জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

টানা ছুটিতে সাভারের তিন সড়কে রাতভর ঘরমুখো মানুষের ঢল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ১৮
রাতে সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

কোলে ১৬ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে ছিলেন পোশাককর্মী সুলতানা নাসরিন, যাবেন বগুড়ায়। তবে গাড়ি পাননি প্রায় ৩ ঘণ্টাতেও, পেলেও চাওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সড়কের পাশে বসেই শিশুকে দোকান থেকে খাবার কিনে খাওয়াচ্ছিলেন তিনি, বসে থাকতে থাকতে অতিষ্ঠ। ভোটের কারণে পাওয়া চার দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যেতে এসে এমন পরিস্থিতি সুলতানার। ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গিয়ে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দেখা গেল এমন দৃশ্য।

সন্ধ্যা থেকে সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর, ঢুলিভিটা, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, আমিনবাজার ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ, বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশুলিয়া, জামগড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় ঘরমুখো যাত্রীর চাপ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ওই আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে।

যানজট না থাকলেও ছিল যানবাহনের ধীরগতি
যানজট না থাকলেও ছিল যানবাহনের ধীরগতি

এই ছুটিকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেলে সাভার, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী ধামরাইয়ের বিভিন্ন কলকারখানা ছুটির পরপরই শুরু হয় ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল। কেউ কেউ একাই আবার কেউ পুরো পরিবারসহ যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে। তারা বলছেন, দীর্ঘ দিন পর ভোট ও লম্বা ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তারা ঘরে ফিরছেন।

গাইবান্ধা যেতে কন্যা-সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষা করছিলেন নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘গ্রামে তো ভোটের জন্যই যাইতেছি চাচ্ছি। কিন্তু যে ভোগান্তি হইতেছে! বিকাল ৫টা বাজে ছুটি হইছে, এখনো স্যালারি পাই নাই। স্যালারি অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা, কিন্তু এখনো হয়নি। আবার বিকাশ থেকে টাকাও বের করা যাচ্ছে না। বাচ্চারা রাতে খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আজকেও টাকা পাব না। গাড়ি ভাড়াও বেশি চাইতেছে। এই অবস্থায় আর যাইতে পারতেছি না।’

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে মা-মুরুব্বি আছে, সবাই তাকায়া আছে যে কখন আসবো। কিন্তু এমন হলে কীভাবে যাবো, বলেন? এই যে দুইটা বাচ্চা নিয়ে পথের মধ্যে বসে আছি। ভাড়া ৫০০, ৭০০, ১২০০, ১৫০০ বলতেছে। কীভাবে কী করবো?‘

ছুটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেতে বাসের অপেক্ষায় থাকা হাসান আলী বলেন, ‘টিভিতে বারবার দেখানো হচ্ছে যে নিরাপদে যাওয়া যাবে, ভাড়া কম নিবে, বেশি নিবে না। কিন্তু কই সেই নিরাপত্তা? পুলিশ তো নাই। কোনো পুলিশ দেখতেছি না। আইনের লোক-কোনো আইনের লোকই দেখলাম না।’

আছে ভোগান্তির অভিযোগও
আছে ভোগান্তির অভিযোগও

এদিকে ভোট উপলক্ষে গাজীপুর নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া পোশাক শ্রমিক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অটো দিয়ে আইতেছি। আমি থাকি আশুলিয়ায়। তিন দিনের ছুটি পাইছি-দুই দিন কোম্পানি দিছে, আর এক দিন এমনিতেই বাড়ির জন্য। এই ছুটি দিয়েই তো বাড়ি যাওয়ার কথা।

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া ও বাসের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেউ কেউ।

ইমান আলী নামে একজন বলেন, ‘এখন বাড়ির উদ্দেশেই যাইতেছি, মূল উদ্দেশ্য হলো ভোট দেওয়া। ভোটের উপলক্ষেই যাওয়া। কিন্তু গাড়ি তো পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক লোক যাচ্ছে এবার ভোট দেওয়ার জন্য। সবাই অনেকটা আগ্রহী।

আবুল কালাম নামে অপর এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে গাইবান্ধায় গ্রামের বাড়ি যাইতেছি। প্রায় ২০ মাইল অটো দিয়ে আইছি। এই পর্যন্ত আসার পর যে কোনো কাউন্টারে গেলে সিট নাই, ভাড়া ১ হাজার টাকার নিচে নাই। যেদিকেই যাই, ১ হাজার টাকা লাগবেই। এই পর্যন্ত আসছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসন, কোনো খবর-কিছুই নাই। গাড়িও কম, গাড়ি তো নাই বললেই চলে। ক্যামেরা ধরেন, দেখেন গাড়ি আছে নাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এই অবস্থা হলে কেমনে যাব? অফিসে ডিউটি করি। বিকাশ, রকেট, নগদ-সব ক্যাশ আউট বন্ধ। টাকা আছে, কিন্তু বের করতে পারতেছি না। আজকে ৫টার দিকেও টাকা বাইর করতে পারি নাই। হাওলাত করে নিয়া চলতেছি। বলছি, ভাই শনিবার বা রোববার আইসা আপনার টাকা দিয়া দিবো।’

এদিকে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান রাতে বলেন, ‘সড়কে তেমন যানজট নেই। তবে কিছুটা ধীরগতি আছে। ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে এমনটি হয়েছে। ধীরে ধীরে এটি কমে যাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এজন্য কাজ করছেন।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত