ড. সাজ্জাদ জহিরের সাক্ষাৎকার
ড. সাজ্জাদ জহির অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সদ্য পাশ হওয়া বাজেট ও মুদ্রানীতি, ব্যাংক খাতের সংকট ও সুশাসন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিকযোগাযোগ বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম

স্ট্রিম: নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে এবং নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একইসঙ্গে ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজেট ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের যে একটি চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, এ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
সাজ্জাদ জহির: বাজেটের প্রধান একটি দিক হলো সরকারের আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। আমার মনে হয়, বাজেটের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে প্রথম বছর হিসেবে এখনকার মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে গুছিয়ে নেওয়া। এটি এখনই বিশাল কোনো অগ্রগতির বাজেট নয়, বরং পূর্বের ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়ার একটি চেষ্টা। আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর যে চাপ একসময় ছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার আলোচনার তুলনায় তা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সঠিক মনে করি।
মুদ্রানীতি ও বাজেটের সমন্বয় নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, আমার কাছে সেটিকে অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা বা 'রিচুয়াল' মনে হয়। উন্নত দেশে সাধারণ মানুষ বাজেট নিয়ে এতটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু আমাদের মতো দেশে সরকারের আয়-ব্যয় জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে বলে আমরা বাজেট নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকি। অনেক সময় মনে হয়, মানুষকে ব্যস্ত রাখার জন্যই যেন বাজেট নিয়ে এত বেশি আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি-সম্পর্কিত একটি বিবৃতি দেয়। তবে নীতি সুদহার বা রেপো রেট কিন্তু মাঝপথেও পরিবর্তন করা যেতে পারে। মুদ্রানীতি মূলত একটি নির্দিষ্ট বিভাগের তৈরি করা খসড়া, যা গভর্নরকে পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়। পর্ষদের নীতি পর্যায়ে এর স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়।
আশা করা হয়েছিল যে প্রতিটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে অর্থ-সংগ্রহের খরচ ও ঋণের জন্য প্রযোজ্য সুদের মধ্যকার শতকরা মার্জিন সর্বাধিক ৪% বেঁধে দিয়ে অতি মুনাফা দমন ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চালন বৃদ্ধি করা হবে।
সাধারণভাবে, বাজেট ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। কিন্তু বর্তমান ব্যাংক খাতের অবস্থা বিবেচনায় নিলে কিছু প্রশ্ন সামনে আসে।
স্ট্রিম: আপনি কি এখানে বিশেষ তহবিল গঠনের কথাটি বলতে চাচ্ছেন?
সাজ্জাদ জহির: হ্যাঁ, ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিমের কথা বলছি। এখানে একটি সাংঘর্ষিক বিষয় হলো— একদিকে মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অধিক রেখে অর্থনীতি সংকোচনের কথা ভাবা হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের তহবিল সৃষ্টির ফলে সেই সংকোচন নীতি ব্যাহত হবার সম্ভাবনা থাকে।
স্ট্রিম: কিন্তু এই তহবিল তো স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তাই না?
সাজ্জাদ জহির: হ্যাঁ, সহজ সুদে। কিন্তু বাজারদরের চেয়ে কম সুদে বা ভর্তুকি দিয়ে যখন কোনো তহবিল দেওয়া হয়, তখন তার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর নয়। পুরনো ধারায় চললে এটি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিতে কোনো সাহায্য করবে না, বরং উল্টো ক্ষতি করতে পারে।
স্ট্রিম: এই তহবিলের অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা করছেন কি?
সাজ্জাদ জহির: অতীতেও এমন তহবিলের অপব্যবহার হয়েছে। ব্যাংকিং খাত এসব ক্ষেত্রে বেশ পটু। বারবার খেলাপি হওয়ার পরও যদি কাউকে রিক্যাপিটালাইজেশনের নামে পুনঃঅর্থায়নের সুবিধা দেওয়া হয়, তার মানে হলো ফান্ডের সঠিক ব্যবহারে তারা এখনও অভ্যস্ত হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককে ভাবতে হবে তারা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন কতটা সুদৃঢ় করতে চায় ও পারবে।
এছাড়া, আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান এবং ফান্ডের কস্ট নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো তাদের হিসাবপত্র বা 'বুকস' ঠিক করতে পারেনি। ২০১৭ সালে এস. আলম গ্রুপের কয়েকটি ব্যাংক দখল, ২০১৯ সালে পি. কে. হালদার কেলেঙ্কারি এবং ২০২০ সালের সিকদার ব্রাদার্সের ঘটনার পর থেকে ব্যাংকিং খাতে বড় সংকট তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।
৫ আগস্টের পর আমরা জানতে পেরেছি যে ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ লুটপাট হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। এই ক্ষত তারা কতটুকু সামলে উঠতে পেরেছে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই যদি নতুন করে রিফাইন্যান্সিং স্কিম দেওয়া হয়, তবে ব্যাংকগুলো তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। অতীতে রিক্যাপিটালাইজেশনের নামে কোনো কোনো ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কে পেল? ক্ষুদ্র আমানতকারীরা পেল, নাকি নাম বদলে পুরনো খেলাপিরাই আবার টাকা নিয়ে গেল— এই হিসাবগুলো সামনে আসা উচিত। প্রতিটি টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ দিনশেষে এটি জনগণের করের বা রাষ্ট্রীয় দেনার টাকা।
স্ট্রিম: একটি প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব ব্যাংক সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি বা লুটপাটের শিকার হয়েছে, তাদের করের টাকা দিয়ে রিফাইন্যান্স বা বেইলআউট করার চূড়ান্ত ফল কী? করের অর্থের এ ধরনের ব্যবহার অর্থনীতিতে কোনো বৈষম্য তৈরি করে কি না?
সাজ্জাদ জহির: এই অর্থ শুধু করের নয়, তিনটি উৎস থেকে আসতে পারে। প্রথমত, টাকা ছাপিয়ে (প্রিন্টিং মানি); দ্বিতীয়ত, বিদেশি ঋণের টাকাকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে; এবং তৃতীয়ত, সরাসরি সরকারি রাজস্ব থেকে। এই তিনটি পন্থাই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ক্ষতিকর এই কারণে যে, যার কাছ থেকে কর বা ঋণের দায় নেওয়া হচ্ছে, অর্থটা যদি তার কাছেই ফিরে যেত, তবে সম্পদের সুষম বণ্টন বা ডিস্ট্রিবিউটিভ জাস্টিস নিশ্চিত হতো। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থ যখন হস্তান্তর হয়, তখন দেখতে হবে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা কতটুকু সুবিধা পাচ্ছেন, আর ঋণখেলাপিরা সেই সুবিধা পুনরায় লুফে নিচ্ছে কি না। এ কারণেই ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন—কাকে, কীভাবে অর্থ দেওয়া হচ্ছে তা নজরদারিতে আনা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার যুক্তি দিয়ে আমরা যদি এ ধরনের ব্যাংকগুলোকে নির্বিচারে অর্থ সহায়তা দিয়ে সামাল দিতে যাই এবং এর ফলে ব্যাংক ডোবানোর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোই যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।
এ জন্যই ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংকে রূপান্তর এবং ব্যাংক একীভূত করার (মার্জার) যে আলোচনাগুলো এসেছিল, সেসময় আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলাম। ব্যাংকগুলোকে শুধু মার্জার না করে অবসায়ন বা লিকুইডেশনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হলো না? এই প্রক্রিয়ায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকের তথাকথিত মালিকদের দায় কতটুকু, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আমি ‘তথাকথিত মালিক’ বলছি কারণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানার বিষয়টি পুনরায় ভাবা প্রয়োজন।
স্ট্রিম: ব্যাংকের প্রকৃত মালিক তো আমানতকারীরা।
সাজ্জাদ জহির: একদম ঠিক। যাদের টাকায় ব্যাংক চলে, তারাই প্রকৃত মালিক। কিন্তু তারা সাধারণত সুবিধাবঞ্চিতই থেকে যান। আমানতকারীদের অধিকার রক্ষায় নিজেদের মাঝে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা বিশ্বের কোথাও সেভাবে দেখা যায় না, তাই আমাদের দেশে তা আশা করা অবাস্তব। এ জন্য ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের একটি পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এর আগে বিধি সংস্থাকে (রেগুলেটর) নিজের দিকে তাকাতে হবে এবং আত্ম-বিশ্লেষণ করতে হবে। তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন, সেই তুলনায় বিধি সংস্থার কর্মীদের বেতন কাঠামো খুবই নগণ্য। একটি ভালো বেতন কাঠামো এবং সুস্থ ও সম্মানজনক জীবনের নিরাপত্তা মেধাবীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে।
স্ট্রিম: এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিও তো চলে আসে?
সাজ্জাদ জহির: স্বায়ত্তশাসন বিষয়টি কাগজে-কলমে একরকম, আর বাস্তব প্রয়োগ একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলতে আমরা মূলত এর ম্যানেজমেন্ট (ব্যবস্থাপনা দল) এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস বা পর্ষদকে বুঝি। এখন প্রশ্ন হলো, পর্ষদ, গভর্নর এবং ম্যানেজমেন্টের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন? আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গভর্নরের ও পরিচালকদের যোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার জায়গাগুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে। দিন শেষে সরকারের নিয়ন্ত্রণই বজায় থাকে।
গভর্নরের দ্বৈত ভূমিকা রয়েছে—তিনি একই সঙ্গে ম্যানেজমেন্টের প্রধান এবং পর্ষদের চেয়ারম্যান। পর্ষদ যদি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না রাখে, তবে ম্যানেজমেন্টই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এই সম্পর্কগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত না করে শুধু কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
স্ট্রিম: বর্তমানে সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি। গত প্রায় চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশে, যা এখন ডাবল ডিজিটের দিকে এগোচ্ছে। অথচ বাজেটে ও মুদ্রানীতিতে এটিকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। অর্থনীতিশাস্ত্র অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি বা বিনিয়োগ বাড়ানো—এ দুটি বিপরীতমুখী। সরকার কি এখানে কোনো জটিলতায় আটকে আছে?
সাজ্জাদ জহির: এই সমস্যা শুধু বর্তমান সময়ের নয়, এটি আরও আগে থেকেই চলে আসছে। বহুদিন থেকেই আমাদের অর্থনীতির মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেমিট্যান্স। নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিকরা অর্থনীতিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখানে প্রধান লক্ষ্যই হলো—লোক তৈরি করো এবং বিদেশে পাঠাও। প্রাচীনকালে কৌটিল্যের আমলে যেমন বেশি জমি আবাদ করে খাজনা আদায়ের নীতি ছিল, এখন ঠিক তেমনি বেশি লোক বিদেশে পাঠিয়ে রেমিট্যান্স বা আয় বাড়ানোর নীতি চলছে। অথচ এই রেমিট্যান্সকে বিনিয়োগে রূপান্তরে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভিন্ন পথে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হওয়ায় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে।
বিকল্প হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব হলেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে রাশ টানা সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই এর পর্যাপ্ততা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আমরা দেশীয় কর্মসংস্থান প্রত্যাশা করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পশ্চিমা বা চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কারিগরি জ্ঞান—সবই তাদের দেশ থেকে আসে। কারিগরি জ্ঞান বা টেকনোলজি ট্রান্সফারের বিষয়টি একদম তলানিতে থেকে যায়। যেমন, জাপানিদের মেট্রো রেল প্রকল্প থেকে আমরা হয়তো ট্রেন পরিচালনার কারিগরি জ্ঞান পাব, কিন্তু নিজেরা ট্রেনের বগি বা রেলট্র্যাক তৈরির মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতা কতটা অর্জন করতে পারব, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যেকোনো বড় বিনিয়োগের সাথে দেশীয় কর্মসংস্থান সংযুক্তি থাকা উচিত।
স্ট্রিম: আপনি বোধহয় চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন?
সাজ্জাদ জহির: চীনা বিনিয়োগ সেদেশের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়টি বেশ আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। তবে এই স্থানান্তর পরিবেশবান্ধব হবে কি না, তা নিয়ে একটা উদ্বেগ বরাবরই রয়েছে। আমরা দেখছি, তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগ আনার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি কি স্বল্পমেয়াদে বাঁচার চেষ্টা? এতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সাথে আপস করছি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। আমার মতে, রাজনৈতিক দল ও জনমতের ভিত্তিতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ন্যূনতম শর্ত বা ‘বটম লাইন’ থাকা উচিত। সেই শর্ত পূরণ না হলে আমাদের বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। পরিবেশের ক্ষতি করে বিনিয়োগ আনার চেয়ে দেশীয় শ্রম দিয়ে সাধারণভাবে টিকে থাকাও দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গলজনক।
পাশাপাশি, বিনিয়োগের সাথে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা ‘টেকনিক্যাল নো-হাউ’ ট্রান্সফারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে না। এ ক্ষেত্রে দরকষাকষির পর্যায়ে আমাদের বড় দুর্বলতা রয়েছে। আমি মনে করি, এ ধরনের চুক্তিগুলোর মৌলিক বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত এবং সেখানে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (গোপনীয়তার চুক্তি) এর অজুহাতে অস্পষ্টতা রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাম্য নয়। যিনিই দরকষাকষি করুন না কেন, জনস্বার্থে তাকে জানাতে হবে যে দেশের স্বার্থে চিহ্নিত ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হচ্ছে।
স্ট্রিম: আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি বা অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সাজ্জাদ জহির: আমি যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের বৃহৎ ভূ-রাজনীতির দিকে না গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অবস্থার কথাই আগে বলব। ঐতিহাসিকভাবে আমরা এই উপমহাদেশের অংশ। কিন্তু বর্তমানে ভারতের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী—বিশেষ করে হিন্দিভাষী বলয়— ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুচ্ছ করে পুরো ভারতের এবং উপমহাদেশের একচেটিয়া প্রতিনিধিত্ব দাবি করে বসেছে। উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে এই গোষ্ঠীর সম্পর্ক কখনোই খুব একটা সুখকর ছিল না। ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের এই চরম পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আমার মতে, বহিরাগত শক্তির প্রভাবের চেয়ে এই আঞ্চলিক সমস্যাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক হারমনি বা সম্প্রীতি নষ্ট করার পেছনে আমি এই আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই দায়ী করি।
চীন সফরের ফলাফলগুলোর মাঝে ‘কানেক্টিভিটি’ বা যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগে কানেক্টিভিটির নামে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ একাধিক ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে। একজন বিক্রেতা যদি একক ক্রেতার কাছে অনেকগুলো বিকল্প পথ তুলে দেয়, সেক্ষেত্রে একক ক্রেতা অধিক শোষণের সুযোগ পায় এবং অতিমাত্রায় লাভবান হয়। আমাদের বুকের ওপর দিয়ে অনেক রাস্তা ও রেলপথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ক্রেতা মাত্র একজন। ফলে আমাদের বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন অনেক কম। আমাদের নীতিনির্ধারক ও আমলারা পর্যাপ্ত দরকষাকষি না করে প্রায় বিনা পয়সাতেই এসব সুবিধা দিয়ে উন্মুখ ছিলেন।
স্ট্রিম: এখন চীনের তরফ থেকে যে নতুন কানেক্টিভিটির প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কি বাড়বে?
সাজ্জাদ জহির: পূর্বদিকে কানেক্টিভিটি বাড়লে বিক্রেতা হিসেবে আমাদের বিকল্প বাড়বে। মিয়ানমার, আরাকান বা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে বৈরিতা বা সংকট রয়েছে, যোগাযোগ বাড়লে তা অনেকটাই কমে আসতে বাধ্য বলে আমি মনে করি। চীনের নতুন প্রস্তাবটিকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখি, যেখানে ভারতেরও অংশগ্রহণ থাকা উচিত। শুধু বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার) নয়, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তা কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের উপকার করে এবং আঞ্চলিক বিরোধ জিইয়ে রাখে।
একসময় এশিয়ান হাইওয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে এডিবি ও ইউএন এসক্যাপ বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে (বাইপাস করে) ভারতের স্বার্থে মিজোরাম থেকে শুরু হওয়া কালাদান প্রজেক্টের পথ বেয়ে যোগাযোগ তৈরিতে উদ্যোগী ছিল। কিন্তু এখন যদি আমরা বিকল্প হিসেবে টেকনাফ দিয়ে মিয়ানমার, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারি, তবে তা বাংলাদেশের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীলতা আনবে। তবে শর্ত হলো, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমান্তে বর্তমানে যে সংকট চলছে, তা অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য আমাদের নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা জরুরি এবং ন্যূনতম আরও তিনটি দেশের আর্থিক স্বার্থের ভারসাম্য আনার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক সুযোগই আমাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাজ্জাদ জহির: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

ড. সাজ্জাদ জহির অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সদ্য পাশ হওয়া বাজেট ও মুদ্রানীতি, ব্যাংক খাতের সংকট ও সুশাসন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিকযোগাযোগ বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
.png)
স্ট্রিম: নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে এবং নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একইসঙ্গে ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজেট ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের যে একটি চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, এ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
সাজ্জাদ জহির: বাজেটের প্রধান একটি দিক হলো সরকারের আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। আমার মনে হয়, বাজেটের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে প্রথম বছর হিসেবে এখনকার মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে গুছিয়ে নেওয়া। এটি এখনই বিশাল কোনো অগ্রগতির বাজেট নয়, বরং পূর্বের ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়ার একটি চেষ্টা। আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর যে চাপ একসময় ছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার আলোচনার তুলনায় তা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সঠিক মনে করি।
মুদ্রানীতি ও বাজেটের সমন্বয় নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, আমার কাছে সেটিকে অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা বা 'রিচুয়াল' মনে হয়। উন্নত দেশে সাধারণ মানুষ বাজেট নিয়ে এতটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু আমাদের মতো দেশে সরকারের আয়-ব্যয় জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে বলে আমরা বাজেট নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকি। অনেক সময় মনে হয়, মানুষকে ব্যস্ত রাখার জন্যই যেন বাজেট নিয়ে এত বেশি আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি-সম্পর্কিত একটি বিবৃতি দেয়। তবে নীতি সুদহার বা রেপো রেট কিন্তু মাঝপথেও পরিবর্তন করা যেতে পারে। মুদ্রানীতি মূলত একটি নির্দিষ্ট বিভাগের তৈরি করা খসড়া, যা গভর্নরকে পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়। পর্ষদের নীতি পর্যায়ে এর স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়।
আশা করা হয়েছিল যে প্রতিটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে অর্থ-সংগ্রহের খরচ ও ঋণের জন্য প্রযোজ্য সুদের মধ্যকার শতকরা মার্জিন সর্বাধিক ৪% বেঁধে দিয়ে অতি মুনাফা দমন ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চালন বৃদ্ধি করা হবে।
সাধারণভাবে, বাজেট ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। কিন্তু বর্তমান ব্যাংক খাতের অবস্থা বিবেচনায় নিলে কিছু প্রশ্ন সামনে আসে।
স্ট্রিম: আপনি কি এখানে বিশেষ তহবিল গঠনের কথাটি বলতে চাচ্ছেন?
সাজ্জাদ জহির: হ্যাঁ, ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিমের কথা বলছি। এখানে একটি সাংঘর্ষিক বিষয় হলো— একদিকে মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অধিক রেখে অর্থনীতি সংকোচনের কথা ভাবা হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের তহবিল সৃষ্টির ফলে সেই সংকোচন নীতি ব্যাহত হবার সম্ভাবনা থাকে।
স্ট্রিম: কিন্তু এই তহবিল তো স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তাই না?
সাজ্জাদ জহির: হ্যাঁ, সহজ সুদে। কিন্তু বাজারদরের চেয়ে কম সুদে বা ভর্তুকি দিয়ে যখন কোনো তহবিল দেওয়া হয়, তখন তার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর নয়। পুরনো ধারায় চললে এটি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিতে কোনো সাহায্য করবে না, বরং উল্টো ক্ষতি করতে পারে।
স্ট্রিম: এই তহবিলের অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা করছেন কি?
সাজ্জাদ জহির: অতীতেও এমন তহবিলের অপব্যবহার হয়েছে। ব্যাংকিং খাত এসব ক্ষেত্রে বেশ পটু। বারবার খেলাপি হওয়ার পরও যদি কাউকে রিক্যাপিটালাইজেশনের নামে পুনঃঅর্থায়নের সুবিধা দেওয়া হয়, তার মানে হলো ফান্ডের সঠিক ব্যবহারে তারা এখনও অভ্যস্ত হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককে ভাবতে হবে তারা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন কতটা সুদৃঢ় করতে চায় ও পারবে।
এছাড়া, আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান এবং ফান্ডের কস্ট নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো তাদের হিসাবপত্র বা 'বুকস' ঠিক করতে পারেনি। ২০১৭ সালে এস. আলম গ্রুপের কয়েকটি ব্যাংক দখল, ২০১৯ সালে পি. কে. হালদার কেলেঙ্কারি এবং ২০২০ সালের সিকদার ব্রাদার্সের ঘটনার পর থেকে ব্যাংকিং খাতে বড় সংকট তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।
৫ আগস্টের পর আমরা জানতে পেরেছি যে ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ লুটপাট হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। এই ক্ষত তারা কতটুকু সামলে উঠতে পেরেছে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই যদি নতুন করে রিফাইন্যান্সিং স্কিম দেওয়া হয়, তবে ব্যাংকগুলো তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। অতীতে রিক্যাপিটালাইজেশনের নামে কোনো কোনো ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কে পেল? ক্ষুদ্র আমানতকারীরা পেল, নাকি নাম বদলে পুরনো খেলাপিরাই আবার টাকা নিয়ে গেল— এই হিসাবগুলো সামনে আসা উচিত। প্রতিটি টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ দিনশেষে এটি জনগণের করের বা রাষ্ট্রীয় দেনার টাকা।
স্ট্রিম: একটি প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব ব্যাংক সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি বা লুটপাটের শিকার হয়েছে, তাদের করের টাকা দিয়ে রিফাইন্যান্স বা বেইলআউট করার চূড়ান্ত ফল কী? করের অর্থের এ ধরনের ব্যবহার অর্থনীতিতে কোনো বৈষম্য তৈরি করে কি না?
সাজ্জাদ জহির: এই অর্থ শুধু করের নয়, তিনটি উৎস থেকে আসতে পারে। প্রথমত, টাকা ছাপিয়ে (প্রিন্টিং মানি); দ্বিতীয়ত, বিদেশি ঋণের টাকাকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে; এবং তৃতীয়ত, সরাসরি সরকারি রাজস্ব থেকে। এই তিনটি পন্থাই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ক্ষতিকর এই কারণে যে, যার কাছ থেকে কর বা ঋণের দায় নেওয়া হচ্ছে, অর্থটা যদি তার কাছেই ফিরে যেত, তবে সম্পদের সুষম বণ্টন বা ডিস্ট্রিবিউটিভ জাস্টিস নিশ্চিত হতো। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থ যখন হস্তান্তর হয়, তখন দেখতে হবে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা কতটুকু সুবিধা পাচ্ছেন, আর ঋণখেলাপিরা সেই সুবিধা পুনরায় লুফে নিচ্ছে কি না। এ কারণেই ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন—কাকে, কীভাবে অর্থ দেওয়া হচ্ছে তা নজরদারিতে আনা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার যুক্তি দিয়ে আমরা যদি এ ধরনের ব্যাংকগুলোকে নির্বিচারে অর্থ সহায়তা দিয়ে সামাল দিতে যাই এবং এর ফলে ব্যাংক ডোবানোর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোই যদি আরও শক্তিশালী হয়, তবে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।
এ জন্যই ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংকে রূপান্তর এবং ব্যাংক একীভূত করার (মার্জার) যে আলোচনাগুলো এসেছিল, সেসময় আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলাম। ব্যাংকগুলোকে শুধু মার্জার না করে অবসায়ন বা লিকুইডেশনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হলো না? এই প্রক্রিয়ায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকের তথাকথিত মালিকদের দায় কতটুকু, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আমি ‘তথাকথিত মালিক’ বলছি কারণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানার বিষয়টি পুনরায় ভাবা প্রয়োজন।
স্ট্রিম: ব্যাংকের প্রকৃত মালিক তো আমানতকারীরা।
সাজ্জাদ জহির: একদম ঠিক। যাদের টাকায় ব্যাংক চলে, তারাই প্রকৃত মালিক। কিন্তু তারা সাধারণত সুবিধাবঞ্চিতই থেকে যান। আমানতকারীদের অধিকার রক্ষায় নিজেদের মাঝে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা বিশ্বের কোথাও সেভাবে দেখা যায় না, তাই আমাদের দেশে তা আশা করা অবাস্তব। এ জন্য ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের একটি পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এর আগে বিধি সংস্থাকে (রেগুলেটর) নিজের দিকে তাকাতে হবে এবং আত্ম-বিশ্লেষণ করতে হবে। তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন, সেই তুলনায় বিধি সংস্থার কর্মীদের বেতন কাঠামো খুবই নগণ্য। একটি ভালো বেতন কাঠামো এবং সুস্থ ও সম্মানজনক জীবনের নিরাপত্তা মেধাবীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে।
স্ট্রিম: এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিও তো চলে আসে?
সাজ্জাদ জহির: স্বায়ত্তশাসন বিষয়টি কাগজে-কলমে একরকম, আর বাস্তব প্রয়োগ একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলতে আমরা মূলত এর ম্যানেজমেন্ট (ব্যবস্থাপনা দল) এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস বা পর্ষদকে বুঝি। এখন প্রশ্ন হলো, পর্ষদ, গভর্নর এবং ম্যানেজমেন্টের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন? আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গভর্নরের ও পরিচালকদের যোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার জায়গাগুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে। দিন শেষে সরকারের নিয়ন্ত্রণই বজায় থাকে।
গভর্নরের দ্বৈত ভূমিকা রয়েছে—তিনি একই সঙ্গে ম্যানেজমেন্টের প্রধান এবং পর্ষদের চেয়ারম্যান। পর্ষদ যদি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না রাখে, তবে ম্যানেজমেন্টই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এই সম্পর্কগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত না করে শুধু কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
স্ট্রিম: বর্তমানে সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি। গত প্রায় চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশে, যা এখন ডাবল ডিজিটের দিকে এগোচ্ছে। অথচ বাজেটে ও মুদ্রানীতিতে এটিকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। অর্থনীতিশাস্ত্র অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি বা বিনিয়োগ বাড়ানো—এ দুটি বিপরীতমুখী। সরকার কি এখানে কোনো জটিলতায় আটকে আছে?
সাজ্জাদ জহির: এই সমস্যা শুধু বর্তমান সময়ের নয়, এটি আরও আগে থেকেই চলে আসছে। বহুদিন থেকেই আমাদের অর্থনীতির মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেমিট্যান্স। নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিকরা অর্থনীতিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখানে প্রধান লক্ষ্যই হলো—লোক তৈরি করো এবং বিদেশে পাঠাও। প্রাচীনকালে কৌটিল্যের আমলে যেমন বেশি জমি আবাদ করে খাজনা আদায়ের নীতি ছিল, এখন ঠিক তেমনি বেশি লোক বিদেশে পাঠিয়ে রেমিট্যান্স বা আয় বাড়ানোর নীতি চলছে। অথচ এই রেমিট্যান্সকে বিনিয়োগে রূপান্তরে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভিন্ন পথে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হওয়ায় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে।
বিকল্প হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব হলেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে রাশ টানা সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই এর পর্যাপ্ততা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আমরা দেশীয় কর্মসংস্থান প্রত্যাশা করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পশ্চিমা বা চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কারিগরি জ্ঞান—সবই তাদের দেশ থেকে আসে। কারিগরি জ্ঞান বা টেকনোলজি ট্রান্সফারের বিষয়টি একদম তলানিতে থেকে যায়। যেমন, জাপানিদের মেট্রো রেল প্রকল্প থেকে আমরা হয়তো ট্রেন পরিচালনার কারিগরি জ্ঞান পাব, কিন্তু নিজেরা ট্রেনের বগি বা রেলট্র্যাক তৈরির মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতা কতটা অর্জন করতে পারব, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যেকোনো বড় বিনিয়োগের সাথে দেশীয় কর্মসংস্থান সংযুক্তি থাকা উচিত।
স্ট্রিম: আপনি বোধহয় চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন?
সাজ্জাদ জহির: চীনা বিনিয়োগ সেদেশের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়টি বেশ আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। তবে এই স্থানান্তর পরিবেশবান্ধব হবে কি না, তা নিয়ে একটা উদ্বেগ বরাবরই রয়েছে। আমরা দেখছি, তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগ আনার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি কি স্বল্পমেয়াদে বাঁচার চেষ্টা? এতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সাথে আপস করছি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। আমার মতে, রাজনৈতিক দল ও জনমতের ভিত্তিতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ন্যূনতম শর্ত বা ‘বটম লাইন’ থাকা উচিত। সেই শর্ত পূরণ না হলে আমাদের বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। পরিবেশের ক্ষতি করে বিনিয়োগ আনার চেয়ে দেশীয় শ্রম দিয়ে সাধারণভাবে টিকে থাকাও দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গলজনক।
পাশাপাশি, বিনিয়োগের সাথে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা ‘টেকনিক্যাল নো-হাউ’ ট্রান্সফারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে না। এ ক্ষেত্রে দরকষাকষির পর্যায়ে আমাদের বড় দুর্বলতা রয়েছে। আমি মনে করি, এ ধরনের চুক্তিগুলোর মৌলিক বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত এবং সেখানে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (গোপনীয়তার চুক্তি) এর অজুহাতে অস্পষ্টতা রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাম্য নয়। যিনিই দরকষাকষি করুন না কেন, জনস্বার্থে তাকে জানাতে হবে যে দেশের স্বার্থে চিহ্নিত ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হচ্ছে।
স্ট্রিম: আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি বা অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সাজ্জাদ জহির: আমি যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের বৃহৎ ভূ-রাজনীতির দিকে না গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অবস্থার কথাই আগে বলব। ঐতিহাসিকভাবে আমরা এই উপমহাদেশের অংশ। কিন্তু বর্তমানে ভারতের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী—বিশেষ করে হিন্দিভাষী বলয়— ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুচ্ছ করে পুরো ভারতের এবং উপমহাদেশের একচেটিয়া প্রতিনিধিত্ব দাবি করে বসেছে। উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে এই গোষ্ঠীর সম্পর্ক কখনোই খুব একটা সুখকর ছিল না। ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের এই চরম পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আমার মতে, বহিরাগত শক্তির প্রভাবের চেয়ে এই আঞ্চলিক সমস্যাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক হারমনি বা সম্প্রীতি নষ্ট করার পেছনে আমি এই আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই দায়ী করি।
চীন সফরের ফলাফলগুলোর মাঝে ‘কানেক্টিভিটি’ বা যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগে কানেক্টিভিটির নামে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ একাধিক ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে। একজন বিক্রেতা যদি একক ক্রেতার কাছে অনেকগুলো বিকল্প পথ তুলে দেয়, সেক্ষেত্রে একক ক্রেতা অধিক শোষণের সুযোগ পায় এবং অতিমাত্রায় লাভবান হয়। আমাদের বুকের ওপর দিয়ে অনেক রাস্তা ও রেলপথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ক্রেতা মাত্র একজন। ফলে আমাদের বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন অনেক কম। আমাদের নীতিনির্ধারক ও আমলারা পর্যাপ্ত দরকষাকষি না করে প্রায় বিনা পয়সাতেই এসব সুবিধা দিয়ে উন্মুখ ছিলেন।
স্ট্রিম: এখন চীনের তরফ থেকে যে নতুন কানেক্টিভিটির প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কি বাড়বে?
সাজ্জাদ জহির: পূর্বদিকে কানেক্টিভিটি বাড়লে বিক্রেতা হিসেবে আমাদের বিকল্প বাড়বে। মিয়ানমার, আরাকান বা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে বৈরিতা বা সংকট রয়েছে, যোগাযোগ বাড়লে তা অনেকটাই কমে আসতে বাধ্য বলে আমি মনে করি। চীনের নতুন প্রস্তাবটিকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখি, যেখানে ভারতেরও অংশগ্রহণ থাকা উচিত। শুধু বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার) নয়, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তা কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের উপকার করে এবং আঞ্চলিক বিরোধ জিইয়ে রাখে।
একসময় এশিয়ান হাইওয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে এডিবি ও ইউএন এসক্যাপ বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে (বাইপাস করে) ভারতের স্বার্থে মিজোরাম থেকে শুরু হওয়া কালাদান প্রজেক্টের পথ বেয়ে যোগাযোগ তৈরিতে উদ্যোগী ছিল। কিন্তু এখন যদি আমরা বিকল্প হিসেবে টেকনাফ দিয়ে মিয়ানমার, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারি, তবে তা বাংলাদেশের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীলতা আনবে। তবে শর্ত হলো, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমান্তে বর্তমানে যে সংকট চলছে, তা অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য আমাদের নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা জরুরি এবং ন্যূনতম আরও তিনটি দেশের আর্থিক স্বার্থের ভারসাম্য আনার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক সুযোগই আমাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাজ্জাদ জহির: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।
.png)
.png)

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সংসদেই ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
২ ঘণ্টা আগে
বন্যার সময় মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে হাজির হয় পণ্যবাজারের উল্লম্ফন। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এবারও সেই চিত্র ফিরে এসেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলা যায়।
২ ঘণ্টা আগে
হামে শিশুমৃত্যুর এক দীর্ঘ ও মর্মান্তিক মিছিল দেখছে দেশ। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। মাত্র গতকালও ৫ শিশুর মৃত্যু এবং ৯৬৯ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
গত ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় বেশতেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সামিটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ককে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রোগ্রামে পুনরায় যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে