রাখাইনে জান্তা-আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ, বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১১: ৪৬
টেকনাফ সীমান্তের ওপরে মিয়ানমারে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি” সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ চলছে। গত কয়েকদিন ধরে ওপারে মর্টারশেল ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে সীমান্তবর্তী জনপদটি। এতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, জালিয়াপাড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, নাজিরপাড়া, হ্নীলা, জাদিমুড়া, দমদমিয়া, হোয়াইকংসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় নোমান সৈয়দ জানান, বুধবার রাতে পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জিয়াউর রহমান বলেন, অনেক সময় ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর বোঝা যায় ওপারে গোলাগুলি চলছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে ভেসে আসা বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর রাখছে।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। তখনও মর্টারশেল ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে আবার হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। গতকাল সকালে জান্তা সরকার রাখাইনের বুথে এলাকায় বিমান হামলাও চালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, সীমান্তের ওপার থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষ হলেও বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ভেতর কোনো ধরনের গোলা বা মর্টারশেল এসে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত