রাজীব নন্দী

ভোট আর হতে কতক্ষণ! সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির আকাশে ভবিষ্যদ্বাণীর মেঘ ততই ঘন হচ্ছে। তবে এ ভবিষ্যদ্বাণী করতে জ্যোতিষীর দরকার নেই—বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসই যথেষ্ট। সিলেটের ছেলে বা জামাই—স্ত্রী চিকিৎসক, কন্যা সন্তানের পিতা আর নামের শেষে অবধারিতভাবে ‘রহমান’—এই চার সূত্র মিলেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারেন, তা নিয়ে এখন কফিশপ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাস—সবখানেই আলোচনা।
তারেক রহমান নাকি শফিকুর রহমান?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের দিনে এসে দাঁড়িয়েছে এক অদ্ভুত সমাপতন। রাজনীতির ময়দানে মুখোমুখি দুই প্রধান শক্তি—বিএনপি ও জামায়াত—আর দুই শীর্ষ কাণ্ডারীর নামের শেষ শব্দ একই—রহমান। প্রশ্নটা তাই এখন আর ‘কে জিতবে?’ নয়, প্রশ্নটা হয়ে উঠেছে— সরকারপ্রধান হচ্ছেন কোন রহমান?
ইতিহাসের পাতায় ‘রহমান’ অধ্যায়
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের পথ ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ রাষ্ট্রপতি, কেউ প্রধানমন্ত্রী, কেউ প্রধান উপদেষ্টা, কেউ আবার সামরিক শাসনের মাধ্যমে ক্ষমতায়। কিন্তু আশ্চর্য মিল—রাষ্ট্রক্ষমতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই পুরুষের নামের শেষ উপাধিই রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন—দুই ব্যবস্থারই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকলেও প্রবাসী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। শাসনব্যবস্থার নানান ঘটনায় এখন সেই দল আওয়ামী লীগ কার্যত নিষিদ্ধ ও নির্বাসিত।
অন্যদিকে, ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান। সামরিক অভ্যুত্থান থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়। আজ সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান, যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে।
ভোটের আগের দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস ইঙ্গিত দিচ্ছে—ক্ষমতার চূড়ান্ত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে নামের শেষে ‘রহমান’ থাকা একধরনের অলিখিত শর্ত! কাকতালীয় নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি—সেটা রায় দেবে আগামীকালের ব্যালট বাক্সই।
ভোটের আগের এই রাতে তাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে খুব সোজা সমীকরণে— ক্ষমতার চাবি যাবে কার হাতে, আর আগামী দিনের সরকারপ্রধান হবেন কোন রহমান— এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এখন আর সময়ের অপেক্ষামাত্র।
জিয়াউর রহমানের বড় সন্তান তারেক রহমান সিলেটের জামাই। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে যিনি গিয়েছিলেন দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুরে শ্বশুরবাড়ি ‘রাহাত মঞ্জিল’-এ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে বরণ করেছিলো বিরাইমপুরের বাসিন্দারা। ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে সিলেটের জনসভা দিয়েই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান।
আলোচনায় আছেন জামায়াতের প্রধান শফিকুর রহমান। দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই রহমান। ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেটের শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘দুর্নীতি দূর হলেই দেশের শিল্প ও অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।’ আবার হবিগঞ্জে অপর এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না।’
শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।
লেখা থামাতে হচ্ছে আরেকটি কাকতালে—আলোচিত এই দুই রহমানই কন্যা সন্তানের পিতা। ভোটের আগের এই রাতে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্ক তাই দাঁড়াচ্ছে এক অদ্ভুত সমীকরণে— নাম ‘রহমান’, শিকড় সিলেট, ইতিহাস ভারী, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী কি ‘সিলটি ভাই’, নাকি ‘দুলাভাই’?
রাজনীতির মারপ্যাঁচ যদি খুব বেশি ম্যাটিকুলাস না হয়, তাহলে হয়তো আগামীকাল রাতেই জেন-জির টিকটক আর রিল ভিডিওতে রামকানাই দাশের সুরে বেজে উঠবে— ‘(ক্ষমতায়) আইলো রে নয়া দামান!’
হ্যাঁ, ভোটের দৌড়ে আপাতত ‘দুলাভাই’-এর চেয়ে পিছিয়ে আছে ‘ভাই’। কিন্তু শেষ হাসি কার—সেটা জানাবে কেবল ব্যালট বাক্স।
রাজীব নন্দী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ভোট আর হতে কতক্ষণ! সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির আকাশে ভবিষ্যদ্বাণীর মেঘ ততই ঘন হচ্ছে। তবে এ ভবিষ্যদ্বাণী করতে জ্যোতিষীর দরকার নেই—বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসই যথেষ্ট। সিলেটের ছেলে বা জামাই—স্ত্রী চিকিৎসক, কন্যা সন্তানের পিতা আর নামের শেষে অবধারিতভাবে ‘রহমান’—এই চার সূত্র মিলেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারেন, তা নিয়ে এখন কফিশপ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাস—সবখানেই আলোচনা।
তারেক রহমান নাকি শফিকুর রহমান?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের দিনে এসে দাঁড়িয়েছে এক অদ্ভুত সমাপতন। রাজনীতির ময়দানে মুখোমুখি দুই প্রধান শক্তি—বিএনপি ও জামায়াত—আর দুই শীর্ষ কাণ্ডারীর নামের শেষ শব্দ একই—রহমান। প্রশ্নটা তাই এখন আর ‘কে জিতবে?’ নয়, প্রশ্নটা হয়ে উঠেছে— সরকারপ্রধান হচ্ছেন কোন রহমান?
ইতিহাসের পাতায় ‘রহমান’ অধ্যায়
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের পথ ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ রাষ্ট্রপতি, কেউ প্রধানমন্ত্রী, কেউ প্রধান উপদেষ্টা, কেউ আবার সামরিক শাসনের মাধ্যমে ক্ষমতায়। কিন্তু আশ্চর্য মিল—রাষ্ট্রক্ষমতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই পুরুষের নামের শেষ উপাধিই রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন—দুই ব্যবস্থারই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকলেও প্রবাসী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। শাসনব্যবস্থার নানান ঘটনায় এখন সেই দল আওয়ামী লীগ কার্যত নিষিদ্ধ ও নির্বাসিত।
অন্যদিকে, ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান। সামরিক অভ্যুত্থান থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়। আজ সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান, যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে।
ভোটের আগের দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস ইঙ্গিত দিচ্ছে—ক্ষমতার চূড়ান্ত উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে নামের শেষে ‘রহমান’ থাকা একধরনের অলিখিত শর্ত! কাকতালীয় নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি—সেটা রায় দেবে আগামীকালের ব্যালট বাক্সই।
ভোটের আগের এই রাতে তাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে খুব সোজা সমীকরণে— ক্ষমতার চাবি যাবে কার হাতে, আর আগামী দিনের সরকারপ্রধান হবেন কোন রহমান— এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এখন আর সময়ের অপেক্ষামাত্র।
জিয়াউর রহমানের বড় সন্তান তারেক রহমান সিলেটের জামাই। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে যিনি গিয়েছিলেন দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুরে শ্বশুরবাড়ি ‘রাহাত মঞ্জিল’-এ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে বরণ করেছিলো বিরাইমপুরের বাসিন্দারা। ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে সিলেটের জনসভা দিয়েই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান।
আলোচনায় আছেন জামায়াতের প্রধান শফিকুর রহমান। দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই রহমান। ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেটের শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘দুর্নীতি দূর হলেই দেশের শিল্প ও অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।’ আবার হবিগঞ্জে অপর এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না।’
শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।
লেখা থামাতে হচ্ছে আরেকটি কাকতালে—আলোচিত এই দুই রহমানই কন্যা সন্তানের পিতা। ভোটের আগের এই রাতে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্ক তাই দাঁড়াচ্ছে এক অদ্ভুত সমীকরণে— নাম ‘রহমান’, শিকড় সিলেট, ইতিহাস ভারী, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী কি ‘সিলটি ভাই’, নাকি ‘দুলাভাই’?
রাজনীতির মারপ্যাঁচ যদি খুব বেশি ম্যাটিকুলাস না হয়, তাহলে হয়তো আগামীকাল রাতেই জেন-জির টিকটক আর রিল ভিডিওতে রামকানাই দাশের সুরে বেজে উঠবে— ‘(ক্ষমতায়) আইলো রে নয়া দামান!’
হ্যাঁ, ভোটের দৌড়ে আপাতত ‘দুলাভাই’-এর চেয়ে পিছিয়ে আছে ‘ভাই’। কিন্তু শেষ হাসি কার—সেটা জানাবে কেবল ব্যালট বাক্স।
রাজীব নন্দী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের সামনে এক ঐতিহাসিক দিন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ১৭ বছর পর এক ভিন্ন ধরনের নির্বাচন। ভয় কম, আগ্রহ বেশি। মানুষ বলছে—‘ভোটটা এবার আমি নিজেই দেব।’ এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়।
২০ মিনিট আগে
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিবর্তিত বাংলাদেশে এই নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের অগ্নিপরীক্ষা।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায় পার করে আমরা এমন এক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ঘণ্টা আগে
নরেন্দ্র মোদি যখন পাহাড়ে ধ্যান করছিলেন, এস জয়শঙ্কর তখন স্কুলে পড়ছিলেন, আর বাংলাদেশ তখন স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নিচ্ছিল। আমি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের সেই দিনটিতে যখন জেনারেল অরোরা ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণের দলিলে সই করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাকে একটি উচ্চপর্যায়ের
৭ ঘণ্টা আগে