ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: মাঠে জামায়াত, অপেক্ষায় বিএনপি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৩
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২৯ অক্টোবর। স্ট্রিম গ্রাফিক
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২৯ অক্টোবর। স্ট্রিম গ্রাফিক

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবার নাকি অন্য কেউ প্রার্থী, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে জল্পনা।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোট হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিজয়ী হন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের সময় ঘনিয়ে আসায় বাড়ছে প্রার্থীদের তৎপরতা। প্রতিদিন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিনের নাম আসছে। মির্জা ফখরুলের এই ভাই স্থানীয় রাজনীতি করার কারণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে হাজির হচ্ছেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ মির্জা ফখরুলের পরে জেলার রাজনীতির হাল তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

এখানে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও আলোচনা রয়েছে। মির্জা ফখরুল স্ট্রিমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শামারুহ মির্জার রাজনীতিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে রাজনীতিতে আসবেন কিনা এবং উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, শামারুহ মির্জা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোট সব সময় নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ধরনের ভোটার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। উপনির্বাচনেও তারা ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন মাঠে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। গত নির্বাচনে পাওয়া ভোটকে ভিত্তি ধরে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোটারকে টার্গেট করে তিনি তৎপরতা চালাচ্ছেন। দেলওয়ার হোসেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।

জানতে চাইলে দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করব। চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আপসহীন থাকব।’

দেলওয়ার হোসেন মাঠ চষে বেড়ালেও স্থানীয়দের চোখে, এখানে ধানের শীষ যিনি পাবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় বিএনপির পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলছিলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ফয়সাল আমিনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। উপনির্বাচনে আমি তাঁর জয়ের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ দেখছি। তবে তিনি প্রার্থী না হলেও এখানে ধানের শীষই বিজয়ী হবে।’ চিলারং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোভা আলী বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।’

মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, ‘আনঅফিশিয়ালি আমি এই আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে অফিশিয়াল প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভোটারদেরও আরেকটু সময় ধৈর্য ধরতে হবে।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত