনপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাইসুল ইসলাম রাসেলকে প্রধানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, আলাউদ্দীনের বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করে তাঁকে হত্যা করেন আসামিরা।

সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়ে পরে ডিলিট করেন রাইসুল ইসলাম রাসেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়ে পরে ডিলিট করেন রাইসুল ইসলাম রাসেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। এ সময় বিমানবন্দরেই তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাসেল। পরে তিনি ফেসবুকে ওই ছবি দিয়ে লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে রওনা।’

শুক্রবার কেশরহাট পৌর বিএনপি এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করে। সেখানে হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিকেও দেখা যায়। যদিও পুলিশ বলছে, আসামিদের তারা খুঁজে পাচ্ছে না। মোহনপুর থানার এসআই মোদাস্বের হোসেন খান বলেন, ‘আলাউদ্দীন হত্যা মামলার আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র এখনো পাইনি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’ বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্ট তো মোহনপুর থানার ভেতরে না। আর ইফতারে কে কে ছিলেন, তা জানি না।’

এ ব্যাপারে রাতে যোগাযোগ করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইসুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘হত্যা মামলায় এখনো জামিন হয়নি। হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়ে যাবে।’ জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে এমপির সঙ্গে থাকা এবং ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এরপর আর কল ধরেননি।

পরে দেখা যায়, নিজের ফেসবুক থেকে ছবিগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন রাসেল। এরপর নিজেই আবার ফোন করে প্রতিবেদককে জানান, ফেসবুকে ছবি দিয়ে তিনি ভুল করেছেন। এ নিয়ে যেন আর ঘাটাঘাটি না করা হয়।

এমপির গাড়িবহর নিয়ে থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
এমপির গাড়িবহর নিয়ে থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

কেশরহাট পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, বিমানবন্দর থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে যোগ দিলেন। এমপির সঙ্গে ছবি ফেসবুকেও দিলেন। অথচ পুলিশ তাঁকে নাকি খুঁজেই পাচ্ছে না! ইফতার মাহফিলে তো আলাউদ্দীন হত্যার অন্যান্য আসামিও ছিলেন। আমরা খুবই বিস্মিত হয়েছি। এমপির সঙ্গে খুনি ঘোরাঘুরি করলে আইনের শাসন কোথায় থাকে?

এ ব্যাপারে এমপি শফিকুল হক মিলনের দাবি, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দীন মারা গেছেন স্ট্রোকে। হত্যা মামলাটি তো সঠিক না। আগে রিপোর্ট (ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন) আসুক, তারপর দেখা যাবে। ‘রাইসুল ইসলাম রাসেল এয়ারপোর্টে গেছে তো কী হয়েছে’, প্রশ্নও রাখেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত