জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রয়টার্সের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে চীনের দাপট রুখতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

এআই জেনারেটেড ছবি

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নতুন বিকল্প তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেবে তারা। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি দিল্লিতে আশ্রয় নেন। পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমছে আর চীনের শিকড় গভীরে যাচ্ছে।

চীন সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারত সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা তৈরি করা হবে। জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গেও কথা বলছে। এই বহুমুখী কমব্যাট বা যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে তৈরি করেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে চিন্তিত। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। চীনের সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের সম্পর্কের ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলো বাংলাদেশকে তার সামরিক সক্ষমতার চাহিদা মেটাতে নানা ধরনের সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তারা চায় চীনা সমরাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ তাদের তৈরি ব্যবস্থা বা সিস্টেম গ্রহণ করুক। তবে তিনি এর বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, চীন ও বাংলাদেশ ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশ রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। এই সম্পর্ক দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়। আবার কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপও তারা সহ্য করবে না।

ক্রিস্টেনসেন জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি জরুরি। হাসিনার পলায়নের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা সেবা থেকে শুরু করে দুই প্রতিবেশীর ক্রিকেট সম্পর্কেও।

বাণিজ্যিক কূটনীতিই যখন প্রধান

সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। তবে এর জন্য তারা পরবর্তী সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত চায়। তারা দেখতে চায় বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য কতটা উন্মুক্ত।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আশা করি নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারব। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে হওয়া অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করার ওপর আমরা গুরুত্ব দেব।

জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে কাজ করছে। কিন্তু ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে অন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। এর কারণ উচ্চ কর এবং মুনাফা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জটিলতা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো কোনো আউটলেট নেই।

রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন ওয়াশিংটন বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত যে কোনো সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। নির্বাচনে লড়াইটা হচ্ছে প্রধানত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটে মার্কিন সহায়তা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, মানবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বাংলাদেশে শক্তিশালী স্বাস্থ্য কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সই হওয়া ২০০ কোটি ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল কাঠামোর কথা উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ও বিশ্বজুড়ে সহায়তার কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।

ক্রিস্টেনসেন অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারা যেন এই বোঝার বড় অংশ কাঁধে তুলে নেয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একা এই বিশাল প্রচেষ্টার ভার বইতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচিত রোহিঙ্গা সংকটে তাদের সহায়তা আরও বাড়ানো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের রেশন বা খাবার কমানো হয়েছে। এমনকি তাদের জন্য কিছু স্কুলও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত