চাকরি ছাড়লেও ৩ বছর পার হয়নি, মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০৪
বক্তব্য দিচ্ছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান। স্ট্রিম ছবি

সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করার তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, গত ২২ এপ্রিল বাছাইয়ের সময় মনিরা শারমিনের কিছু নথির ঘাটতি ছিল। আজ দুপুর ১২টার মধ্যে সেগুলো জমা দেওয়ার কথা ছিল এবং তিনি নির্ধারিত সময়েই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসন সংক্রান্ত আইন এবং আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। আরপিও ১৯৭২-এর ১২ (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো পাবলিক স্ট্যাটিউটরি অথরিটিতে (সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান) কর্মরত ব্যক্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি বা অবসরের পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। তাঁর ক্ষেত্রে তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হলো।

কথা বলছেন মনিরা শারমিন। স্ট্রিম ছবি
কথা বলছেন মনিরা শারমিন। স্ট্রিম ছবি

মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, যে আইনের কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, সেটির মূল সারমর্ম হলো সরকারি কর্মকর্তারা যেন ভোটারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন। আমি দশম গ্রেডের ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলাম এবং পদত্যাগ করেছি; এটি অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত ছিল না। আমার মনে হয় এটি সংরক্ষিত নারী আসনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বড় রাজনৈতিক বাধা। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।

উল্লেখ্য, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগ দিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় তিনি নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের একটি আসন কমে ১২টিতে দাঁড়াতে পারে। ওই আসনটি উন্মুক্ত হিসেবে নতুন তফসিলে ভোট হবে এবং সংসদে আসন সংখ্যা বেশি থাকায় সেটি বিএনপি জোটের অনুকূলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনের বাছাইয়ে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজনের মনোনয়নপত্রসহ মোট ৪৯ জনের আবেদন বৈধ হয়েছে।

সম্পর্কিত