মাহবুবুল আলম তারেক

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে পুরো দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে এবারের ডাকসু। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে একটি দিক নির্দেশক মাইলফলক হিসেবে দেখার যথেষ্ট কারণ আছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম বড় রাজনৈতিক আয়োজন, যা ছাত্ররাজনীতিকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি, সহিংসতা ও ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কারণ এটি শুধু ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যত নয়, দেশের জাতীয় রাজনীতিরও দিকনির্দেশনার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৩ সালে প্রথমবারের মতো গঠিত হয় ডাকসু। স্বাধীনতার আগে ও পরে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের রাজনৈতিক সংগ্রামে ডাকসুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
১০২ বছরের ইতিহাসে মোট ৩৮ বার ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে স্বাধীনতার পর মাত্র আটবার। স্বাধীনতার পর কখনোই সরকার সমর্থিত প্রার্থী ভিপি বা জিএস পদে জয়ী হননি। ১৯৭২ সালে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ১৯৭৯-৮০ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না, ১৯৮৯ সালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, এবং ১৯৯০ সালে আমানউল্লাহ আমান ভিপি নির্বাচিত হন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের দাপট এবং সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ডাকসুর ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোটারদের ওপর ভয় দেখানো ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এবার ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে প্রসারিত গণ-অভ্যুত্থান শেখ হাসিনা সরকারের পতনে শেষ হয়। এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার দাবি জাগিয়ে তোলে। ২০২৫ সালের এই ডাকসু নির্বাচন সেই দাবির প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ণের প্রথম ধাপ।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে যাচাই হবে, ছাত্ররাজনীতি কি ভয়, চাপ ও দলীয় আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী হতে পারবে কি না।
আগে ছাত্ররাজনীতি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, সক্রিয়তা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের আধিপত্য ও সহিংসতার কারণে এটি ক্ষমতাসীন দলের আনুগত্যে পরিণত হয়। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন প্যানেল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাঝখান থেকে উঠে আসা নেতৃবৃন্দও রয়েছেন। তারা পাঠক্রম সংস্কার, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও ক্যাম্পাস স্বায়ত্তশাসনের মতো ইস্যু তুলে ধরছেন। সব মিলিয়ে এবারের ডাকসু নির্বাচন ছাত্ররাজনীতিকে আশাবাদী, মুক্ত ও অধিকার-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর রেকর্ড সংখ্যা (৪৭১ জন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী) আর সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদীবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রমাণ। ।
তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, অর্থের প্রভাব, এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি প্রথম বড় নির্বাচন। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে ভোটব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন ছাত্রলীগের দাপট ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচন সরকারের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের বড় পরীক্ষা।
এটি সফল হলে আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক মডেল হিসেবে কাজ করবে। ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক হতাশা বাড়াবে।
ডাকসু নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির আয়না হিসেবে কাজ করে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল তরুণ ভোটারদের মানসিকতা ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক চিত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা। এটি কেবল ক্যাম্পাস সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় রাজনীতি, তরুণদের মানসিকতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করবে। সফল হলে ছাত্র রাজনীতি ভয় ও আধিপত্য থেকে মুক্ত হবে। নতুন প্রজন্মের আশা ও সংস্কারের প্রতীক হবে।
ডাকসুর ভোটের ফল সারাদেশের ক্যাম্পাস রাজনীতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাবকে প্রভাবিত করবে। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে।
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির পুনর্জন্মের মাইলফলক হতে পারে। এটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। এর সফলতার ওপর দেশের ভবিষ্যত গণতন্ত্রের দিক নির্দেশনা উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করছে।
লেখক: সাংবাদিক ও অনুবাদক

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে পুরো দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে এবারের ডাকসু। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে একটি দিক নির্দেশক মাইলফলক হিসেবে দেখার যথেষ্ট কারণ আছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম বড় রাজনৈতিক আয়োজন, যা ছাত্ররাজনীতিকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি, সহিংসতা ও ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কারণ এটি শুধু ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যত নয়, দেশের জাতীয় রাজনীতিরও দিকনির্দেশনার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৩ সালে প্রথমবারের মতো গঠিত হয় ডাকসু। স্বাধীনতার আগে ও পরে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের রাজনৈতিক সংগ্রামে ডাকসুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
১০২ বছরের ইতিহাসে মোট ৩৮ বার ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে স্বাধীনতার পর মাত্র আটবার। স্বাধীনতার পর কখনোই সরকার সমর্থিত প্রার্থী ভিপি বা জিএস পদে জয়ী হননি। ১৯৭২ সালে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ১৯৭৯-৮০ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না, ১৯৮৯ সালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, এবং ১৯৯০ সালে আমানউল্লাহ আমান ভিপি নির্বাচিত হন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের দাপট এবং সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ডাকসুর ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোটারদের ওপর ভয় দেখানো ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এবার ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে প্রসারিত গণ-অভ্যুত্থান শেখ হাসিনা সরকারের পতনে শেষ হয়। এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার দাবি জাগিয়ে তোলে। ২০২৫ সালের এই ডাকসু নির্বাচন সেই দাবির প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ণের প্রথম ধাপ।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে যাচাই হবে, ছাত্ররাজনীতি কি ভয়, চাপ ও দলীয় আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী হতে পারবে কি না।
আগে ছাত্ররাজনীতি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, সক্রিয়তা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের আধিপত্য ও সহিংসতার কারণে এটি ক্ষমতাসীন দলের আনুগত্যে পরিণত হয়। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন প্যানেল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাঝখান থেকে উঠে আসা নেতৃবৃন্দও রয়েছেন। তারা পাঠক্রম সংস্কার, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও ক্যাম্পাস স্বায়ত্তশাসনের মতো ইস্যু তুলে ধরছেন। সব মিলিয়ে এবারের ডাকসু নির্বাচন ছাত্ররাজনীতিকে আশাবাদী, মুক্ত ও অধিকার-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর রেকর্ড সংখ্যা (৪৭১ জন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী) আর সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদীবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রমাণ। ।
তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, অর্থের প্রভাব, এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি প্রথম বড় নির্বাচন। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে ভোটব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন ছাত্রলীগের দাপট ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচন সরকারের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের বড় পরীক্ষা।
এটি সফল হলে আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক মডেল হিসেবে কাজ করবে। ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক হতাশা বাড়াবে।
ডাকসু নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির আয়না হিসেবে কাজ করে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল তরুণ ভোটারদের মানসিকতা ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক চিত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা। এটি কেবল ক্যাম্পাস সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় রাজনীতি, তরুণদের মানসিকতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করবে। সফল হলে ছাত্র রাজনীতি ভয় ও আধিপত্য থেকে মুক্ত হবে। নতুন প্রজন্মের আশা ও সংস্কারের প্রতীক হবে।
ডাকসুর ভোটের ফল সারাদেশের ক্যাম্পাস রাজনীতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাবকে প্রভাবিত করবে। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে।
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির পুনর্জন্মের মাইলফলক হতে পারে। এটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। এর সফলতার ওপর দেশের ভবিষ্যত গণতন্ত্রের দিক নির্দেশনা উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করছে।
লেখক: সাংবাদিক ও অনুবাদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। তাঁরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদেরকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হয়। যদিও সংবিধান বা নির্বাচনি আইনে ‘বিদ্রোহী প্রার
১৬ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জীবন ও সম্পদের প্রাণহানিও ব্যাপক। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৬৫০ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের সামনে এখন ‘বিচক্ষণ কূটনীতি’ এবং একমুখী আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্ক বলয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই হবে তাদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
২ দিন আগে
বোরো মৌসুম মানে বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এই একটি মৌসুম থেকে। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষকের পুরো জীবন আবর্তিত হয় এই ফসলকে ঘিরে। হাল চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকের শরীরে ঘাম, চোখে স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের গায়ে
২ দিন আগে