সৈয়দ মিজবাহ উদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি ঢাকাসহ সারা দেশে একটি বাক্য অদ্ভুতভাবে ভাইরাল হয়েছে, “রাগ করলা”? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ এটি নিয়ে হাস্যরস করছে, ভিডিও বানাচ্ছে, টেলিভিশন চ্যানেলেও সেটিকে আলোচনার উপকরণে পরিণত করা হয়েছে। অনেকের মত আমিও কৌতূহলী হয়েছিলাম। চেষ্টা করেছি মূল বক্তার কাছে পৌঁছাতে, জানতে, আসলে কী ঘটছে, কেন ঘটছে, এবং এই ঘটনার পেছনে সমাজ-মনস্তত্ত্বের কোন বাস্তবতা কাজ করছে?
কারণ বিষয়টি শুধু একটি ভাইরাল সংলাপের নয়। আমাদের বর্তমান সময়ের একটি সামাজিক ভাইব—প্রতিচ্ছবি।
তথ্যপ্রযুক্তির উত্তাল অগ্রগতি বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া গোটা বিশ্ব তো বটেই আমাদের বাংলাদেশী রক্ষণশীল সমাজকেও দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এর ইতিবাচক দিক যেমন আছে, তেমনি উদ্বেগের জায়গাও আছে। সন্দেহ নেই, নতুন প্রজন্ম আজ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল এবং মানবিক। তারা অসংখ্য ভালো কাজ করছে, অসহায় দুর্গত দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার, সাহসী কথা বলছে—স্পিকিং ট্রুথ টু দ্য পাওয়ার। কিন্তু একই সঙ্গে এই প্রজন্ম চরম আবেগপ্রবণ। আর এই আবেগ যদি সঠিক পথের দিশা না পায়, তবে সেটিই কখনও কখনও ভুল মত ও পথকে জনপ্রিয় বা নিদেন পক্ষে নরমালাইজ করে তুলতে পারে। ব্যক্তি জীবন তো বটেই, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় আচারে সেটা হয়ে উঠতে পারে ক্ষতির বা অবক্ষয়ের কারণ। উদ্বেগটা সেখানেই।
আমাদের যাদের বিশ্বের কোথাও কোন শাখা নেই, অর্থাৎ হৃদয়ে শুধুই বাংলাদেশ, আমরা যারা গ্রীষ্ম—বর্ষা; শীত—বসন্তে, সুখে—দুঃখে এই দেশ ছেড়ে যাবার কথা কল্পনাও করতে পারিনা, আমরা যারা এই সমাজে পঞ্চাশ বা ষাট বছর কাটিয়েছি, অবশ্যই দেশের, দশের প্রতি আমাদের একটা দায়বদ্ধতা ও নৈতিক দায়িত্ব আছে। আমাদের জেন জি, আমাদের তরুণ—যুবকদের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য নয়; বরং তাদের সামনে জাতীয় ঐক্যের, দেশপ্রেমের, গঠনমূলক অভিজ্ঞতার আলো তুলে ধরা। কারণ প্রতিটি সমাজেই প্রবীণদের একটি ভূমিকা আছে, থাকে—সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করা।
সমাজবিজ্ঞানীরা যুগে যুগে সে কাজটিই করেছেন। আমাদের দেশেও বহু গুণীজন আছেন, যারা মাদকবিরোধী জনসচেতনতা থেকে শুরু করে, অপসংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয়রোধ, ইত্যাদি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ নিরলসভাবে করছেন। কিন্তু কিছু বিষয়ে উনারা, এবং আমরা সবাই কেন জানি অদ্ভুতভাবে কনফিউজড, নির্লিপ্ত কিংবা কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি।
যেমন এই ব্যাপারটি, এই পৃথিবীতে সত্যিই কি এমন কেউ আছে, যে নিশ্চিতভাবে আপনার বা আমার ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে? অথবা টিয়া পাখি বা অক্টোপাস বা অন্য কোন প্রাণী দিয়ে ভাগ্য গণনা করে বলে দেয়? অথবা জ্বীন সাধনা, তাবিজ, কবিরাজি বা অলৌকিক শক্তির নামে মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি করে? মানব জীবনের সকল সমস্যা যেমন বিয়ে, চাকুরী, ব্যবসা, নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান জন্মদান ইত্যাদি জাগতিক যাবতীয় সমস্যা সমূহের বিষয়ভিত্তিক একনিমেষেই সমাধান দিয়ে দেয়? ভাবুন তো! সে যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ জানত, এত ক্ষমতাশালী হত, তাহলে সবার আগে কি নিজের ভাগ্যই বদলে ফেলত না?
তবুও সমাজে এসব অলীক গল্প, চতুর প্রতারণা টিকে আছে। কেন? কীভাবে?
কারণ, কুসংস্কার শুধু অশিক্ষা থেকে জন্মায় না। কখনও কখনও তা জন্মায় অনিশ্চয়তা, ভয়, আবেগ এবং দ্রুত সমাধান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে। অনেক সময় লোভ লালসা বা হিংসা থেকে। আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যখন কোনো বিষয় ভাইরাল হয়, তখন সেটি সত্য কি মিথ্যা— তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় সেটি “এনগেজিং” কি না; ভাইরাল হবার মত আশানুরূপ পরিমাণ ভিউ বেড়েছে কি না।
এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। আমরা কি অজান্তেই এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করছি, বা তৈরিতে সহায়তা করছি যেখানে অসত্য, অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণাও বিনোদনের অংশ হয়ে যাচ্ছে? আমরা কি ভাইরাল হওয়ার নেশায় এমন মানুষদের আরও জনপ্রিয় করে তুলছি, যারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়?
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এসব দাবীতে বিশ্বাস আনা গ্রহণযোগ্য নয়—সেটি একটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু আমাদের মত অতি সাধারণ আমজনতার ততোধিক সাধারণ যুক্তিবোধ দিয়েও একটি প্রশ্ন করা যায়: কোনো অসত্য বা ভিত্তিহীন বিষয়কে প্রচার করা কি সমাজের উপকার করছে, নাকি ক্ষতি করছে? বিশেষ করে যখন আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের—আমাদের গুণীজনের নির্লিপ্ততা, “মৌনতা সম্মতির লক্ষণ,” এই বিচারে সেই সব প্রচার প্রোপাগান্ডা কে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। আর আমাদের তরুণ প্রজন্ম সে সকল অসত্য কথনের কারণে সৃষ্ট সামাজিক “রেড লাইন” অতিক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সমূহকে “নরমাল” হিসেবে দেখতে শুরু করে।
ছত্রিশ জুলাই এর অদম্য অকুতোভয় জেন জি-কে দোষারোপ করা সহজ। কিন্তু তাদের সামনে সঠিক পথের দিশা দেখানো অনেক কঠিন—এবং সেটিই আমাদের প্রবীন প্রজন্মের দায়িত্ব। সিদ্ধান্ত গ্রহণ অবশ্যই তাদের এখতিয়ার; কিন্তু অভিজ্ঞতার আলো পৌঁছে দেওয়ার আপাত কঠিন কাজটি আমাদেরই করতে হবে। আমাদের উচিত এমন একটি সমাজ গড়ে তোলায় সহায়তা করা যেখানে কৌতূহল থাকবে, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস নয়; যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে নয়; যেখানে ভাইরাল হওয়ার চেয়ে সত্য ও প্রজ্ঞা বেশি মূল্যবান হবে।
বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় তরুণ জাতি। এই জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক জাগরণও জরুরি। কুসংস্কার, অসৎ মিথ্যাচার ও প্রতারণার অন্ধকার দূর করে যুক্তি, জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের সমাজ। আর সেই আলোর বন্যায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণপ্রিয় আগামীর বাংলাদেশ।
কমোডর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ (অবসরপ্রাপ্ত): মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইএমআরএডি)

সম্প্রতি ঢাকাসহ সারা দেশে একটি বাক্য অদ্ভুতভাবে ভাইরাল হয়েছে, “রাগ করলা”? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ এটি নিয়ে হাস্যরস করছে, ভিডিও বানাচ্ছে, টেলিভিশন চ্যানেলেও সেটিকে আলোচনার উপকরণে পরিণত করা হয়েছে। অনেকের মত আমিও কৌতূহলী হয়েছিলাম। চেষ্টা করেছি মূল বক্তার কাছে পৌঁছাতে, জানতে, আসলে কী ঘটছে, কেন ঘটছে, এবং এই ঘটনার পেছনে সমাজ-মনস্তত্ত্বের কোন বাস্তবতা কাজ করছে?
কারণ বিষয়টি শুধু একটি ভাইরাল সংলাপের নয়। আমাদের বর্তমান সময়ের একটি সামাজিক ভাইব—প্রতিচ্ছবি।
তথ্যপ্রযুক্তির উত্তাল অগ্রগতি বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া গোটা বিশ্ব তো বটেই আমাদের বাংলাদেশী রক্ষণশীল সমাজকেও দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এর ইতিবাচক দিক যেমন আছে, তেমনি উদ্বেগের জায়গাও আছে। সন্দেহ নেই, নতুন প্রজন্ম আজ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল এবং মানবিক। তারা অসংখ্য ভালো কাজ করছে, অসহায় দুর্গত দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার, সাহসী কথা বলছে—স্পিকিং ট্রুথ টু দ্য পাওয়ার। কিন্তু একই সঙ্গে এই প্রজন্ম চরম আবেগপ্রবণ। আর এই আবেগ যদি সঠিক পথের দিশা না পায়, তবে সেটিই কখনও কখনও ভুল মত ও পথকে জনপ্রিয় বা নিদেন পক্ষে নরমালাইজ করে তুলতে পারে। ব্যক্তি জীবন তো বটেই, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় আচারে সেটা হয়ে উঠতে পারে ক্ষতির বা অবক্ষয়ের কারণ। উদ্বেগটা সেখানেই।
আমাদের যাদের বিশ্বের কোথাও কোন শাখা নেই, অর্থাৎ হৃদয়ে শুধুই বাংলাদেশ, আমরা যারা গ্রীষ্ম—বর্ষা; শীত—বসন্তে, সুখে—দুঃখে এই দেশ ছেড়ে যাবার কথা কল্পনাও করতে পারিনা, আমরা যারা এই সমাজে পঞ্চাশ বা ষাট বছর কাটিয়েছি, অবশ্যই দেশের, দশের প্রতি আমাদের একটা দায়বদ্ধতা ও নৈতিক দায়িত্ব আছে। আমাদের জেন জি, আমাদের তরুণ—যুবকদের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য নয়; বরং তাদের সামনে জাতীয় ঐক্যের, দেশপ্রেমের, গঠনমূলক অভিজ্ঞতার আলো তুলে ধরা। কারণ প্রতিটি সমাজেই প্রবীণদের একটি ভূমিকা আছে, থাকে—সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করা।
সমাজবিজ্ঞানীরা যুগে যুগে সে কাজটিই করেছেন। আমাদের দেশেও বহু গুণীজন আছেন, যারা মাদকবিরোধী জনসচেতনতা থেকে শুরু করে, অপসংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয়রোধ, ইত্যাদি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ নিরলসভাবে করছেন। কিন্তু কিছু বিষয়ে উনারা, এবং আমরা সবাই কেন জানি অদ্ভুতভাবে কনফিউজড, নির্লিপ্ত কিংবা কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি।
যেমন এই ব্যাপারটি, এই পৃথিবীতে সত্যিই কি এমন কেউ আছে, যে নিশ্চিতভাবে আপনার বা আমার ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে? অথবা টিয়া পাখি বা অক্টোপাস বা অন্য কোন প্রাণী দিয়ে ভাগ্য গণনা করে বলে দেয়? অথবা জ্বীন সাধনা, তাবিজ, কবিরাজি বা অলৌকিক শক্তির নামে মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি করে? মানব জীবনের সকল সমস্যা যেমন বিয়ে, চাকুরী, ব্যবসা, নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান জন্মদান ইত্যাদি জাগতিক যাবতীয় সমস্যা সমূহের বিষয়ভিত্তিক একনিমেষেই সমাধান দিয়ে দেয়? ভাবুন তো! সে যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ জানত, এত ক্ষমতাশালী হত, তাহলে সবার আগে কি নিজের ভাগ্যই বদলে ফেলত না?
তবুও সমাজে এসব অলীক গল্প, চতুর প্রতারণা টিকে আছে। কেন? কীভাবে?
কারণ, কুসংস্কার শুধু অশিক্ষা থেকে জন্মায় না। কখনও কখনও তা জন্মায় অনিশ্চয়তা, ভয়, আবেগ এবং দ্রুত সমাধান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে। অনেক সময় লোভ লালসা বা হিংসা থেকে। আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যখন কোনো বিষয় ভাইরাল হয়, তখন সেটি সত্য কি মিথ্যা— তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় সেটি “এনগেজিং” কি না; ভাইরাল হবার মত আশানুরূপ পরিমাণ ভিউ বেড়েছে কি না।
এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। আমরা কি অজান্তেই এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করছি, বা তৈরিতে সহায়তা করছি যেখানে অসত্য, অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণাও বিনোদনের অংশ হয়ে যাচ্ছে? আমরা কি ভাইরাল হওয়ার নেশায় এমন মানুষদের আরও জনপ্রিয় করে তুলছি, যারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়?
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এসব দাবীতে বিশ্বাস আনা গ্রহণযোগ্য নয়—সেটি একটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু আমাদের মত অতি সাধারণ আমজনতার ততোধিক সাধারণ যুক্তিবোধ দিয়েও একটি প্রশ্ন করা যায়: কোনো অসত্য বা ভিত্তিহীন বিষয়কে প্রচার করা কি সমাজের উপকার করছে, নাকি ক্ষতি করছে? বিশেষ করে যখন আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের—আমাদের গুণীজনের নির্লিপ্ততা, “মৌনতা সম্মতির লক্ষণ,” এই বিচারে সেই সব প্রচার প্রোপাগান্ডা কে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। আর আমাদের তরুণ প্রজন্ম সে সকল অসত্য কথনের কারণে সৃষ্ট সামাজিক “রেড লাইন” অতিক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সমূহকে “নরমাল” হিসেবে দেখতে শুরু করে।
ছত্রিশ জুলাই এর অদম্য অকুতোভয় জেন জি-কে দোষারোপ করা সহজ। কিন্তু তাদের সামনে সঠিক পথের দিশা দেখানো অনেক কঠিন—এবং সেটিই আমাদের প্রবীন প্রজন্মের দায়িত্ব। সিদ্ধান্ত গ্রহণ অবশ্যই তাদের এখতিয়ার; কিন্তু অভিজ্ঞতার আলো পৌঁছে দেওয়ার আপাত কঠিন কাজটি আমাদেরই করতে হবে। আমাদের উচিত এমন একটি সমাজ গড়ে তোলায় সহায়তা করা যেখানে কৌতূহল থাকবে, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস নয়; যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে নয়; যেখানে ভাইরাল হওয়ার চেয়ে সত্য ও প্রজ্ঞা বেশি মূল্যবান হবে।
বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় তরুণ জাতি। এই জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক জাগরণও জরুরি। কুসংস্কার, অসৎ মিথ্যাচার ও প্রতারণার অন্ধকার দূর করে যুক্তি, জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের সমাজ। আর সেই আলোর বন্যায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণপ্রিয় আগামীর বাংলাদেশ।
কমোডর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ (অবসরপ্রাপ্ত): মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইএমআরএডি)

‘এবার ৭ গড়ি পুলিশ পাঠিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ।’ এরকম একটি সংবাদ আসে রবিবার মধ্যরাতে। খবরে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুলিশ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ঈদ ব্যবস্থাপনায় সরকার বিশেষ তৎপর ছিল বলেই মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০টি বিশেষ নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ফলে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছিল। তবে সামগ্রিক চিত্র বলছে, কিছু মৌলিক সংকটের জায়গা এখনো বিদ্যমান।
৪ ঘণ্টা আগে
ঈদের সময় পত্রিকা পাঁচ-ছয় দিন বন্ধ থাকায় কি পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক সত্যিই আলগা হয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। পত্রিকা ছয় দিন বন্ধ, পাঠক কি ইতিমধ্যে আরো বেশি ‘ডিজিটাল এলাকা’য় চলে গেছে? এই বিরতি কি কেবল সাময়িক ছুটি, নাকি দীর্ঘমেয়াদে পাঠকের অভ্যাস, আগ্রহ ও আনুগত্যে স্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
৬ ঘণ্টা আগে
দেশে অকটেন, পেট্রল এবং কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলেও সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন জাগে, এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর কতটা পড়ছে?
৭ ঘণ্টা আগে