স্ট্রিম প্রতিবেদক

বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা পুরান ঢাকার লালকুঠি, যেটি মূলত নর্থব্রুক হল নামে পরিচিত, আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। ১৮৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে এই টাউন হলটির নির্মাণ শুরু হয়। ১৮৮০ সালে জর্জ ব্যরিং নর্থব্রুক এ ভবন উদ্বোধন করেন। তার নাম অনুসারেই এর নাম রাখা হয় ‘নর্থব্রুক হল’। যদিও এর লাল রঙের কারণে স্থানীয়দের মুখে-মুখে এটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘লালকুঠি’ নামে।
ভবনটি নির্মাণে নেতৃত্ব দেন ঢাকার স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। এর স্থাপত্যে ব্রিটিশ, মুঘল ও ইউরোপীয় শিল্পশৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। মূল ভবনের অংশে ছিল নাট্যশালা, সভাকক্ষ, মিলনায়তন ও গ্রন্থাগার। এক সময় এটি হয়ে উঠেছিল ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। এখানেই ১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেয় ঢাকা পৌরসভা যা ভবনটির ইতিহাসে গর্বের অধ্যায় হয়ে আছে।
বহু বছর ধরে অবহেলার কারণে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৬ সাল থেকে এটি আর মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে ভবনটির পুনঃসংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটিতে চলছে সংস্কার কাজ। নতুন রঙের প্রলেপে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেড়শো বছরের পুরোনো লালকুঠির সৌন্দর্য। ভবনের সম্মুখে তৈরি করা হয়েছে মার্বেল পাথরের বৃহৎ ফোয়ারা। সংস্কারকাজে মূল কাঠামো, কাঠের দরজা-জানালা ও কারুকাজ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে আদি নকশা অনুসরণ করে।
লালকুঠির সংস্কারে স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। পাতলাখান লেনের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু সাইদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে এখানে আসতাম। নাটক, কবিতা আবৃত্তি, ঈদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। ভবনের সিঁড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম বন্ধুদের সঙ্গে। এটি শুধু একটি দালান নয়, ছিল আমাদের জীবনের অংশ। সংস্কারের ফলে সেই স্মৃতিগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদুর রহমান জানান, ‘এক সময় লালকুঠিতে সেমিনার, আলোচনা সভা ও কমিউনিটি গ্যাদারিং হতো। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি অব্যবহৃত ছিল বলে আগ্রহ হারিয়ে যায়। সংস্কার শেষে আমরা আশা করছি, এই ভবন আবার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব খাদেম বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, ‘সংস্কার কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮০ শতাংশ। কিছু স্থানীয় সমস্যা থাকলেও আমরা বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে বাকি কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিচ্ছি। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, তাই প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের মাধ্যমেই সংবেদনশীল কাজগুলো করানো হচ্ছে। এখানকার শ্রমিকরা সাধারণত দেশের ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর সংস্কারকাজ করেন। ভবনটি ঠিক ১০০ বছর আগে যে রূপে ছিল, সেই রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা পুরান ঢাকার লালকুঠি, যেটি মূলত নর্থব্রুক হল নামে পরিচিত, আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। ১৮৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে এই টাউন হলটির নির্মাণ শুরু হয়। ১৮৮০ সালে জর্জ ব্যরিং নর্থব্রুক এ ভবন উদ্বোধন করেন। তার নাম অনুসারেই এর নাম রাখা হয় ‘নর্থব্রুক হল’। যদিও এর লাল রঙের কারণে স্থানীয়দের মুখে-মুখে এটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘লালকুঠি’ নামে।
ভবনটি নির্মাণে নেতৃত্ব দেন ঢাকার স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। এর স্থাপত্যে ব্রিটিশ, মুঘল ও ইউরোপীয় শিল্পশৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। মূল ভবনের অংশে ছিল নাট্যশালা, সভাকক্ষ, মিলনায়তন ও গ্রন্থাগার। এক সময় এটি হয়ে উঠেছিল ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। এখানেই ১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেয় ঢাকা পৌরসভা যা ভবনটির ইতিহাসে গর্বের অধ্যায় হয়ে আছে।
বহু বছর ধরে অবহেলার কারণে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৬ সাল থেকে এটি আর মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে ভবনটির পুনঃসংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটিতে চলছে সংস্কার কাজ। নতুন রঙের প্রলেপে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেড়শো বছরের পুরোনো লালকুঠির সৌন্দর্য। ভবনের সম্মুখে তৈরি করা হয়েছে মার্বেল পাথরের বৃহৎ ফোয়ারা। সংস্কারকাজে মূল কাঠামো, কাঠের দরজা-জানালা ও কারুকাজ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে আদি নকশা অনুসরণ করে।
লালকুঠির সংস্কারে স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। পাতলাখান লেনের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু সাইদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে এখানে আসতাম। নাটক, কবিতা আবৃত্তি, ঈদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। ভবনের সিঁড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম বন্ধুদের সঙ্গে। এটি শুধু একটি দালান নয়, ছিল আমাদের জীবনের অংশ। সংস্কারের ফলে সেই স্মৃতিগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদুর রহমান জানান, ‘এক সময় লালকুঠিতে সেমিনার, আলোচনা সভা ও কমিউনিটি গ্যাদারিং হতো। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি অব্যবহৃত ছিল বলে আগ্রহ হারিয়ে যায়। সংস্কার শেষে আমরা আশা করছি, এই ভবন আবার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব খাদেম বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, ‘সংস্কার কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮০ শতাংশ। কিছু স্থানীয় সমস্যা থাকলেও আমরা বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে বাকি কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিচ্ছি। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, তাই প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের মাধ্যমেই সংবেদনশীল কাজগুলো করানো হচ্ছে। এখানকার শ্রমিকরা সাধারণত দেশের ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর সংস্কারকাজ করেন। ভবনটি ঠিক ১০০ বছর আগে যে রূপে ছিল, সেই রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘পুলিশ হত্যা’র অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করা হয়।
২৯ মিনিট আগে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। সড়ক, রেল ও নৌপথের যাত্রী এবং চালকদের প্রতি নিরাপত্তা দির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সকাল ছিল ঐকতানের। সরকারি-বিরোধী উভয় দলের মুখে হাসি, উষ্ণ শুভেচ্ছা, সব মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক আশাব্যঞ্জক সূচনা। কিন্তু দিন গড়াতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে ফিরে আসে চেনা উত্তাপ, স্লোগান আর ওয়াকআউট।
১ ঘণ্টা আগে
গুম, খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তার বিচার প্রচলিত ‘সেনা আইনে’ করার দাবি জানিয়েছে আসামিপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন করে তাদের বিচার শুরু করাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছে
৩ ঘণ্টা আগে