স্ট্রিম সম্পাদকীয়

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূল থেকে জুনের শেষে দুটি নৌকা ছেড়ে যায় কক্সবাজার ও রাখাইনের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে। উদ্দেশ্য অবৈধভাবে ভিনদেশে পাড়ি দেওয়া। একটি নৌকা যাত্রার পরপরই নিখোঁজ হয়, অন্যটি ডুবে যায় ৮ জুলাই আয়ারওয়াদি উপকূলে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, দুই দুর্ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারাতে পারে বলে শঙ্কা। চলতি বছরই বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে প্রাণ হারিয়েছে আরও অনেকে, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গার পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
এগুলো দীর্ঘ সংকটের ধারাবাহিকতা, যার শিকড় অনেক গভীরে। আট বছর আগে মিয়ানমার জান্তার নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আজও কক্সবাজার শিবিরে রয়েছে। প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীই ক্ষমতায় আছে, যারা তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিল। এদিকে রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘাত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাহীনতাকে গভীরতর করেছে। এর মধ্যে দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা কমায় তাদের রেশনেও কাটছাঁট হয়েছে। ক্ষুধার সঙ্গে শঙ্কা মিলিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়, সেটাই মানুষকে ঠেলে দিয়েছে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও একই কারণে অভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা করছে এবং প্রাণ হারাচ্ছে। গত মার্চে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। কয়েকজন সুনামগঞ্জের বাসিন্দাও ছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই ভূমধ্যসাগরে ৫৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। ইতালির লাম্পেদুসা উপকূলে পৌঁছাতে গিয়ে গত এক বছরে একাধিক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুর খবর রয়েছে।
কাজের সংকট, বৈধ অভিবাসনের সীমিত সুযোগ আর দালালচক্রের প্রতারণা—এই তিন কারণে তরুণরা অনিয়মিত ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে। মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ বন্ধে অনেক তরুণই ঝুঁকেছে অবৈধ পথে। শ্রমবাজার বন্ধ হলে মানব পাচারচক্রও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতা বদলাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। শ্রম অভিবাসনের পথ নিয়মিত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে, যাতে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ না হয়। দুর্নীতি ও অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করা গেলে অনেক তরুণই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াবে না। মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও নিয়মিতভাবে চালাতে হবে। উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী তরুণদের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যকর প্রচারও চালানো দরকার।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়ও কম নয়। রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর ফল ভোগ করছে সবচেয়ে অসহায় মানুষেরা। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিপদগ্রস্ত নৌকা উদ্ধারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিপন্ন মানুষকে উদ্ধারের বদলে সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগসহ মিয়ানমারে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাও জরুরি। রোহিঙ্গাদের জন্য প্রকৃত সমাধান একটাই—নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তাসহ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। যত দিন সেটা না হচ্ছে, তত দিন তাদের ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া বিশ্বসম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
সাগরে প্রাণ হারানো কারও পরিচয় রোহিঙ্গা, কারও বাংলাদেশি। কিন্তু তাদের স্বপ্নটা একই—একটু নিরাপদ, কিছুটা স্বচ্ছল জীবনের খোঁজ। মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আঞ্চলিক সহযোগিতা আর মানবিক দায়বোধ। এ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে কোনো না কোনো পরিবারকে, তাদের স্বজন হারিয়ে। এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে আমরা কেবল সংখ্যা গুনে যাব, মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকবে নিছক পরিসংখ্যান।

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূল থেকে জুনের শেষে দুটি নৌকা ছেড়ে যায় কক্সবাজার ও রাখাইনের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে। উদ্দেশ্য অবৈধভাবে ভিনদেশে পাড়ি দেওয়া। একটি নৌকা যাত্রার পরপরই নিখোঁজ হয়, অন্যটি ডুবে যায় ৮ জুলাই আয়ারওয়াদি উপকূলে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, দুই দুর্ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারাতে পারে বলে শঙ্কা। চলতি বছরই বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে প্রাণ হারিয়েছে আরও অনেকে, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গার পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
এগুলো দীর্ঘ সংকটের ধারাবাহিকতা, যার শিকড় অনেক গভীরে। আট বছর আগে মিয়ানমার জান্তার নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আজও কক্সবাজার শিবিরে রয়েছে। প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীই ক্ষমতায় আছে, যারা তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিল। এদিকে রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘাত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাহীনতাকে গভীরতর করেছে। এর মধ্যে দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা কমায় তাদের রেশনেও কাটছাঁট হয়েছে। ক্ষুধার সঙ্গে শঙ্কা মিলিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়, সেটাই মানুষকে ঠেলে দিয়েছে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও একই কারণে অভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা করছে এবং প্রাণ হারাচ্ছে। গত মার্চে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। কয়েকজন সুনামগঞ্জের বাসিন্দাও ছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই ভূমধ্যসাগরে ৫৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। ইতালির লাম্পেদুসা উপকূলে পৌঁছাতে গিয়ে গত এক বছরে একাধিক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুর খবর রয়েছে।
কাজের সংকট, বৈধ অভিবাসনের সীমিত সুযোগ আর দালালচক্রের প্রতারণা—এই তিন কারণে তরুণরা অনিয়মিত ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে। মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ বন্ধে অনেক তরুণই ঝুঁকেছে অবৈধ পথে। শ্রমবাজার বন্ধ হলে মানব পাচারচক্রও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতা বদলাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। শ্রম অভিবাসনের পথ নিয়মিত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে, যাতে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ না হয়। দুর্নীতি ও অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করা গেলে অনেক তরুণই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াবে না। মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও নিয়মিতভাবে চালাতে হবে। উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী তরুণদের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যকর প্রচারও চালানো দরকার।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়ও কম নয়। রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর ফল ভোগ করছে সবচেয়ে অসহায় মানুষেরা। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিপদগ্রস্ত নৌকা উদ্ধারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিপন্ন মানুষকে উদ্ধারের বদলে সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগসহ মিয়ানমারে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাও জরুরি। রোহিঙ্গাদের জন্য প্রকৃত সমাধান একটাই—নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তাসহ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। যত দিন সেটা না হচ্ছে, তত দিন তাদের ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া বিশ্বসম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
সাগরে প্রাণ হারানো কারও পরিচয় রোহিঙ্গা, কারও বাংলাদেশি। কিন্তু তাদের স্বপ্নটা একই—একটু নিরাপদ, কিছুটা স্বচ্ছল জীবনের খোঁজ। মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আঞ্চলিক সহযোগিতা আর মানবিক দায়বোধ। এ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে কোনো না কোনো পরিবারকে, তাদের স্বজন হারিয়ে। এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে আমরা কেবল সংখ্যা গুনে যাব, মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকবে নিছক পরিসংখ্যান।
.png)

পার্বত্য চট্টগ্রামকে সাধারণত আমরা দুর্গম, পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জের চোখ দিয়ে দেখি। কিন্তু এই ভাবনার আড়ালে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় এক অব্যবহৃত সম্পদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে আমাদের উচ্চমূল্যের কৃষি, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং সবুজ অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র।
১ ঘণ্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ৫০ হাজার থেকে অর্ধেক করতে সম্প্রতি স্মারক জারি করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীয় নির্দেশনার কথা থাকলেও সচিবালয় নির্দেশমালার মারপ্যাচে সেটি স্থগিত করা হয়েছে। এটি আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে কাজ করে তার একটি ক্ষুদ্র নমুনা।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া 'সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১' একটি একটি টার্নিং পয়েন্ট। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে আবর্তিত করছে।
৮ ঘণ্টা আগে
এই বন্যা জনজীবনের পাশাপাশি আমাদের কৃষিখাতে যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টি ও প্লাবনের কারণে বিভিন্ন জেলার মৎস্য খামারগুলো ভেসে গেছে, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে প্রাণিসম্পদ খাতেও।
১৬ জুলাই ২০২৬