ফিলিং স্টেশনে লেখা গ্যাস নেই, রাতে বাড়ছে লাইন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৪৯
চানখাঁরপুলের সোনার বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সাইনবোর্ড। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে দিনভর সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকেরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, চানখাঁরপুল, শ্যামলী, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের তীব্র চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক প্রাইভেট কার চালক জ্বালানি তেল নিচ্ছেন।

চানখাঁরপুলের সোনার বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ‘মেইন লাইনে গ্যাস না থাকার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে’ লেখা সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে। পাম্পের কর্মচারীরা জানান, গত ২০ জুলাই থেকে সেখানে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য গ্যাস এলেও তখন সবাই নিতে পারে না।

পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ দুলাল বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না, তাই গ্যাস দিতে পারছি না। সারা দিন পাম্প বন্ধ থাকে। রাত ৮টার দিকে গ্যাস এলেও শেষ রাতের দিকে তা আবার চলে যায়। অকটেন বিক্রি চলমান থাকলেও গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে।’

আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, তেলের জন্য লাইন ধরে আছে কিছু প্রাইভেট কার। অনেকেই এলপিজিও (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিচ্ছেন।
পাম্পের ম্যানেজার হিমালয় মণ্ডল জানান, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে তেলের চাহিদা বেড়েছে।

পাম্পে গ্যাস না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও লেগুনা চালকদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সিএনজিচালক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘পাম্পে গ্যাস নেই। যারা রাতে কোনোমতে গ্যাস নিতে পেরেছি, কেবল তারাই গাড়ি চালাচ্ছি। অনেকে গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি গ্যারেজে পড়ে আছে।’

ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। স্ট্রিম ছবি
ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। স্ট্রিম ছবি

লেগুনাচালক হাসান জানান, রাতে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পেয়েছিলেন। রাত জাগার কারণে সকালে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রাইভেট কার চালক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে তেল নিতে হচ্ছে, এতে খরচ বেশি হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে।’

এদিকে, দেশের চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার (২৭ জুলাই) গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত