মাহবুবুল আলম তারেক

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক হতাশা। তবে দ্রুতই তা রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে। ২০২২-২০২৩ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন মূলত নারীর অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
বর্তমান আন্দোলন সেই ধারা থেকে ভিন্ন। এবার তেহরানের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী শ্রেণি এতে যুক্ত হয়েছে। এই ব্যবসায়ীরা ‘বাজারি’ নামে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন
এই আন্দোলনের সূচনা হয় তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধের মাধ্যমে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যায়। এক ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি ইরানি রিয়াল দিতে হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ৩১টি প্রদেশেই ধর্মঘট ও মিছিল হয়। কিছু জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানও বদলে যায়। শুরুর দিকে দাবি ছিল অর্থনৈতিক। পরে তা সরাসরি সরকারবিরোধী হয়ে ওঠে।
‘খামেনির মৃত্যু হোক’ ধরনের স্লোগান শোনা যায়। এ ছাড়া ‘গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’ স্লোগান ওঠে। এর মাধ্যমে ইসলামি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বাজারিরা: ১৯৭৯ সালের মিত্র থেকে ২০২৬ সালের সমালোচক
তেহরানের ব্যবসায়ী সমাজ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে বড় ভূমিকা রেখেছিল। গ্র্যান্ড বাজারকে কেন্দ্র করেই এই শ্রেণি সংগঠিত ছিল। তারা শাহ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অর্থ সহায়তা দেয়। গণসংগঠনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলেই ধর্মীয় নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে।
বাজারিরা ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল। তাদের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই কারণে তারা দীর্ঘদিন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ছিল।
এখন সেই বাজারিরাই সরকারের সমালোচক হয়ে উঠছেন। তাদের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের ভেতরে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে যাঁরা ক্ষমতায় এনেছিলেন, এবার তাঁরাই সেই শাসকদের সরানোর আন্দোলন শুরু করতে পারেন।
দমন কেন কঠিন হয়ে উঠছে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারিদের যুক্ত হওয়া সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিহাসেও দেখা গেছে, বাজারিদের অবস্থান বদল বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হলি ডাগরেস বলেন, নেতৃত্ব অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতাই আন্দোলনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
তার মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যাচ্ছে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়। বিশ্বাসের ভাঙনও এতে যুক্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, রিয়ালের মতোই মানুষের আস্থাও ভেঙে পড়েছে। তিনি মনে করেন, দমননীতি ও ছাড়, দুটোরই সীমা আছে। পরিবর্তন এখন অনিবার্য মনে হচ্ছে। তবে সরকার পতন নিশ্চিত নয়।
সমাজবিজ্ঞানী রেঞ্জো গুওলোর বিশ্লেষণে বলা হয়, বাজারিদের ওপর দমন-পীড়ন অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে একত্র করতে পারে। যুবক, নারী ও ব্যবসায়ীরা এক হলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। বাজারের অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরকারের দুর্বলতা ও চলমান দমননীতি
সরকার বর্তমানে নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে সামরিকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। সিরিয়ার আসাদ সরকারের মতো আঞ্চলিক মিত্র হারিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উত্তরাধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। টিয়ার গ্যাস ও গুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই আন্দোলনে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি একত্র হয়েছে। তরুণ ও তুলনামূলক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ধনী ব্যবসায়ীরাও। এই সমন্বয় আন্দোলনকে টেকসই করে তুলছে।
১৯৭৯ সালের মতোই বাজারিদের অবস্থান পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি ইসলামি সরকারের জন্য বড় অশনিসংকেত।
এই আন্দোলন সংস্কার আনবে, না আরও সংঘাত বাড়াবে—তা এখনও অনিশ্চিত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারিদের ভূমিকা পরিস্থিতিকে অনেক বেশি গুরুতর করে তুলেছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক হতাশা। তবে দ্রুতই তা রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে। ২০২২-২০২৩ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন মূলত নারীর অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
বর্তমান আন্দোলন সেই ধারা থেকে ভিন্ন। এবার তেহরানের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী শ্রেণি এতে যুক্ত হয়েছে। এই ব্যবসায়ীরা ‘বাজারি’ নামে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন
এই আন্দোলনের সূচনা হয় তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধের মাধ্যমে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যায়। এক ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি ইরানি রিয়াল দিতে হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ৩১টি প্রদেশেই ধর্মঘট ও মিছিল হয়। কিছু জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানও বদলে যায়। শুরুর দিকে দাবি ছিল অর্থনৈতিক। পরে তা সরাসরি সরকারবিরোধী হয়ে ওঠে।
‘খামেনির মৃত্যু হোক’ ধরনের স্লোগান শোনা যায়। এ ছাড়া ‘গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’ স্লোগান ওঠে। এর মাধ্যমে ইসলামি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বাজারিরা: ১৯৭৯ সালের মিত্র থেকে ২০২৬ সালের সমালোচক
তেহরানের ব্যবসায়ী সমাজ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে বড় ভূমিকা রেখেছিল। গ্র্যান্ড বাজারকে কেন্দ্র করেই এই শ্রেণি সংগঠিত ছিল। তারা শাহ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অর্থ সহায়তা দেয়। গণসংগঠনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলেই ধর্মীয় নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে।
বাজারিরা ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল। তাদের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই কারণে তারা দীর্ঘদিন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ছিল।
এখন সেই বাজারিরাই সরকারের সমালোচক হয়ে উঠছেন। তাদের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের ভেতরে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে যাঁরা ক্ষমতায় এনেছিলেন, এবার তাঁরাই সেই শাসকদের সরানোর আন্দোলন শুরু করতে পারেন।
দমন কেন কঠিন হয়ে উঠছে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারিদের যুক্ত হওয়া সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিহাসেও দেখা গেছে, বাজারিদের অবস্থান বদল বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হলি ডাগরেস বলেন, নেতৃত্ব অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতাই আন্দোলনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
তার মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যাচ্ছে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়। বিশ্বাসের ভাঙনও এতে যুক্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, রিয়ালের মতোই মানুষের আস্থাও ভেঙে পড়েছে। তিনি মনে করেন, দমননীতি ও ছাড়, দুটোরই সীমা আছে। পরিবর্তন এখন অনিবার্য মনে হচ্ছে। তবে সরকার পতন নিশ্চিত নয়।
সমাজবিজ্ঞানী রেঞ্জো গুওলোর বিশ্লেষণে বলা হয়, বাজারিদের ওপর দমন-পীড়ন অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে একত্র করতে পারে। যুবক, নারী ও ব্যবসায়ীরা এক হলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। বাজারের অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরকারের দুর্বলতা ও চলমান দমননীতি
সরকার বর্তমানে নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে সামরিকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। সিরিয়ার আসাদ সরকারের মতো আঞ্চলিক মিত্র হারিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উত্তরাধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। টিয়ার গ্যাস ও গুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই আন্দোলনে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি একত্র হয়েছে। তরুণ ও তুলনামূলক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ধনী ব্যবসায়ীরাও। এই সমন্বয় আন্দোলনকে টেকসই করে তুলছে।
১৯৭৯ সালের মতোই বাজারিদের অবস্থান পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি ইসলামি সরকারের জন্য বড় অশনিসংকেত।
এই আন্দোলন সংস্কার আনবে, না আরও সংঘাত বাড়াবে—তা এখনও অনিশ্চিত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারিদের ভূমিকা পরিস্থিতিকে অনেক বেশি গুরুতর করে তুলেছে।

এই মুহূর্তে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন সংলাপের সম্ভাবনা কম। কিন্তু লড়াই কোনো সমাধান নয়। বরং কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসে অন্তত নিজেদের সীমারেখা একে অপরকে জানাতে পারে দুই দেশ। এমন আলোচনায় উভয় পক্ষের ধৈর্য প্রয়োজন হবে। তবে বিকল্প হিস
১৫ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর নানা প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে গবেষণা চালিয়ে ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেন।
২১ ঘণ্টা আগে
শ্রেণিকক্ষ এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ঘোচাতে আমাদের দেশে বর্তমানে কোনো ‘জাতীয় শিক্ষানবিশ আইন’ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার ফলাফলকে প্রকৃত বাজার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক টিকে থাকার স্বার্থে এটি এখন অপরিহার্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও ক্রান্তিকালের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশকে জাতি গঠনের নানা জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় আমাদের যেমন নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি দেশ গঠনের অনেক সুযোগও আমাদের সামনে এসেছে।
২ দিন আগে