leadT1ad

নির্বাচন ও গণভোট: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ও সিসিটিভি

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩: ১৭
নির্বাচন কমিশন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সময় সম্ভাব্যতা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মাঠে ব্যবহৃত ইন্টারনেট কানেক্টেড বডি ক্যামেরা ও একটি লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সমন্বয় সেলে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ওই পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানিয়েছে ইসি।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটার, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব দল ও প্রার্থী যাতে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাঠামো অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘লিড মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাহিনী ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মাঠপর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনের সময় বাহিনী মোতায়েনের ধরন অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক স্থায়ী মোতায়েন, স্থায়ী বা অস্থায়ী চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও আভিযানিক দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের আগে ৪ দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর ২ দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, গুজব ও অপতথ্য রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কাভারেজ এবং বডি ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। ভোটারদের স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তার জন্য এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানায়, ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইসির ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত