ডা. মুশতাক হোসেন

হামে শিশুমৃত্যুর এক দীর্ঘ ও মর্মান্তিক মিছিল দেখছে দেশ। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। মাত্র গতকালও ৫ শিশুর মৃত্যু এবং ৯৬৯ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু কেবল দুঃখজনকই নয়, বরং আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক চরম অবনতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। এই পরিস্থিতি যদি এখনই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে বিশ্বজুড়ে আমাদের টিকাদান কর্মসূচির যে সুনাম ছিল, তা সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে যাবে।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, টিকাদান কর্মসূচিতে আমাদের এমন ঘাটতি কেন হলো? একসময় আমাদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের তালিকা করতেন, অভিভাবকদের বুঝিয়ে টিকা দিতেন। কিন্তু এবার হামের প্রাদুর্ভাব যখন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করল, তখন চোখের সামনে শিশুদের মৃত্যু ঠেকাতে তিন মাস সময় নিয়ে স্বাভাবিক ‘মাইক্রোপ্ল্যানিং’ বা অণুপরিকল্পনা করার সুযোগ ছিল না। খসড়া হিসাব নিয়ে তড়িঘড়ি করে টিকাদান শুরু করতে হয়েছিল। জরুরি অবস্থায় সেই পদক্ষেপ হয়তো যৌক্তিক ছিল, কিন্তু এর ফলে বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
দুঃখজনক বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘাটতির কথা স্বীকার করতে চাইছে না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই গাফিলতি বা অস্বীকার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জুলাই মাসে এসে ‘আগের সরকার টিকা দেয়নি’—এমন খোঁড়া যুক্তি বা পরস্পরকে দোষারোপ করার ‘ব্লেম গেম’ বন্ধ করা প্রয়োজন। আগের সরকার টিকা না দিলে, পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া শিশুরা কেন মারা যাচ্ছে, সেই দায় তো বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সেবাদাতা পর্যায় পর্যন্ত এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
হামের এই প্রকোপ থামাতে হলে এখন দুটি কাজ যুগপৎভাবে করতে হবে। প্রথমত, অবিলম্বে আগের সেই মাইক্রোপ্ল্যানিং ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করতে হবে, যারা টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, ১৫ মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়ার পর, বয়স যখন ১৫ মাস হবে তখন (বা ৬ মাস পর) দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করতে হবে। এই মাইক্রোপ্ল্যানিং সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, হামের মৃত্যু কমাতে হলে শুধু টিকার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, কমিউনিটি বা সমাজভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে। লাখ লাখ রোগী যখন বড় হাসপাতালগুলোতে ভিড় করে, তখন বিশ্বের কোনো উন্নত দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও তা সামাল দিতে পারে না। আমেরিকার মতো দেশের পক্ষেও তা সম্ভব নয়। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে গোড়াতেই রোগীকে শনাক্ত করা। কমিউনিটি পর্যায়ে হাম রোগী শনাক্ত করে তাদের ‘কমিউনিটি আইসোলেশন’ বা আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন—দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের শিশুরা পুষ্টি ও ভালো পরিবেশের কারণে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হতে পারে। কিন্তু দিনমজুর, রিকশাচালক বা গৃহকর্মীর সন্তানরা অপুষ্টির শিকার হওয়ায় সহজেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই প্রান্তিক শিশুদের চিহ্নিত করে প্রাথমিক পর্যায়েই যদি পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা যায়, তবে তাদের আইসিইউ পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না।
আমাদের হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের গলদ রয়েছে। একজন দরিদ্র অভিভাবক যখন উপজেলা হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে যান, তখন তাকে বাইরে থেকে ওষুধ ও টেস্ট করানোর ফর্দ ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় ‘রোগী এখনো বেশি খারাপ হয়নি’ বলে ভর্তিও নেওয়া হয় না। শেষ মুহূর্তে যখন শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে, তখন তাকে ঢাকায় আইসিইউতে সরাসরি চলে যেতে বলা হয়। এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষ জানে বলেই তারা খামোখা সময় ও টাকা নষ্ট করে স্থানীয় হাসপাতালে যেতে চায় না। এই আস্থার সংকট দূর করতে হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা দরিদ্র রোগীদের শুরুতেই ভর্তি করে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের স্বাস্থ্য খাতের ভুল নীতি ও অগ্রাধিকার। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিদেশ থেকে আইসিইউ যন্ত্রপাতি আমদানির দিকে আমাদের যতটা আগ্রহ, তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ততটা আগ্রহ নেই। আইসিইউ আমদানির পেছনে হয়তো ঠিকাদার বা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু এই বিশাল খরচের সামান্য একটি অংশ যদি কমিউনিটি পর্যায়ে ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ডিম-কলা-রুটির মতো সাধারণ খাবার সরবরাহে ব্যয় করা হতো, তবে তার ফলাফল হতো অনেক বেশি টেকসই। প্রাথমিক পর্যায়ে হাজার টাকা খরচ করলে যে জীবন বাঁচে, শেষ পর্যায়ে লাখ টাকা খরচ করে আইসিইউ দিয়েও তা বাঁচানো যায় না।
প্রায় হাজারখানেক শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় কে নেবে? এই দায়ভার নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিতে হবে।
ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে হলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সর্বোচ্চ (টারশিয়ারি)—এই তিন স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়েই সম্পন্ন হয়ে যায়। শুধুমাত্র জটিল রোগীরাই যেন বড় হাসপাতালে আসেন।
হামে হাজার ছুঁই ছুঁই শিশুমৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আমাদের আর হেলাফেলার সময় নেই। সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝতে হবে, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। মাইক্রোপ্ল্যানিং সম্পন্ন করে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই কেবল এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব।
ডা. মুশতাক হোসেন: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

হামে শিশুমৃত্যুর এক দীর্ঘ ও মর্মান্তিক মিছিল দেখছে দেশ। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। মাত্র গতকালও ৫ শিশুর মৃত্যু এবং ৯৬৯ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু কেবল দুঃখজনকই নয়, বরং আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক চরম অবনতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। এই পরিস্থিতি যদি এখনই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে বিশ্বজুড়ে আমাদের টিকাদান কর্মসূচির যে সুনাম ছিল, তা সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে যাবে।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, টিকাদান কর্মসূচিতে আমাদের এমন ঘাটতি কেন হলো? একসময় আমাদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের তালিকা করতেন, অভিভাবকদের বুঝিয়ে টিকা দিতেন। কিন্তু এবার হামের প্রাদুর্ভাব যখন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করল, তখন চোখের সামনে শিশুদের মৃত্যু ঠেকাতে তিন মাস সময় নিয়ে স্বাভাবিক ‘মাইক্রোপ্ল্যানিং’ বা অণুপরিকল্পনা করার সুযোগ ছিল না। খসড়া হিসাব নিয়ে তড়িঘড়ি করে টিকাদান শুরু করতে হয়েছিল। জরুরি অবস্থায় সেই পদক্ষেপ হয়তো যৌক্তিক ছিল, কিন্তু এর ফলে বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
দুঃখজনক বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘাটতির কথা স্বীকার করতে চাইছে না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই গাফিলতি বা অস্বীকার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জুলাই মাসে এসে ‘আগের সরকার টিকা দেয়নি’—এমন খোঁড়া যুক্তি বা পরস্পরকে দোষারোপ করার ‘ব্লেম গেম’ বন্ধ করা প্রয়োজন। আগের সরকার টিকা না দিলে, পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া শিশুরা কেন মারা যাচ্ছে, সেই দায় তো বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সেবাদাতা পর্যায় পর্যন্ত এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
হামের এই প্রকোপ থামাতে হলে এখন দুটি কাজ যুগপৎভাবে করতে হবে। প্রথমত, অবিলম্বে আগের সেই মাইক্রোপ্ল্যানিং ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করতে হবে, যারা টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, ১৫ মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়ার পর, বয়স যখন ১৫ মাস হবে তখন (বা ৬ মাস পর) দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করতে হবে। এই মাইক্রোপ্ল্যানিং সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, হামের মৃত্যু কমাতে হলে শুধু টিকার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, কমিউনিটি বা সমাজভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে। লাখ লাখ রোগী যখন বড় হাসপাতালগুলোতে ভিড় করে, তখন বিশ্বের কোনো উন্নত দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও তা সামাল দিতে পারে না। আমেরিকার মতো দেশের পক্ষেও তা সম্ভব নয়। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে গোড়াতেই রোগীকে শনাক্ত করা। কমিউনিটি পর্যায়ে হাম রোগী শনাক্ত করে তাদের ‘কমিউনিটি আইসোলেশন’ বা আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন—দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের শিশুরা পুষ্টি ও ভালো পরিবেশের কারণে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হতে পারে। কিন্তু দিনমজুর, রিকশাচালক বা গৃহকর্মীর সন্তানরা অপুষ্টির শিকার হওয়ায় সহজেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই প্রান্তিক শিশুদের চিহ্নিত করে প্রাথমিক পর্যায়েই যদি পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা যায়, তবে তাদের আইসিইউ পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না।
আমাদের হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের গলদ রয়েছে। একজন দরিদ্র অভিভাবক যখন উপজেলা হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে যান, তখন তাকে বাইরে থেকে ওষুধ ও টেস্ট করানোর ফর্দ ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় ‘রোগী এখনো বেশি খারাপ হয়নি’ বলে ভর্তিও নেওয়া হয় না। শেষ মুহূর্তে যখন শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে, তখন তাকে ঢাকায় আইসিইউতে সরাসরি চলে যেতে বলা হয়। এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষ জানে বলেই তারা খামোখা সময় ও টাকা নষ্ট করে স্থানীয় হাসপাতালে যেতে চায় না। এই আস্থার সংকট দূর করতে হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা দরিদ্র রোগীদের শুরুতেই ভর্তি করে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের স্বাস্থ্য খাতের ভুল নীতি ও অগ্রাধিকার। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিদেশ থেকে আইসিইউ যন্ত্রপাতি আমদানির দিকে আমাদের যতটা আগ্রহ, তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ততটা আগ্রহ নেই। আইসিইউ আমদানির পেছনে হয়তো ঠিকাদার বা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু এই বিশাল খরচের সামান্য একটি অংশ যদি কমিউনিটি পর্যায়ে ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ডিম-কলা-রুটির মতো সাধারণ খাবার সরবরাহে ব্যয় করা হতো, তবে তার ফলাফল হতো অনেক বেশি টেকসই। প্রাথমিক পর্যায়ে হাজার টাকা খরচ করলে যে জীবন বাঁচে, শেষ পর্যায়ে লাখ টাকা খরচ করে আইসিইউ দিয়েও তা বাঁচানো যায় না।
প্রায় হাজারখানেক শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় কে নেবে? এই দায়ভার নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিতে হবে।
ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে হলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সর্বোচ্চ (টারশিয়ারি)—এই তিন স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়েই সম্পন্ন হয়ে যায়। শুধুমাত্র জটিল রোগীরাই যেন বড় হাসপাতালে আসেন।
হামে হাজার ছুঁই ছুঁই শিশুমৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আমাদের আর হেলাফেলার সময় নেই। সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝতে হবে, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। মাইক্রোপ্ল্যানিং সম্পন্ন করে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই কেবল এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব।
ডা. মুশতাক হোসেন: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
.png)

গত ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় বেশতেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সামিটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ককে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রোগ্রামে পুনরায় যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় শান্তি প্রক্রিয়া বিপন্ন হয়ে পড়ল কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা সম্পন্নের পরপরই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য হরমুজ প্রণালিতে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দায়ী বলেই মনে হচ্ছে।
২১ ঘণ্টা আগে
‘অ্যাটলাস লায়ন’ খ্যাত মরক্কোর জাতীয় ফুটবল দল প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলে তাদের উত্থান কোনো আকস্মিক চমক বা রূপকথা নয়; বরং তারা এখন সাফল্যের এক পরিণত মডেলে পরিণত হয়েছে। আর ঠিক এখানেই বদলে গেছে সব হিসাব-নিকাশ।
২১ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে আদর্শ ও চিন্তার প্রতিফলন ঘটে, সেগুলো একেবারে নতুন নয়। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও আমেরিকার উপনিবেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা লেগেই ছিল।
১২ জুলাই ২০২৬