শরীফ ভূঁইয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষিত হয়েছে। এই রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই বিচারকাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো। অতীতের অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হয়েছে, তার চেয়ে এই বিচারটা অনেক ভালো হয়েছে, বিশেষ করে সাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়ে।
এই বিচার প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত এভিডেন্স এসেছে, যেমন—শেখ হাসিনার সরাসরি ফোন আলাপ, সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এখানে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একজন রাজসাক্ষী বা স্টেট উইটনেস ছিলেন, যিনি সরাসরি ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটেছে তা বলতে পেরেছেন।
পাশাপাশি, জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীন তদন্ত করে বলেছে যে, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ওই সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, আল-জাজিরা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তদন্ত করে বলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, ঘটনাগুলো সবার চোখের সামনে ঘটেছে। সবাই দেখেছে যে উনি গণভবনে বসে সভা করছেন, যেখানে ওনাদের পালিত সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ও বুদ্ধিজীবীরা গিয়ে তাঁকে কঠোরভাবে এটি দমন করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
গত মাসের শেষের দিকে হাসিনা তিনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে উনি বলেছেন যে, জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলন ওরকম কঠোরভাবে দমন করা ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল। কাজেই উনি তো নিজেই এই দমন কার্যক্রমে অপরাধ করার কথা প্রকারান্তে স্বীকার করলেন। হাসিনা বলছেন, ওইটা ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল, তার মানে তো উনি এক ধরনের দায়িত্ব স্বীকার করছেন যে উনি এগুলোর জন্য দায়ী, উনি এগুলো এভাবে করেছেন।
ভিডিও, অডিও রেকর্ড এবং ইউএন-এর রিপোর্ট রয়েছে। বাংলাদেশের আইসিটি ট্রাইব্যুনালে এত গ্রহনযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে এর আগে কোনো বিচার হয়েছে বলে মনে হয় না। কাজেই, এটা একটি আন্তর্জাতিক মানের বিচার বলেই মনে হয়।
আমরা গত বছর বাংলাদেশে একটি গভীর, মর্মস্পর্শী এবং বেদনাদায়ক অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছি। আমাদের চোখের সামনে এই তরুণ প্রজন্ম, শিশু— ছাদের উপর খেলছে এমন শিশু, বারান্দায় খেলছে শিশু, মায়ের কোলে শিশু— এদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে পঙ্গু করা হয়েছে, মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টের বিশ দিনে এতগুলো মানুষকে এভাবে খুন করা হয়েছে।
এই বেদনা, এই ক্ষতের জন্য দায়ী যারা, তাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সমাজ থেকে এই গভীর যন্ত্রণা দূর হবে না। সেই অ্যাকাউন্টেবিলিটির জন্য বিচার গুরুত্বপূর্ন। রায় হওয়ার পর শহীদ ও আহতদের পরিবার যে কান্না করছিল, এই গভীর বেদনা যারা এর মধ্য দিয়ে যাননি তারা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আমাদের সমাজ সুন্দরভাবে, রাজনীতি সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন ছিল। কাজেই এই রায় হওয়াটা, এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়াটা, আমি যুগান্তকারী মনে করি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের দেশে এইভাবে একটি স্বৈরাচারের উত্থান এবং এই সমস্ত অপরাধ— যা শুধু এই কয়দিনের নয়, বরং গত পনের-ষোলো বছর ধরে চলছে (যেমন: আয়না ঘর, গুম, ক্রসফায়ার)— তা আর চলতে পারবে না। ভবিষ্যতে আর কেউ বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে না, সেটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই রায়টা গুরুত্বপূর্ণ। এটা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
এখন প্রশ্ন হলো, হাসিনাকে ফেরত আনার ব্যাপারে সরকার কিভাবে এগোতে পারে? সরকার এখন এই রায় নিয়ে ভারতের সাথে দেনদরবার করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আরও বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে ভারতকে এতে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে, কাজেই একটি আইনগত প্রক্রিয়া আছে। তবে, এই আইনগত প্রক্রিয়া ভারত না মানলে ওকে বাধ্য করার কোনো পদ্ধতি আছে কিনা, তা দেখা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় নিছক একটি মামলার সমাপ্তি নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রার সূচনা। যে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষ একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারে।
ড. শরীফ ভূঁইয়া: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষিত হয়েছে। এই রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই বিচারকাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো। অতীতের অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হয়েছে, তার চেয়ে এই বিচারটা অনেক ভালো হয়েছে, বিশেষ করে সাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়ে।
এই বিচার প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত এভিডেন্স এসেছে, যেমন—শেখ হাসিনার সরাসরি ফোন আলাপ, সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এখানে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একজন রাজসাক্ষী বা স্টেট উইটনেস ছিলেন, যিনি সরাসরি ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটেছে তা বলতে পেরেছেন।
পাশাপাশি, জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীন তদন্ত করে বলেছে যে, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ওই সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, আল-জাজিরা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তদন্ত করে বলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, ঘটনাগুলো সবার চোখের সামনে ঘটেছে। সবাই দেখেছে যে উনি গণভবনে বসে সভা করছেন, যেখানে ওনাদের পালিত সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ও বুদ্ধিজীবীরা গিয়ে তাঁকে কঠোরভাবে এটি দমন করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
গত মাসের শেষের দিকে হাসিনা তিনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে উনি বলেছেন যে, জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলন ওরকম কঠোরভাবে দমন করা ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল। কাজেই উনি তো নিজেই এই দমন কার্যক্রমে অপরাধ করার কথা প্রকারান্তে স্বীকার করলেন। হাসিনা বলছেন, ওইটা ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল, তার মানে তো উনি এক ধরনের দায়িত্ব স্বীকার করছেন যে উনি এগুলোর জন্য দায়ী, উনি এগুলো এভাবে করেছেন।
ভিডিও, অডিও রেকর্ড এবং ইউএন-এর রিপোর্ট রয়েছে। বাংলাদেশের আইসিটি ট্রাইব্যুনালে এত গ্রহনযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে এর আগে কোনো বিচার হয়েছে বলে মনে হয় না। কাজেই, এটা একটি আন্তর্জাতিক মানের বিচার বলেই মনে হয়।
আমরা গত বছর বাংলাদেশে একটি গভীর, মর্মস্পর্শী এবং বেদনাদায়ক অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছি। আমাদের চোখের সামনে এই তরুণ প্রজন্ম, শিশু— ছাদের উপর খেলছে এমন শিশু, বারান্দায় খেলছে শিশু, মায়ের কোলে শিশু— এদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে পঙ্গু করা হয়েছে, মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টের বিশ দিনে এতগুলো মানুষকে এভাবে খুন করা হয়েছে।
এই বেদনা, এই ক্ষতের জন্য দায়ী যারা, তাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সমাজ থেকে এই গভীর যন্ত্রণা দূর হবে না। সেই অ্যাকাউন্টেবিলিটির জন্য বিচার গুরুত্বপূর্ন। রায় হওয়ার পর শহীদ ও আহতদের পরিবার যে কান্না করছিল, এই গভীর বেদনা যারা এর মধ্য দিয়ে যাননি তারা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আমাদের সমাজ সুন্দরভাবে, রাজনীতি সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন ছিল। কাজেই এই রায় হওয়াটা, এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়াটা, আমি যুগান্তকারী মনে করি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের দেশে এইভাবে একটি স্বৈরাচারের উত্থান এবং এই সমস্ত অপরাধ— যা শুধু এই কয়দিনের নয়, বরং গত পনের-ষোলো বছর ধরে চলছে (যেমন: আয়না ঘর, গুম, ক্রসফায়ার)— তা আর চলতে পারবে না। ভবিষ্যতে আর কেউ বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে না, সেটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই রায়টা গুরুত্বপূর্ণ। এটা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
এখন প্রশ্ন হলো, হাসিনাকে ফেরত আনার ব্যাপারে সরকার কিভাবে এগোতে পারে? সরকার এখন এই রায় নিয়ে ভারতের সাথে দেনদরবার করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আরও বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে ভারতকে এতে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে, কাজেই একটি আইনগত প্রক্রিয়া আছে। তবে, এই আইনগত প্রক্রিয়া ভারত না মানলে ওকে বাধ্য করার কোনো পদ্ধতি আছে কিনা, তা দেখা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় নিছক একটি মামলার সমাপ্তি নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রার সূচনা। যে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষ একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারে।
ড. শরীফ ভূঁইয়া: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য

ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
১২ ঘণ্টা আগে
গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রতিক্রিয়াশীল ও খণ্ডিত নিরাপত্তা কাঠামো থেকে সুসংগঠিত আইন-ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের ইঙ্গিত—যা ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্
১৪ ঘণ্টা আগে