রাঙামাটিতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, বাঘাইছড়িতে যাতায়াত বন্ধ পাঁচদিন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙামাটি

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৪২
মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়ক দেবে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটিতে টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক জরুরিভিত্তিতে মেরামতে অন্তত ১ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলছেন প্রকৌশলীরা। তবে টেকসইভাবে মেরামত করলে ৮-১০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়কের বিভিন্নস্থানে দেবে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে পাঁচদিন ধরে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি কার্যালয় জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রোববার) পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণের প্রভাবে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাউখালী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে। এগুলো হলো বেতবুনিয়া, কলমপতি ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন।

এছাড়া লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৫ কিলোমিটার, বাঘাইছড়ির সদর ও মারিশ্যা ইউনিয়নে ১০, কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নে ১০ ও রাজস্থলীর বাঙালহালিয়া ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়কের কিছু কিছু অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলজিইডির প্রাথমিক তথ্য সূত্রে প্রকৌশলীরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ছাড়াও দুই কালভার্ট স্রোতে ধসে গেছে। কিছু এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলে সড়কের ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হবে। অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরুরিভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ১ কোটি টাকা ব্যয় হবে এলজিইডির। টেকসইভাবে মেরামত করলে ৮-১০ কোটি টাকার প্রয়োজন।

এলজিইডি রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ১ কোটি টাকা প্রয়োজন। আমাদের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ আছে। পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে।

রাজস্থলীতে কালভার্ট ধসে সড়ক বিচ্ছিন্ন, পাকা সড়কে এখন ভরসা বাঁশের সাঁকো। সংগৃহীত ছবি
রাজস্থলীতে কালভার্ট ধসে সড়ক বিচ্ছিন্ন, পাকা সড়কে এখন ভরসা বাঁশের সাঁকো। সংগৃহীত ছবি

বাঘাইছড়ির সঙ্গে সড়ক বন্ধ ৫ দিন

এদিকে আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির সঙ্গে পাঁচদিন ধরে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়কের দুইকিলো এলাকায় সড়ক দেবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সড়কটি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যে হলেও তা খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও দীঘিনালা উপজেলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে সড়কটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়াও মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়কের ৭, ৯, ১১, ৩ ও ২ কিলো এলাকায় সড়কের পাঁচটি অংশ পাহাড়ধসের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নাছির বলেন, সড়কটি প্রায় ৩ ফুট দেবে গিয়েছে। কোনো রকম মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও পাঁচ-ছয়জন ঠেলে নিয়ে যেতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বিশেষ করে অসুস্থ ও জরুরি রোগীদের।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, সড়কটি এখনো বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে সড়কটি সাময়িকভাবে মেরামত করে যানচলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে। তবে বাঘাইছড়ির মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়কের পাঁচটি পয়েন্ট বেশি পাহাড়ধসের কারণে পুরোটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী বলেন, সড়কটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য একটা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) এখন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। প্রকল্পটি পাস হলে রাস্তাটি ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত