leadT1ad

শিশু সাজিদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

শিশু সাজিদকে উদ্ধারে ৩১ ঘণ্টার অভিযান চালান ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে (বোরহোলে) পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে । এ সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে এক সচিব, পাঁচ জেলা প্রশাসক (ডিসি), ইউএনও, ওসি ছাড়াও তিন সরকারি কর্মকর্তা বরাবর। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া এ সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশটি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান, সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), তানোরের সহকারী প্রকৌশলী ও তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

নোটিশে বলা হয়েছে, পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত বোরহোলের কারণে শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়েছে, যা সরাসরি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও নজরদারির অভাবের ফল। এ ঘটনায় রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে থাকা পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত বন্ধ এবং অবৈধভাবে গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বরেন্দ্রজুড়ে থাকা শত শত বোরহোল বিষয়ক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত নলকূপগুলো জনসাধারণের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে এবং যে-কোনো সময় আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

নিহত শিশু সাজিদ। সংগৃহীত ছবি
নিহত শিশু সাজিদ। সংগৃহীত ছবি

আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাইকোর্ট ডিভিশনে জনস্বার্থে রিট মামলা করা হবে।’

পরিত্যক্ত বোরহোলের খোঁজে প্রশাসন

শিশু সাজিদের মৃত্যু ও বোরহোল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পরিত্যক্ত গর্ত নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) রেজাউল আলম সরকার রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিভাগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি–সেচ) বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব নলকূপের পাইপের মুখ অরক্ষিত বা উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।

দুর্ঘটনা রোধে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার অরক্ষিত বা উন্মুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ গভীর নলকূপগুলোর তথ্য একটি নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বধুবার (১০ ডিসেম্বর) উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের জমিতে উন্মুক্ত ফেলে রাখা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। ৩১ ঘণ্টার অভিযানের পর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে প্রায় পঞ্চাশ ফুট গর্ত থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। সাজিদের বাড়ির পাশে নিজের জমিতে একাধিক গভীর গর্ত খুঁড়েছিলেন স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর সক্রিয় কর্মী কছির উদ্দিন। ঘটনার পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

ব্যক্তিমালিকানায় অবৈধভাবে সেমিডিপ বসানোর উদ্দেশ্যে এই বোরহোল খনন করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর ধরে গর্তটি উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত