সরদার ফরিদ আহমদ

ভারতের গণমাধ্যমের জন্য এটি অস্বস্তিকর সময়। আরও স্পষ্ট করে বললে, এটি আত্মসমালোচনার সময়। অনেক বছর ধরে যে সংকট জমে উঠছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটেছে রাস্তায়। আর সেই বিস্ফোরণের নাম ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’। নামটি অদ্ভুত। কিন্তু এর ভেতরের বার্তা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি প্রতীক। একটি প্রতিবাদ। একটি ব্যঙ্গ। একটি প্রজন্মের ক্ষোভের ভাষা।
ভারতের তরুণরা দেশটির একজন বিচারপতির অপমানজনক অভিধাকেই নিজেদের পরিচয়ে পরিণত করেছে। যাদের ‘কাকরোচ’ বলা হয়েছিল, তারাই ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ নামে পথে নেমে বলেছে– আমরা আছি, আমরা কথা বলব, তবে তোমাদের মাধ্যমে নয়। বিজেপি সমর্থিত গোদি মিডিয়া এই ‘ককরোচ’দের ব্যঙ্গ করে নানান কথা বলছিল। গত কয়েকদিনে গোদি মিডিয়ার প্রতি তরুণদের যে ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে, তা আসলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ্য গণভোট।
গোদি মিডিয়া: সাংবাদিকতার অভিধানে নতুন এক শব্দ
‘গোদি মিডিয়া’ এখন শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার একটি বহুল ব্যবহৃত পরিভাষা। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে শব্দটি ব্যাপক পরিচিতি পায় ২০১৮ সালের পর। সমালোচকদের মতে, যেসব সংবাদমাধ্যম সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি না করে বরং বিজেপি সরকারের অবস্থান ও প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেগুলোকে ব্যঙ্গার্থে ‘গোদি মিডিয়া’ বলা হয়। ‘গোদি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘কোল’। অর্থাৎ বিজেপির কোলে বসে থাকা বা ক্ষমতার প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত সংবাদমাধ্যম– এই ধারণা থেকেই শব্দটির উৎপত্তি।
বর্তমানে শব্দটি ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গবেষণাতেও আলোচিত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাব, কর্পোরেট মালিকানা এবং গণমাধ্যমের পক্ষপাত নিয়ে আলোচনায় ‘গোদি মিডিয়া’ একটি কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি এখন মিডিয়ার স্বাধীনতা বনাম ক্ষমতা ঘনিষ্ঠতার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও আলোচিত। তবে মনে রাখতে হবে, ‘গোদি মিডিয়া’ কোনো আনুষ্ঠানিক সাংবাদিকতা-তাত্ত্বিক পরিভাষা নয়; এটি মূলত সমালোচনামূলক রাজনৈতিক অভিধা। শব্দটি ভারতীয় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনআস্থার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। গণমাধ্যম যখন জনগণের পরিবর্তে ক্ষমতার ভাষা বেশি বলে– এমন ধারণা তৈরি হয়, তখনই ‘গোদি মিডিয়া’ শব্দটি জনআলোচনায় ফিরে আসে। সাংবাদিকতার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।
শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়ন: ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
গণতন্ত্রে প্রতিবাদ অপরাধ নয়। বরং এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। কিন্তু যখন সেই প্রতিবাদের জবাবে রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করে, তখন আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে। সেই প্রশ্নের নাম– গণমাধ্যম কী দেখাচ্ছে?
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলন হয়েছে। নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ-বিরোধী আন্দোলন। বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিক্ষোভ। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রতিবাদ। এসব ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটেছে। এরপর শুরু হয়েছে আরেকটি লড়াই। সেটি সংবাদ পরিবেশনের লড়াই।
একই ঘটনা। কিন্তু দুটি ভিন্ন ছবি।
ভারতের অনেক মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল (গোদি মিডিয়া) সাধারণত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করে। এসব প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের অনেক সময় ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ গোষ্ঠী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এসব গণমাধ্যমে পুলিশের বলপ্রয়োগ বা সহিংসতার বিষয়টি কম গুরুত্ব পায়। বরং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, যান চলাচলে বিঘ্ন বা আন্দোলনকারীদের কথিত উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। অনেক সময় বিক্ষোভকারীদের ‘আরবান নকশাল’, ‘দাঙ্গাবাজ’ কিংবা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণকে দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
ডিজিটালভিত্তিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, বিকল্প মিডিয়া ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো প্রায়ই মূলধারার প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। তারা সম্পাদনাহীন ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র প্রকাশের মাধ্যমে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এসব প্ল্যাটফর্মে বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও ছাত্রাবাসে পুলিশের প্রবেশের মতো ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে চাপে পড়েছে গোদি মিডিয়া।
সংবাদে পক্ষপাত বা সেন্সরশিপের অভিযোগ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রচলিত গণমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি (লাইভ) ঘটনাপ্রবাহ প্রচার করেছেন। পাঠাগারে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সংরক্ষিত এলাকায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মতো সম্পাদনাহীন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মূলধারার অনেক গণমাধ্যমও শেষ পর্যন্ত এসব ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে।
এই ভিন্নধর্মী সংবাদ পরিবেশন ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং ভিন্নমত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে চলমান বিতর্ককে আরও স্পষ্ট করে তোলে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনও এসব ঘটনার বিকল্প বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
এখানেই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সাংবাদিকতার প্রথম দায়িত্ব সত্যের অনুসন্ধান। ক্ষমতাধরদের খুশি করা নয়। আবার আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র হওয়াও নয়। দায়িত্ব হলো যাচাই করা। তথ্য মিলিয়ে দেখা। সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা। দর্শক বা পাঠককে সত্যের যতটা সম্ভব কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু যখন সংবাদ আদর্শিক অবস্থানে বন্দি হয়ে পড়ে, তখন সেই দায়িত্ব পালন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংবাদ তথ্যের বদলে অবস্থান প্রকাশ করতে শুরু করে। দর্শক তখন খবর নয়, নিজের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনে। সমাজও আরও বিভক্ত হয়ে পড়ে। ভারতের গোদি মিডিয়া সমাজকে বিভক্ত করার কাজকে নিজ এজেন্ডা বানিয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে তারা এই কুকর্ম করে যাচ্ছে।
ডিজিটাল যুগ এই বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন প্রত্যেক নাগরিকের হাতে একটি ক্যামেরা আছে। একটি মোবাইল ফোনই অনেক সময় বড় টেলিভিশন ক্যামেরার বিকল্প হয়ে উঠছে। কোনো ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে কোনো তথ্য দীর্ঘ সময় চাপা রাখা কঠিন।
ভারতের অভিজ্ঞতা শুধু ভারতের নয়। এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাজনৈতিক মেরুকরণ যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপও তত বাড়বে। সেই চাপের মধ্যেও সাংবাদিককে সত্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো দলের নয়। কোনো মতাদর্শের নয়। সত্যের। কিন্তু গোদি মিডিয়া মিথ্যা ও প্রপাগান্ডার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। ইতিহাস কাদের মনে রাখে? যারা ক্ষমতার ভাষা পুনরাবৃত্তি করে, নাকি যারা কঠিন সময়েও সত্য তুলে ধরতে সাহস করে? সাংবাদিকতার উত্তর বরাবর একটাই। সংবাদ মানুষের। সত্যও মানুষের। তাই সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় আনুগত্য ক্ষমতার প্রতি নয়; সত্যের প্রতি হওয়া উচিত। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ভারতে গোদি মিডিয়া সাংবাদিকতা নয়; বিজেপির প্রতি আনুগত্যকে তাদের মূল এজেন্ডা হিসেবে ধরে নিয়েছে।
বিশ্বের চোখে ভারতীয় মিডিয়া: আস্থার সংকটে বৃহত্তম গণতন্ত্রের সংবাদমাধ্যম
ভারত বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংবাদবাজারও। দেশটিতে শত শত সংবাদচ্যানেল, হাজার হাজার সংবাদপত্র এবং অসংখ্য ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম। সংখ্যার বিচারে ভারতীয় গণমাধ্যম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। কিন্তু আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ছবিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় মিডিয়ার সক্ষমতার চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তার স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা।
কোনো দেশের গণমাধ্যমকে কেবল সংবাদমাধ্যম হিসেবে দেখা হয় না। এটি গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।
এই মূল্যায়নের সবচেয়ে আলোচিত সূচক হলো রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স। ২০২৬ সালের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। আগের বছরের তুলনায় দেশটি আরও নিচে নেমেছে। আরএসএফ ভারতের পরিস্থিতিকে ‘ভেরি সিরিয়াস’ বা অত্যন্ত উদ্বেগজনক শ্রেণিতে রেখেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশেরও পেছনে রয়েছে ভারত। একই সূচকে নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান– সবগুলো দেশই ভারতের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্রের’ জন্য এটি নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর বার্তা।
আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় গণমাধ্যম সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমালোচনা তিনটি বিষয়ে। প্রথমত, রাজনৈতিক মেরুকরণ। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট মালিকানার ক্রমবর্ধমান প্রভাব। তৃতীয়ত, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সংকোচন। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, দেশের কিছু মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেলে জনস্বার্থের বিষয়ের তুলনায় রাজনৈতিক সংঘাত, ধর্মীয় বিভাজন ও উচ্চকণ্ঠ বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তারা বিজেপির মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। এই ধারণাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা সরাসরি কোনো দেশের সংবাদমাধ্যমকে র্যাংকিং দেয় না। কিন্তু তারা সুশাসন, জবাবদিহি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দুর্নীতি উন্মোচন করে, নীতিগত ভুল তুলে ধরে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনে। ফলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন। কারণ একটি স্বাধীন গণমাধ্যম অর্থনীতি, নীতি ও বাজার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে। তথ্যপ্রবাহে বাধা বা অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-ধারণাও পরিবর্তিত হতে পারে।
ভারতীয় সাংবাদিকতার সামনে তাই আজ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটি প্রযুক্তির নয়, দর্শকেরও নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাস পুনর্গঠন। সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতার নৈকট্যে নয়, জনগণের আস্থায়।
গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি কী
বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস একবার হারিয়ে গেলে ক্যামেরা, স্টুডিও, প্রযুক্তি কিংবা কোটি টাকার বিনিয়োগ কোনো কাজে আসে না। ভারতের অনেক তরুণের অভিযোগ, তাদের বাস্তব সমস্যার পরিবর্তে টেলিভিশনের বড় অংশ রাজনৈতিক মেরুকরণ, ধর্মীয় উত্তেজনা ও চিৎকারভিত্তিক বিতর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি কিংবা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের মতো বিষয় অনেক সময় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি, এমন সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল নিটপরীক্ষা বিতর্ক। লাখো শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছিল। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। ভারত জুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু বহু সমালোচকের মতে, কিছু প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল এই সংকটের গভীরে যাওয়ার বদলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য ও পরিচয় নিয়েই বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে। সেখানেই ক্ষোভ জমেছে। সেখানেই দূরত্ব বেড়েছে। এরপর এসেছে অপমান।
আন্দোলনকারীদের গোদি মিডিয়ায় ‘পরজীবী’ বা ‘কাকরোচ’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সত্য-মিথ্যা বিতর্কের বাইরে গিয়েও বলা যায়, এই ভাষা সাংবাদিকতার ভাষা হতে পারে না। কারণ সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সম্মান। যে সাংবাদিক মানুষকে সম্মান করতে শেখে না, সে মানুষের আস্থা পায় না। ভারতের তরুণরা সেই আস্থাহীনতার জবাব দিয়েছে অভিনব কায়দায়। তারা বলেছে– আমরা কাকরোচই সঠিক। কিন্তু আমরা নিজেদের গল্প নিজেরাই বলব। আন্দোলনের মাঠে বহু ক্ষেত্রে মূলধারার টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা দেখা গেছে। পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীন সাংবাদিক, ইউটিউবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে। এটি কেবল প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়। বিশ্বাসের পরিবর্তন।
এক সময় টেলিভিশন ছিল তথ্যের একচ্ছত্র উৎস। আজ সেটি আর নেই। এখন মোবাইল ফোনই সংবাদকক্ষ। এখন প্রত্যক্ষদর্শীই অনেক সময় প্রতিবেদক। এখন দর্শকও তথ্য যাচাই করে। তাই একমুখী প্রচারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দুর্নীতি উন্মোচন করে। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করে। এই কাজ দুর্বল হলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিও দুর্বল হয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও নির্ভরযোগ্য তথ্য চান। তারা জানতে চান প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তারা জানতে চান নীতির স্থিতিশীলতা। তারা জানতে চান ঝুঁকি।
যদি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তথ্যের ওপর আস্থাও কমে। এটি অর্থনীতির জন্যও সুখবর নয়।
ভারতের টেলিভিশন সংবাদ জগতের আরেকটি বড় সংকট হলো বিতর্কের বিনোদনকেন্দ্রিক রূপ। অনেক প্রাইমটাইম অনুষ্ঠান যেন সংবাদ নয়; সংঘর্ষ। তথ্য নয়; তর্ক। বিশ্লেষণ নয়; চিৎকার। সঞ্চালক অনেক সময় বিচারকের ভূমিকায়। তারা এখন জোকার হিসেবেই বেশি পরিচিত। টকশোতে তারা বিজেপিবিরোধী অতিথিদের নাজেহাল করাকে সাংবাদিকতা মনে করেন। দর্শক সংবাদ নয়; উত্তেজনা পান। এভাবে সংবাদ ধীরে ধীরে পণ্যে পরিণত হয়। টিআরপি সত্যকে হারিয়ে দেয়। এই প্রবণতা ভারতের মিডিয়ায় মহামারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম অপরিহার্য। একটি রাষ্ট্রের বিরোধী দল দুর্বল হতে পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম দুর্বল হলে গণতন্ত্রও দুর্বল হয়। সাংবাদিকতার কাজ ক্ষমতাকে খুশি করা নয়। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো। তথ্য যাচাই করা। অস্বস্তিকর সত্যও তুলে ধরা। সেখানেই সাংবাদিকতার মর্যাদা।
কাকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই। তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর একমুখী বয়ান গ্রহণ করবে না। তারা বিকল্প মাধ্যম খুঁজে নেবে। স্বাধীন সাংবাদিকদের অনুসরণ করবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাবে। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম যদি জনগণের কণ্ঠস্বর না হয়, জনগণ নিজেদের কণ্ঠস্বর নিজেরাই তৈরি করবে। প্রযুক্তির যুগে এটি আর কঠিন নয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের সামনে এখন দুটি পথ। প্রথম পথ– আগের মতোই চলা। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা। টিআরপির পেছনে ছোটা। বিতর্ককে পণ্যে পরিণত করা। দ্বিতীয় পথ– আত্মসমালোচনা। বিশ্বাস পুনর্গঠন। মাঠে ফেরা। মানুষের জীবনের বাস্তব প্রশ্নে ফিরে আসা। ইতিহাস বলে, সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ কর্পোরেট মালিক নয়। রাজনৈতিক আশ্রয়ও নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষের বিশ্বাস। একবার সেই বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে কঠিন।
কাকরোচ জনতা পার্টি সেই কঠিন সত্যটিই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে আয়নার মতো তুলে ধরেছে। কাকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে গোদি মিডিয়ার কথিত সাংবাদিকরা যেভাবে অপমানিত হচ্ছেন, তাতে এটা স্পষ্ট– গোদি মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে পৌঁছে গেছে। এই প্রথম গোদি মিডিয়া প্রকাশ্যে মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ল। আর এই মানুষদের বেশিরভাগই তরুণ। গোদি মিডিয়াকে ভারতের কেউ আর বিশ্বাস করছে না। এখানেই এই কথিত মূলধারা মিডিয়ার চূড়ান্ত ব্যর্থতা। ব্যর্থতা মোদির বিজেপি সরকারেরও। ভারতের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন, সামনের দিনগুলোতে গোদি মিডিয়া ও বিজেপি সরকার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। এটা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

ভারতের গণমাধ্যমের জন্য এটি অস্বস্তিকর সময়। আরও স্পষ্ট করে বললে, এটি আত্মসমালোচনার সময়। অনেক বছর ধরে যে সংকট জমে উঠছিল, তার বিস্ফোরণ ঘটেছে রাস্তায়। আর সেই বিস্ফোরণের নাম ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’। নামটি অদ্ভুত। কিন্তু এর ভেতরের বার্তা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি প্রতীক। একটি প্রতিবাদ। একটি ব্যঙ্গ। একটি প্রজন্মের ক্ষোভের ভাষা।
ভারতের তরুণরা দেশটির একজন বিচারপতির অপমানজনক অভিধাকেই নিজেদের পরিচয়ে পরিণত করেছে। যাদের ‘কাকরোচ’ বলা হয়েছিল, তারাই ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ নামে পথে নেমে বলেছে– আমরা আছি, আমরা কথা বলব, তবে তোমাদের মাধ্যমে নয়। বিজেপি সমর্থিত গোদি মিডিয়া এই ‘ককরোচ’দের ব্যঙ্গ করে নানান কথা বলছিল। গত কয়েকদিনে গোদি মিডিয়ার প্রতি তরুণদের যে ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে, তা আসলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ্য গণভোট।
গোদি মিডিয়া: সাংবাদিকতার অভিধানে নতুন এক শব্দ
‘গোদি মিডিয়া’ এখন শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার একটি বহুল ব্যবহৃত পরিভাষা। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে শব্দটি ব্যাপক পরিচিতি পায় ২০১৮ সালের পর। সমালোচকদের মতে, যেসব সংবাদমাধ্যম সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি না করে বরং বিজেপি সরকারের অবস্থান ও প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেগুলোকে ব্যঙ্গার্থে ‘গোদি মিডিয়া’ বলা হয়। ‘গোদি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘কোল’। অর্থাৎ বিজেপির কোলে বসে থাকা বা ক্ষমতার প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত সংবাদমাধ্যম– এই ধারণা থেকেই শব্দটির উৎপত্তি।
বর্তমানে শব্দটি ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গবেষণাতেও আলোচিত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাব, কর্পোরেট মালিকানা এবং গণমাধ্যমের পক্ষপাত নিয়ে আলোচনায় ‘গোদি মিডিয়া’ একটি কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি এখন মিডিয়ার স্বাধীনতা বনাম ক্ষমতা ঘনিষ্ঠতার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও আলোচিত। তবে মনে রাখতে হবে, ‘গোদি মিডিয়া’ কোনো আনুষ্ঠানিক সাংবাদিকতা-তাত্ত্বিক পরিভাষা নয়; এটি মূলত সমালোচনামূলক রাজনৈতিক অভিধা। শব্দটি ভারতীয় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনআস্থার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। গণমাধ্যম যখন জনগণের পরিবর্তে ক্ষমতার ভাষা বেশি বলে– এমন ধারণা তৈরি হয়, তখনই ‘গোদি মিডিয়া’ শব্দটি জনআলোচনায় ফিরে আসে। সাংবাদিকতার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।
শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়ন: ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
গণতন্ত্রে প্রতিবাদ অপরাধ নয়। বরং এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। কিন্তু যখন সেই প্রতিবাদের জবাবে রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করে, তখন আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে। সেই প্রশ্নের নাম– গণমাধ্যম কী দেখাচ্ছে?
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলন হয়েছে। নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ-বিরোধী আন্দোলন। বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিক্ষোভ। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রতিবাদ। এসব ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটেছে। এরপর শুরু হয়েছে আরেকটি লড়াই। সেটি সংবাদ পরিবেশনের লড়াই।
একই ঘটনা। কিন্তু দুটি ভিন্ন ছবি।
ভারতের অনেক মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল (গোদি মিডিয়া) সাধারণত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করে। এসব প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের অনেক সময় ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ গোষ্ঠী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এসব গণমাধ্যমে পুলিশের বলপ্রয়োগ বা সহিংসতার বিষয়টি কম গুরুত্ব পায়। বরং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, যান চলাচলে বিঘ্ন বা আন্দোলনকারীদের কথিত উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। অনেক সময় বিক্ষোভকারীদের ‘আরবান নকশাল’, ‘দাঙ্গাবাজ’ কিংবা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণকে দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
ডিজিটালভিত্তিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, বিকল্প মিডিয়া ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো প্রায়ই মূলধারার প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। তারা সম্পাদনাহীন ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র প্রকাশের মাধ্যমে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এসব প্ল্যাটফর্মে বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও ছাত্রাবাসে পুলিশের প্রবেশের মতো ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে চাপে পড়েছে গোদি মিডিয়া।
সংবাদে পক্ষপাত বা সেন্সরশিপের অভিযোগ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রচলিত গণমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি (লাইভ) ঘটনাপ্রবাহ প্রচার করেছেন। পাঠাগারে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সংরক্ষিত এলাকায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মতো সম্পাদনাহীন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মূলধারার অনেক গণমাধ্যমও শেষ পর্যন্ত এসব ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে।
এই ভিন্নধর্মী সংবাদ পরিবেশন ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং ভিন্নমত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে চলমান বিতর্ককে আরও স্পষ্ট করে তোলে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনও এসব ঘটনার বিকল্প বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
এখানেই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সাংবাদিকতার প্রথম দায়িত্ব সত্যের অনুসন্ধান। ক্ষমতাধরদের খুশি করা নয়। আবার আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র হওয়াও নয়। দায়িত্ব হলো যাচাই করা। তথ্য মিলিয়ে দেখা। সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা। দর্শক বা পাঠককে সত্যের যতটা সম্ভব কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু যখন সংবাদ আদর্শিক অবস্থানে বন্দি হয়ে পড়ে, তখন সেই দায়িত্ব পালন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংবাদ তথ্যের বদলে অবস্থান প্রকাশ করতে শুরু করে। দর্শক তখন খবর নয়, নিজের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনে। সমাজও আরও বিভক্ত হয়ে পড়ে। ভারতের গোদি মিডিয়া সমাজকে বিভক্ত করার কাজকে নিজ এজেন্ডা বানিয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে তারা এই কুকর্ম করে যাচ্ছে।
ডিজিটাল যুগ এই বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন প্রত্যেক নাগরিকের হাতে একটি ক্যামেরা আছে। একটি মোবাইল ফোনই অনেক সময় বড় টেলিভিশন ক্যামেরার বিকল্প হয়ে উঠছে। কোনো ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে কোনো তথ্য দীর্ঘ সময় চাপা রাখা কঠিন।
ভারতের অভিজ্ঞতা শুধু ভারতের নয়। এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাজনৈতিক মেরুকরণ যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপও তত বাড়বে। সেই চাপের মধ্যেও সাংবাদিককে সত্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো দলের নয়। কোনো মতাদর্শের নয়। সত্যের। কিন্তু গোদি মিডিয়া মিথ্যা ও প্রপাগান্ডার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। ইতিহাস কাদের মনে রাখে? যারা ক্ষমতার ভাষা পুনরাবৃত্তি করে, নাকি যারা কঠিন সময়েও সত্য তুলে ধরতে সাহস করে? সাংবাদিকতার উত্তর বরাবর একটাই। সংবাদ মানুষের। সত্যও মানুষের। তাই সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় আনুগত্য ক্ষমতার প্রতি নয়; সত্যের প্রতি হওয়া উচিত। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ভারতে গোদি মিডিয়া সাংবাদিকতা নয়; বিজেপির প্রতি আনুগত্যকে তাদের মূল এজেন্ডা হিসেবে ধরে নিয়েছে।
বিশ্বের চোখে ভারতীয় মিডিয়া: আস্থার সংকটে বৃহত্তম গণতন্ত্রের সংবাদমাধ্যম
ভারত বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংবাদবাজারও। দেশটিতে শত শত সংবাদচ্যানেল, হাজার হাজার সংবাদপত্র এবং অসংখ্য ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম। সংখ্যার বিচারে ভারতীয় গণমাধ্যম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। কিন্তু আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ছবিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় মিডিয়ার সক্ষমতার চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তার স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা।
কোনো দেশের গণমাধ্যমকে কেবল সংবাদমাধ্যম হিসেবে দেখা হয় না। এটি গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।
এই মূল্যায়নের সবচেয়ে আলোচিত সূচক হলো রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স। ২০২৬ সালের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। আগের বছরের তুলনায় দেশটি আরও নিচে নেমেছে। আরএসএফ ভারতের পরিস্থিতিকে ‘ভেরি সিরিয়াস’ বা অত্যন্ত উদ্বেগজনক শ্রেণিতে রেখেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশেরও পেছনে রয়েছে ভারত। একই সূচকে নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান– সবগুলো দেশই ভারতের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্রের’ জন্য এটি নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর বার্তা।
আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় গণমাধ্যম সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমালোচনা তিনটি বিষয়ে। প্রথমত, রাজনৈতিক মেরুকরণ। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট মালিকানার ক্রমবর্ধমান প্রভাব। তৃতীয়ত, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সংকোচন। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, দেশের কিছু মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেলে জনস্বার্থের বিষয়ের তুলনায় রাজনৈতিক সংঘাত, ধর্মীয় বিভাজন ও উচ্চকণ্ঠ বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তারা বিজেপির মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। এই ধারণাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা সরাসরি কোনো দেশের সংবাদমাধ্যমকে র্যাংকিং দেয় না। কিন্তু তারা সুশাসন, জবাবদিহি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দুর্নীতি উন্মোচন করে, নীতিগত ভুল তুলে ধরে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনে। ফলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন। কারণ একটি স্বাধীন গণমাধ্যম অর্থনীতি, নীতি ও বাজার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে। তথ্যপ্রবাহে বাধা বা অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-ধারণাও পরিবর্তিত হতে পারে।
ভারতীয় সাংবাদিকতার সামনে তাই আজ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটি প্রযুক্তির নয়, দর্শকেরও নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাস পুনর্গঠন। সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতার নৈকট্যে নয়, জনগণের আস্থায়।
গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি কী
বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস একবার হারিয়ে গেলে ক্যামেরা, স্টুডিও, প্রযুক্তি কিংবা কোটি টাকার বিনিয়োগ কোনো কাজে আসে না। ভারতের অনেক তরুণের অভিযোগ, তাদের বাস্তব সমস্যার পরিবর্তে টেলিভিশনের বড় অংশ রাজনৈতিক মেরুকরণ, ধর্মীয় উত্তেজনা ও চিৎকারভিত্তিক বিতর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি কিংবা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের মতো বিষয় অনেক সময় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি, এমন সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল নিটপরীক্ষা বিতর্ক। লাখো শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছিল। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। ভারত জুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু বহু সমালোচকের মতে, কিছু প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল এই সংকটের গভীরে যাওয়ার বদলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য ও পরিচয় নিয়েই বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে। সেখানেই ক্ষোভ জমেছে। সেখানেই দূরত্ব বেড়েছে। এরপর এসেছে অপমান।
আন্দোলনকারীদের গোদি মিডিয়ায় ‘পরজীবী’ বা ‘কাকরোচ’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সত্য-মিথ্যা বিতর্কের বাইরে গিয়েও বলা যায়, এই ভাষা সাংবাদিকতার ভাষা হতে পারে না। কারণ সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সম্মান। যে সাংবাদিক মানুষকে সম্মান করতে শেখে না, সে মানুষের আস্থা পায় না। ভারতের তরুণরা সেই আস্থাহীনতার জবাব দিয়েছে অভিনব কায়দায়। তারা বলেছে– আমরা কাকরোচই সঠিক। কিন্তু আমরা নিজেদের গল্প নিজেরাই বলব। আন্দোলনের মাঠে বহু ক্ষেত্রে মূলধারার টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা দেখা গেছে। পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীন সাংবাদিক, ইউটিউবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে। এটি কেবল প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়। বিশ্বাসের পরিবর্তন।
এক সময় টেলিভিশন ছিল তথ্যের একচ্ছত্র উৎস। আজ সেটি আর নেই। এখন মোবাইল ফোনই সংবাদকক্ষ। এখন প্রত্যক্ষদর্শীই অনেক সময় প্রতিবেদক। এখন দর্শকও তথ্য যাচাই করে। তাই একমুখী প্রচারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দুর্নীতি উন্মোচন করে। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করে। এই কাজ দুর্বল হলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিও দুর্বল হয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও নির্ভরযোগ্য তথ্য চান। তারা জানতে চান প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তারা জানতে চান নীতির স্থিতিশীলতা। তারা জানতে চান ঝুঁকি।
যদি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তথ্যের ওপর আস্থাও কমে। এটি অর্থনীতির জন্যও সুখবর নয়।
ভারতের টেলিভিশন সংবাদ জগতের আরেকটি বড় সংকট হলো বিতর্কের বিনোদনকেন্দ্রিক রূপ। অনেক প্রাইমটাইম অনুষ্ঠান যেন সংবাদ নয়; সংঘর্ষ। তথ্য নয়; তর্ক। বিশ্লেষণ নয়; চিৎকার। সঞ্চালক অনেক সময় বিচারকের ভূমিকায়। তারা এখন জোকার হিসেবেই বেশি পরিচিত। টকশোতে তারা বিজেপিবিরোধী অতিথিদের নাজেহাল করাকে সাংবাদিকতা মনে করেন। দর্শক সংবাদ নয়; উত্তেজনা পান। এভাবে সংবাদ ধীরে ধীরে পণ্যে পরিণত হয়। টিআরপি সত্যকে হারিয়ে দেয়। এই প্রবণতা ভারতের মিডিয়ায় মহামারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম অপরিহার্য। একটি রাষ্ট্রের বিরোধী দল দুর্বল হতে পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম দুর্বল হলে গণতন্ত্রও দুর্বল হয়। সাংবাদিকতার কাজ ক্ষমতাকে খুশি করা নয়। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো। তথ্য যাচাই করা। অস্বস্তিকর সত্যও তুলে ধরা। সেখানেই সাংবাদিকতার মর্যাদা।
কাকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই। তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর একমুখী বয়ান গ্রহণ করবে না। তারা বিকল্প মাধ্যম খুঁজে নেবে। স্বাধীন সাংবাদিকদের অনুসরণ করবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাবে। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম যদি জনগণের কণ্ঠস্বর না হয়, জনগণ নিজেদের কণ্ঠস্বর নিজেরাই তৈরি করবে। প্রযুক্তির যুগে এটি আর কঠিন নয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের সামনে এখন দুটি পথ। প্রথম পথ– আগের মতোই চলা। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা। টিআরপির পেছনে ছোটা। বিতর্ককে পণ্যে পরিণত করা। দ্বিতীয় পথ– আত্মসমালোচনা। বিশ্বাস পুনর্গঠন। মাঠে ফেরা। মানুষের জীবনের বাস্তব প্রশ্নে ফিরে আসা। ইতিহাস বলে, সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ কর্পোরেট মালিক নয়। রাজনৈতিক আশ্রয়ও নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষের বিশ্বাস। একবার সেই বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে কঠিন।
কাকরোচ জনতা পার্টি সেই কঠিন সত্যটিই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে আয়নার মতো তুলে ধরেছে। কাকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে গোদি মিডিয়ার কথিত সাংবাদিকরা যেভাবে অপমানিত হচ্ছেন, তাতে এটা স্পষ্ট– গোদি মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে পৌঁছে গেছে। এই প্রথম গোদি মিডিয়া প্রকাশ্যে মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ল। আর এই মানুষদের বেশিরভাগই তরুণ। গোদি মিডিয়াকে ভারতের কেউ আর বিশ্বাস করছে না। এখানেই এই কথিত মূলধারা মিডিয়ার চূড়ান্ত ব্যর্থতা। ব্যর্থতা মোদির বিজেপি সরকারেরও। ভারতের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন, সামনের দিনগুলোতে গোদি মিডিয়া ও বিজেপি সরকার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। এটা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
.png)

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেয়ার সব ধাপ একে একে বলে দিলাম তাকে। কথা শুনে তরুণটি হতাশ হয়ে বললেন, লাইসেন্স পাওয়া তো খুব কঠিন মনে হচ্ছে, সময়ও লাগবে অনেক, টাকাও লাগবে অনেক। ভাই, অন্য কোন শর্টকাট উপায় কী আছে?
৪ ঘণ্টা আগে
দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলির গতানুগতিক কর্মকাণ্ডকে পাশ কাটিয়ে তরুণরা এবার স্বতঃস্ফূর্ত, বিকেন্দ্রীভূত ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যার প্রভাব আগামী দিনের রাজনৈতিক অভিমুখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষার পরিমাণগত সম্প্রসারণ এবং গুণগত উৎকর্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী সংস্কৃতি সেই অনুপাতে বিকশিত হয়নি।
৭ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল সংবিধানের বিধান বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতিদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ক্ষমতা থেকে বিদায়ের প্রেক্ষাপটেও এর সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
১ দিন আগে