সরদার ফরিদ আহমদ

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের সামনে এক ঐতিহাসিক দিন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ১৭ বছর পর এক ভিন্ন ধরনের নির্বাচন। ভয় কম, আগ্রহ বেশি। মানুষ বলছে—‘ভোটটা এবার আমি নিজেই দেব।’ এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়। এটা চরিত্রের পরীক্ষা, বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা। গত ১৮ মাসের হিসাবের পরীক্ষা।
প্রশ্ন একটাই—কে ক্ষমতায় যাবে? বিএনপি? নাকি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট? আরেকটি প্রশ্নও ভাসছে—কেউ কি এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবে? নাকি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে? কিন্তু আসল প্রশ্ন অন্যখানে। কেন এই নির্বাচন এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠল? আর কেন জুলাই বিপ্লবের পরের ১৮ মাস আজ এত গুরুত্ব পাচ্ছে?
নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। এটি একাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের যোগফল। জুলাই বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া বাস্তবতাই এই প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি শুরুতে বিএনপির জন্য সুবিধা মনে হয়েছিল। ধারণা ছিল—বড় দল, পুরনো নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব; ফলাফল নিশ্চিত। কিন্তু রাজনীতিতে সুবিধা স্থায়ী নয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিওভান্নি সার্তোরি বলেছিলেন, ‘দলীয় ব্যবস্থা তখনই স্থিতিশীল থাকে, যখন বিকল্পগুলো দুর্বল থাকে।’ এখানে বিকল্প দুর্বল থাকেনি। আওয়ামী লীগের শূন্যতা বিএনপি এককভাবে দখল করতে পারেনি। কারণ তারা শূন্যতা পূরণের ভাষা তৈরি করতে পারেনি। শুধু ‘আমরা ক্ষমতায় যাব’ বলা আর ‘কেন আমরা’ বলা—দুটি এক নয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই জায়গাটাই ধরেছে। তারা নিজেদেরকে শুধু বিরোধী নয়, বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতিতে বিকল্প মানে শুধু বিরোধিতা নয়; বিকল্প মানে ভিন্ন আচরণ, ভিন্ন সংগঠন, ভিন্ন শাসনের প্রতিশ্রুতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডাম প্রেজেভর্সকি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন ক্ষমতা হারানোর ভয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত করে।’ এই ভয় দুই পক্ষের মধ্যেই ছিল। এই ভয়ই প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস কোনো শূন্য সময় ছিল না। এটি ছিল শাসনের সময়, পরীক্ষার সময়। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবে কী করেছে, মানুষ তা দেখেছে। শুধু শোনেনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে বিচার করতে হয় তার আচরণ দিয়ে, বক্তব্য দিয়ে নয়।’ এই নির্বাচনে সেই বিচারই হচ্ছে।
বিএনপি বড় দল, এটি সত্য। কিন্তু বড় দল মানেই নির্ভুল দল নয়। ১৮ মাসে বিএনপি সব জায়গায় ইতিবাচক ছাপ রাখতে পারেনি। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল, নেতৃত্বের সমন্বয় ঘাটতি ছিল। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে ৫০-এর অধিক। কিছু জায়গায় পুরনো সংস্কৃতির অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্বলতাগুলো অন্যদের সুযোগ দিয়েছে, ভোটারদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনীতিতে প্রশ্নই প্রতিযোগিতা তৈরি করে।
জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ ধারণা ছিল—আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি হেসেখেলে জিতবে। রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে আর সেই শূন্যতা পূরণ করবে একমাত্র বড় দল। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। রাজনীতি কখনো শূন্যতা পছন্দ করে না। শূন্যতা দেখলেই নতুন শক্তি উঠে আসে, বিকল্প সংগঠিত হয়, পুরনো দল নিজেদের নতুন করে সাজায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডালের ভাষায়, ‘গণতন্ত্রের প্রাণ হলো প্রতিযোগিতা।’ প্রতিযোগিতা না থাকলে নির্বাচন থাকে, গণতন্ত্র থাকে না। এই নির্বাচনে সেই প্রতিযোগিতা আছে, তীব্রভাবে আছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নিজেদেরকে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তারা মাঠে কাজ করেছে, সাংগঠনিক বিস্তার ঘটিয়েছে, আন্দোলনের স্মৃতি ব্যবহার করেছে। ভোটারদের সামনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—‘বিকল্প আমরাই’। বিএনপি ভেবেছিল আবেগই যথেষ্ট হবে। কিন্তু রাজনীতিতে আবেগ টেকে না; সংগঠন টেকে, কাজ টেকে, বার্তা টেকে। ফলে নির্বাচন একমুখী হয়নি; দ্বিমুখী হয়েছে, সমানে সমান হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস ছিল এক অন্তর্বর্তী সময়। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে ছিল, আন্দোলনে ছিল, রাস্তায় ছিল, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই সময়টাই ছিল প্রকৃত পরীক্ষা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রাতিষ্ঠানিকতা বোঝা যায় সংকটকালে তার আচরণে।’ জুলাই-পরবর্তী ১৮ মাস ছিল সেই সংকটকাল।
এই সময়ে কারা কী করেছে? কে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে? কে সুবিধাবাদীদের আশ্রয় দিয়েছে? কে স্বচ্ছতা দেখিয়েছে? কে প্রতিশোধ নিয়েছে? কে সংযম দেখিয়েছে? ভোটাররা এখন এসব প্রশ্ন করছে—আবেগ দিয়ে নয়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে। আগে ভোট হতো প্রতীকে। জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময়। কেউ সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখেছে, কেউ এড়িয়ে গেছে। এই সময়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল—স্বচ্ছতা, সংযম, জবাবদিহি। যেখানে তা দেখা গেছে, সেখানে আস্থা বেড়েছে। যেখানে দেখা যায়নি, সেখানে সন্দেহ জন্মেছে। ভোটাররা এখন আবেগ নয়, আচরণকে মূল্যায়ন করছে। এটাই বড় পরিবর্তন।
বিএনপি দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতি করেছে, আন্দোলনের রাজনীতি করেছে। কিন্তু আন্দোলন আর শাসন—দুই জিনিস এক নয়। ১৮ মাসে বিএনপির সামনে সুযোগ ছিল নিজেকে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য শক্তি হিসেবে প্রমাণ করার। তারা কতটা পেরেছে? দলীয় শৃঙ্খলা কতটা বজায় ছিল? স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে? দুর্নীতি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কতটা দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছিল? এই প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে। অনেক ভোটার বলছেন—বিএনপি এখনো অতীতের ছায়া পুরো কাটাতে পারেনি। আবার অনেকেই বলছেন—বিএনপি সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক শক্তি, স্থিতিশীল সরকার গঠনে তারা সক্ষম। এই দ্বিধাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বাড়িয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট শুরুতে আন্ডারডগ ছিল। কিন্তু তারা এক জায়গায় এগিয়েছে—মাঠ সংগঠন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে। তাদের বার্তা স্পষ্ট—‘আমরা বিকল্প, আমরা সংগঠিত।’ রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা বড় শক্তি, অস্পষ্টতা দুর্বলতা। ১১ দলীয় জোট নিজেদেরকে ‘জুলাই বিপ্লবের নৈতিক ধারক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এটি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সেটি ভোটই বলবে। কিন্তু তারা যে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে—তা অস্বীকারের উপায় নেই।
এবারের নির্বাচন শুধু দুই শক্তির নয়, ছোট দলগুলোও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছে। কিছু আসনে তারা ভোট কাটবে, কিছু জায়গায় তারা ভোটের ভারসাম্য বদলে দেবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাউরিস ডুভারজের মতে, ‘নির্বাচনী প্রতিযোগিতা শুধু বড় দল নয়, ছোট দলগুলোর আচরণেও নির্ধারিত হয়।’ এই নির্বাচনে সেটাই ঘটছে।
সবচেয়ে বড় কারণ ভোটার নিজে। ভোটার বদলেছে। আগে ভোটার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবত, এবার ভাবছে পছন্দ নিয়ে। ভোটার এখন প্রশ্ন করছে—কে ক্ষমতায় গেলে আমি নিরাপদ থাকব? কে প্রতিশোধ নেবে না? কে কথা রাখবে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি ডায়মন্ড বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের গভীরতা বোঝা যায় ভোটারের সচেতনতা দিয়ে।’ এই সচেতনতাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়েছে।
আগে অনিশ্চয়তা ছিল আতঙ্ক, এবার অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক। কে জিতবে—তা কেউ জানে না। এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। এই অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়াটাই বড় পরিবর্তন। এটি প্রতিযোগিতাকে তীব্র করেছে।
এবার নিয়ন্ত্রণহীন এক জায়গা আছে—সোশ্যাল মিডিয়া। এখানে একক বয়ান নেই। প্রতিটি দল নিজের কথা বলছে। প্রতিটি ভুল দ্রুত ছড়াচ্ছে, ভুল লুকানো যাচ্ছে না। ভালো কাজও চাপা পড়ছে না। এটিও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনে ঘি দিয়েছে। এখানে বিএনপি না জামায়াত কে এগিয়ে—সে আলোচনা জোরেশোরেই হয়েছে।
এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে কারণ—শূন্যতা ছিল কিন্তু একক দখল হয়নি। ক্ষমতা ছিল কিন্তু প্রশ্নহীন ছিল না। ভোটার ছিল কিন্তু নীরব ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা—এবার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক হয়েছে। আর অনিশ্চয়তা মানেই গণতন্ত্র জীবিত। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোনো দুর্বলতা নয়, এটি এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন—কোনো দলই হয়তো এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। হতে পারে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। ঝুলন্ত পার্লামেন্ট মানেই অস্থিরতা—এ ধারণা পুরো সত্য নয়। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে জোট সরকারই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরেন্ড লাইপহার্ট ‘কনসেনসাস ডেমোক্রেসি’-র কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিভক্ত সমাজে সমঝোতার রাজনীতি বেশি কার্যকর। বাংলাদেশ কি সেই পথে যাবে? নাকি শক্ত একক ম্যান্ডেট দেবে? উত্তর নির্ভর করছে ভোটারদের ওপর।
এবার ভোটারদের মধ্যে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস আছে। তারা বলছে—‘ভোটটা আমি দেব। কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ ১৭ বছর পর এই অনুভূতি ছোট নয়। এটি গণতন্ত্রের অক্সিজেন। ভোটাররা এবার শুধু দল দেখছে না; তারা দেখছে—কে সংযত? কে সহনশীল? কে ক্ষমতা পেলে প্রতিশোধ নেবে না? কে চাঁদাবাজি করবে না, দখলে নামবে না?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি ডায়মন্ড বলেছেন, ‘গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন পরাজিত পক্ষও ফল মেনে নেয়।’ এই নির্বাচনের আরেকটি পরীক্ষা সেখানেই।
আওয়ামী শাসনের সময় নির্বাচন ছিল একপেশে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল অন্য অর্থে। এবার অনিশ্চয়তা আছে, কিন্তু তা গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তা। কে জিতবে—সেটি জানা নেই। এটাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে নিশ্চিত ফল অস্বাভাবিক, অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক। এই নির্বাচন তাই ভিন্ন, এই নির্বাচন তাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি জিততে পারে, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জিততে পারে, ঝুলন্ত পার্লামেন্টও হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় জয় হবে যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, যদি ফল মেনে নেওয়া হয়, যদি সহিংসতা না হয়। কারণ গণতন্ত্র শুধু ভোটে নয়—আচরণে, সংস্কৃতিতে, সহনশীলতায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, এটি রাজনৈতিক চরিত্রের রায়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ।
বাংলাদেশ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। পেছনে ১৭ বছরের ছায়া, সামনে অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাবনাময় পথ। শেষ কথা একটাই—এই নির্বাচন যত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তত বেশি স্বাস্থ্যকর। এই নির্বাচন যত বেশি মূল্যায়নভিত্তিক, তত বেশি পরিণত। গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে ভালো লক্ষণ আর কী হতে পারে?

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের সামনে এক ঐতিহাসিক দিন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ১৭ বছর পর এক ভিন্ন ধরনের নির্বাচন। ভয় কম, আগ্রহ বেশি। মানুষ বলছে—‘ভোটটা এবার আমি নিজেই দেব।’ এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়। এটা চরিত্রের পরীক্ষা, বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা। গত ১৮ মাসের হিসাবের পরীক্ষা।
প্রশ্ন একটাই—কে ক্ষমতায় যাবে? বিএনপি? নাকি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট? আরেকটি প্রশ্নও ভাসছে—কেউ কি এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবে? নাকি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে? কিন্তু আসল প্রশ্ন অন্যখানে। কেন এই নির্বাচন এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠল? আর কেন জুলাই বিপ্লবের পরের ১৮ মাস আজ এত গুরুত্ব পাচ্ছে?
নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। এটি একাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের যোগফল। জুলাই বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া বাস্তবতাই এই প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি শুরুতে বিএনপির জন্য সুবিধা মনে হয়েছিল। ধারণা ছিল—বড় দল, পুরনো নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব; ফলাফল নিশ্চিত। কিন্তু রাজনীতিতে সুবিধা স্থায়ী নয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিওভান্নি সার্তোরি বলেছিলেন, ‘দলীয় ব্যবস্থা তখনই স্থিতিশীল থাকে, যখন বিকল্পগুলো দুর্বল থাকে।’ এখানে বিকল্প দুর্বল থাকেনি। আওয়ামী লীগের শূন্যতা বিএনপি এককভাবে দখল করতে পারেনি। কারণ তারা শূন্যতা পূরণের ভাষা তৈরি করতে পারেনি। শুধু ‘আমরা ক্ষমতায় যাব’ বলা আর ‘কেন আমরা’ বলা—দুটি এক নয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই জায়গাটাই ধরেছে। তারা নিজেদেরকে শুধু বিরোধী নয়, বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতিতে বিকল্প মানে শুধু বিরোধিতা নয়; বিকল্প মানে ভিন্ন আচরণ, ভিন্ন সংগঠন, ভিন্ন শাসনের প্রতিশ্রুতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডাম প্রেজেভর্সকি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন ক্ষমতা হারানোর ভয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত করে।’ এই ভয় দুই পক্ষের মধ্যেই ছিল। এই ভয়ই প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস কোনো শূন্য সময় ছিল না। এটি ছিল শাসনের সময়, পরীক্ষার সময়। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবে কী করেছে, মানুষ তা দেখেছে। শুধু শোনেনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে বিচার করতে হয় তার আচরণ দিয়ে, বক্তব্য দিয়ে নয়।’ এই নির্বাচনে সেই বিচারই হচ্ছে।
বিএনপি বড় দল, এটি সত্য। কিন্তু বড় দল মানেই নির্ভুল দল নয়। ১৮ মাসে বিএনপি সব জায়গায় ইতিবাচক ছাপ রাখতে পারেনি। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল, নেতৃত্বের সমন্বয় ঘাটতি ছিল। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে ৫০-এর অধিক। কিছু জায়গায় পুরনো সংস্কৃতির অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্বলতাগুলো অন্যদের সুযোগ দিয়েছে, ভোটারদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনীতিতে প্রশ্নই প্রতিযোগিতা তৈরি করে।
জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ ধারণা ছিল—আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি হেসেখেলে জিতবে। রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে আর সেই শূন্যতা পূরণ করবে একমাত্র বড় দল। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। রাজনীতি কখনো শূন্যতা পছন্দ করে না। শূন্যতা দেখলেই নতুন শক্তি উঠে আসে, বিকল্প সংগঠিত হয়, পুরনো দল নিজেদের নতুন করে সাজায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডালের ভাষায়, ‘গণতন্ত্রের প্রাণ হলো প্রতিযোগিতা।’ প্রতিযোগিতা না থাকলে নির্বাচন থাকে, গণতন্ত্র থাকে না। এই নির্বাচনে সেই প্রতিযোগিতা আছে, তীব্রভাবে আছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নিজেদেরকে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তারা মাঠে কাজ করেছে, সাংগঠনিক বিস্তার ঘটিয়েছে, আন্দোলনের স্মৃতি ব্যবহার করেছে। ভোটারদের সামনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—‘বিকল্প আমরাই’। বিএনপি ভেবেছিল আবেগই যথেষ্ট হবে। কিন্তু রাজনীতিতে আবেগ টেকে না; সংগঠন টেকে, কাজ টেকে, বার্তা টেকে। ফলে নির্বাচন একমুখী হয়নি; দ্বিমুখী হয়েছে, সমানে সমান হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস ছিল এক অন্তর্বর্তী সময়। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে ছিল, আন্দোলনে ছিল, রাস্তায় ছিল, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই সময়টাই ছিল প্রকৃত পরীক্ষা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রাতিষ্ঠানিকতা বোঝা যায় সংকটকালে তার আচরণে।’ জুলাই-পরবর্তী ১৮ মাস ছিল সেই সংকটকাল।
এই সময়ে কারা কী করেছে? কে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে? কে সুবিধাবাদীদের আশ্রয় দিয়েছে? কে স্বচ্ছতা দেখিয়েছে? কে প্রতিশোধ নিয়েছে? কে সংযম দেখিয়েছে? ভোটাররা এখন এসব প্রশ্ন করছে—আবেগ দিয়ে নয়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে। আগে ভোট হতো প্রতীকে। জুলাই বিপ্লবের পর ১৮ মাস ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময়। কেউ সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখেছে, কেউ এড়িয়ে গেছে। এই সময়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল—স্বচ্ছতা, সংযম, জবাবদিহি। যেখানে তা দেখা গেছে, সেখানে আস্থা বেড়েছে। যেখানে দেখা যায়নি, সেখানে সন্দেহ জন্মেছে। ভোটাররা এখন আবেগ নয়, আচরণকে মূল্যায়ন করছে। এটাই বড় পরিবর্তন।
বিএনপি দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতি করেছে, আন্দোলনের রাজনীতি করেছে। কিন্তু আন্দোলন আর শাসন—দুই জিনিস এক নয়। ১৮ মাসে বিএনপির সামনে সুযোগ ছিল নিজেকে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য শক্তি হিসেবে প্রমাণ করার। তারা কতটা পেরেছে? দলীয় শৃঙ্খলা কতটা বজায় ছিল? স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে? দুর্নীতি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কতটা দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছিল? এই প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে। অনেক ভোটার বলছেন—বিএনপি এখনো অতীতের ছায়া পুরো কাটাতে পারেনি। আবার অনেকেই বলছেন—বিএনপি সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক শক্তি, স্থিতিশীল সরকার গঠনে তারা সক্ষম। এই দ্বিধাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বাড়িয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট শুরুতে আন্ডারডগ ছিল। কিন্তু তারা এক জায়গায় এগিয়েছে—মাঠ সংগঠন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে। তাদের বার্তা স্পষ্ট—‘আমরা বিকল্প, আমরা সংগঠিত।’ রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা বড় শক্তি, অস্পষ্টতা দুর্বলতা। ১১ দলীয় জোট নিজেদেরকে ‘জুলাই বিপ্লবের নৈতিক ধারক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এটি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সেটি ভোটই বলবে। কিন্তু তারা যে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে—তা অস্বীকারের উপায় নেই।
এবারের নির্বাচন শুধু দুই শক্তির নয়, ছোট দলগুলোও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছে। কিছু আসনে তারা ভোট কাটবে, কিছু জায়গায় তারা ভোটের ভারসাম্য বদলে দেবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাউরিস ডুভারজের মতে, ‘নির্বাচনী প্রতিযোগিতা শুধু বড় দল নয়, ছোট দলগুলোর আচরণেও নির্ধারিত হয়।’ এই নির্বাচনে সেটাই ঘটছে।
সবচেয়ে বড় কারণ ভোটার নিজে। ভোটার বদলেছে। আগে ভোটার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবত, এবার ভাবছে পছন্দ নিয়ে। ভোটার এখন প্রশ্ন করছে—কে ক্ষমতায় গেলে আমি নিরাপদ থাকব? কে প্রতিশোধ নেবে না? কে কথা রাখবে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি ডায়মন্ড বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের গভীরতা বোঝা যায় ভোটারের সচেতনতা দিয়ে।’ এই সচেতনতাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়েছে।
আগে অনিশ্চয়তা ছিল আতঙ্ক, এবার অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক। কে জিতবে—তা কেউ জানে না। এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। এই অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়াটাই বড় পরিবর্তন। এটি প্রতিযোগিতাকে তীব্র করেছে।
এবার নিয়ন্ত্রণহীন এক জায়গা আছে—সোশ্যাল মিডিয়া। এখানে একক বয়ান নেই। প্রতিটি দল নিজের কথা বলছে। প্রতিটি ভুল দ্রুত ছড়াচ্ছে, ভুল লুকানো যাচ্ছে না। ভালো কাজও চাপা পড়ছে না। এটিও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনে ঘি দিয়েছে। এখানে বিএনপি না জামায়াত কে এগিয়ে—সে আলোচনা জোরেশোরেই হয়েছে।
এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে কারণ—শূন্যতা ছিল কিন্তু একক দখল হয়নি। ক্ষমতা ছিল কিন্তু প্রশ্নহীন ছিল না। ভোটার ছিল কিন্তু নীরব ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা—এবার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক হয়েছে। আর অনিশ্চয়তা মানেই গণতন্ত্র জীবিত। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোনো দুর্বলতা নয়, এটি এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন—কোনো দলই হয়তো এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। হতে পারে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। ঝুলন্ত পার্লামেন্ট মানেই অস্থিরতা—এ ধারণা পুরো সত্য নয়। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে জোট সরকারই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরেন্ড লাইপহার্ট ‘কনসেনসাস ডেমোক্রেসি’-র কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিভক্ত সমাজে সমঝোতার রাজনীতি বেশি কার্যকর। বাংলাদেশ কি সেই পথে যাবে? নাকি শক্ত একক ম্যান্ডেট দেবে? উত্তর নির্ভর করছে ভোটারদের ওপর।
এবার ভোটারদের মধ্যে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস আছে। তারা বলছে—‘ভোটটা আমি দেব। কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ ১৭ বছর পর এই অনুভূতি ছোট নয়। এটি গণতন্ত্রের অক্সিজেন। ভোটাররা এবার শুধু দল দেখছে না; তারা দেখছে—কে সংযত? কে সহনশীল? কে ক্ষমতা পেলে প্রতিশোধ নেবে না? কে চাঁদাবাজি করবে না, দখলে নামবে না?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি ডায়মন্ড বলেছেন, ‘গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন পরাজিত পক্ষও ফল মেনে নেয়।’ এই নির্বাচনের আরেকটি পরীক্ষা সেখানেই।
আওয়ামী শাসনের সময় নির্বাচন ছিল একপেশে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল অন্য অর্থে। এবার অনিশ্চয়তা আছে, কিন্তু তা গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তা। কে জিতবে—সেটি জানা নেই। এটাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে নিশ্চিত ফল অস্বাভাবিক, অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক। এই নির্বাচন তাই ভিন্ন, এই নির্বাচন তাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি জিততে পারে, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জিততে পারে, ঝুলন্ত পার্লামেন্টও হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় জয় হবে যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, যদি ফল মেনে নেওয়া হয়, যদি সহিংসতা না হয়। কারণ গণতন্ত্র শুধু ভোটে নয়—আচরণে, সংস্কৃতিতে, সহনশীলতায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, এটি রাজনৈতিক চরিত্রের রায়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ।
বাংলাদেশ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। পেছনে ১৭ বছরের ছায়া, সামনে অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাবনাময় পথ। শেষ কথা একটাই—এই নির্বাচন যত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তত বেশি স্বাস্থ্যকর। এই নির্বাচন যত বেশি মূল্যায়নভিত্তিক, তত বেশি পরিণত। গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে ভালো লক্ষণ আর কী হতে পারে?

ভোট আর হতে কতক্ষণ! সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির আকাশে ভবিষ্যদ্বাণীর মেঘ ততই ঘন হচ্ছে। তবে এ ভবিষ্যদ্বাণী করতে জ্যোতিষীর দরকার নেই—বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসই যথেষ্ট।
২ ঘণ্টা আগে
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিবর্তিত বাংলাদেশে এই নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের অগ্নিপরীক্ষা।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায় পার করে আমরা এমন এক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ।
২ ঘণ্টা আগে
নরেন্দ্র মোদি যখন পাহাড়ে ধ্যান করছিলেন, এস জয়শঙ্কর তখন স্কুলে পড়ছিলেন, আর বাংলাদেশ তখন স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নিচ্ছিল। আমি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের সেই দিনটিতে যখন জেনারেল অরোরা ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণের দলিলে সই করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাকে একটি উচ্চপর্যায়ের
৮ ঘণ্টা আগে