স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বন্যার সময় মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে হাজির হয় পণ্যবাজারের উল্লম্ফন। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এবারও সেই চিত্র ফিরে এসেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলা যায়। স্থবির হয়ে পড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। এ অবস্থায় বেড়ে গেছে শুকনো খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম। যে মানুষ বন্যায় বিপন্ন, তাকেই এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে চিড়া-মুড়ি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?
ব্যবসায়ীদের দাবি—পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, লোডিং-আনলোডিংয়ে ক্ষতি বাড়ছে। এসব যুক্তি সত্য বটে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব বাজারে পড়াটা স্বাভাবিক। তবে পাইকারি বাজারে যখন দাম মোটামুটি স্থিতিশীল, তখন খুচরায় কেজিপ্রতি দু-তিন টাকা বৃদ্ধি কেবল পরিবহন ব্যয়ের হিসাবে মেলে না। এক সপ্তাহে চিড়ার দাম বস্তাপ্রতি একশো, সেমাইয়ের দাম টুকরিপ্রতি দেড়শো টাকা বেড়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক বলা যায় না। এতে সুযোগসন্ধানীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা স্পষ্ট। বন্যাকবলিতদের বাড়তি চাহিদাকে অস্বাভাবিক মুনাফার উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহারের এই প্রবণতা পরিচিত রোগ। কড়া মনিটরিং না থাকলে এটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আছদগঞ্জ থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ হয়। এই বাজারগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও যদি প্রান্তিক অঞ্চলে পণ্য যথাসময়ে না পৌঁছায়, তাহলে সমস্যাটির দায় শুধু আবহাওয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর দায়ভার নিতে হবে বিতরণ ব্যবস্থাপকদেরও।
বন্যার মতো পূর্বানুমানযোগ্য দুর্যোগের আগেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা এবং বিকল্প সরবরাহ রুট প্রস্তুত রাখা পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত ছিল। সন্দ্বীপের মতো দ্বীপ উপজেলায় সমুদ্র উত্তাল হলেই পণ্যবাহী ট্রলার বন্ধ হয়ে যায়; পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে রাস্তা বন্ধ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনপদ—এ দুর্বলতাগুলো প্রতিবছর জানা থাকলেও আগাম প্রস্তুতি চোখে পড়ে না।
বন্যার সময় শুকনো খাদ্যের চাহিদা বাড়াটাই স্বাভাবিক। চিড়া-মুড়ি, সেমাই, বিস্কুট, ডিম এই সময়ে কেবল পেট ভরানোর উপকরণ নয়; মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। ত্রাণসামগ্রী হিসেবে এসবের চাহিদা বাড়লে পাইকারি দামেও প্রভাব পড়ে। এখানেই সরকারের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। দুর্গত এলাকায় ভর্তুকি দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা গেলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কমবে। একইসঙ্গে বাজার তদারকি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েও শাস্তিকে দৃষ্টান্তমূলক করা যায়। জেলের সুযোগ থাকলে গুরুতর ক্ষেত্রে সেটাও নেওয়া প্রয়োজন।
বন্যার পূর্বাভাস মিললেও প্রায় প্রতিবছর একই প্রস্তুতিহীনতার শিকার হই আমরা। এই চক্র ভাঙতে দুর্যোগকালীন বাজার ব্যবস্থাপনাকে দুর্যোগ প্রস্তুতির মূল পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আগাম মজুদ, বিকল্প সরবরাহ রুট, দ্রুত বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উপস্থিতি—এসব নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগকালে পণ্যবাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়া কঠিন নয়।
মানুষ যখন অসহায়, তখন তাদের পকেট কাটার সুযোগ কাউকে দেওয়া যায় না। এই বার্তা সরকারকে কেবল মুখে নয়; কাজের মাধ্যমে দিতে হবে।

বন্যার সময় মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে হাজির হয় পণ্যবাজারের উল্লম্ফন। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত সাতটি জেলায় সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এবারও সেই চিত্র ফিরে এসেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলা যায়। স্থবির হয়ে পড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। এ অবস্থায় বেড়ে গেছে শুকনো খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম। যে মানুষ বন্যায় বিপন্ন, তাকেই এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে চিড়া-মুড়ি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?
ব্যবসায়ীদের দাবি—পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, লোডিং-আনলোডিংয়ে ক্ষতি বাড়ছে। এসব যুক্তি সত্য বটে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব বাজারে পড়াটা স্বাভাবিক। তবে পাইকারি বাজারে যখন দাম মোটামুটি স্থিতিশীল, তখন খুচরায় কেজিপ্রতি দু-তিন টাকা বৃদ্ধি কেবল পরিবহন ব্যয়ের হিসাবে মেলে না। এক সপ্তাহে চিড়ার দাম বস্তাপ্রতি একশো, সেমাইয়ের দাম টুকরিপ্রতি দেড়শো টাকা বেড়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক বলা যায় না। এতে সুযোগসন্ধানীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা স্পষ্ট। বন্যাকবলিতদের বাড়তি চাহিদাকে অস্বাভাবিক মুনাফার উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহারের এই প্রবণতা পরিচিত রোগ। কড়া মনিটরিং না থাকলে এটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আছদগঞ্জ থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ হয়। এই বাজারগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও যদি প্রান্তিক অঞ্চলে পণ্য যথাসময়ে না পৌঁছায়, তাহলে সমস্যাটির দায় শুধু আবহাওয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর দায়ভার নিতে হবে বিতরণ ব্যবস্থাপকদেরও।
বন্যার মতো পূর্বানুমানযোগ্য দুর্যোগের আগেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা এবং বিকল্প সরবরাহ রুট প্রস্তুত রাখা পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত ছিল। সন্দ্বীপের মতো দ্বীপ উপজেলায় সমুদ্র উত্তাল হলেই পণ্যবাহী ট্রলার বন্ধ হয়ে যায়; পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে রাস্তা বন্ধ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনপদ—এ দুর্বলতাগুলো প্রতিবছর জানা থাকলেও আগাম প্রস্তুতি চোখে পড়ে না।
বন্যার সময় শুকনো খাদ্যের চাহিদা বাড়াটাই স্বাভাবিক। চিড়া-মুড়ি, সেমাই, বিস্কুট, ডিম এই সময়ে কেবল পেট ভরানোর উপকরণ নয়; মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। ত্রাণসামগ্রী হিসেবে এসবের চাহিদা বাড়লে পাইকারি দামেও প্রভাব পড়ে। এখানেই সরকারের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। দুর্গত এলাকায় ভর্তুকি দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা গেলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কমবে। একইসঙ্গে বাজার তদারকি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েও শাস্তিকে দৃষ্টান্তমূলক করা যায়। জেলের সুযোগ থাকলে গুরুতর ক্ষেত্রে সেটাও নেওয়া প্রয়োজন।
বন্যার পূর্বাভাস মিললেও প্রায় প্রতিবছর একই প্রস্তুতিহীনতার শিকার হই আমরা। এই চক্র ভাঙতে দুর্যোগকালীন বাজার ব্যবস্থাপনাকে দুর্যোগ প্রস্তুতির মূল পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আগাম মজুদ, বিকল্প সরবরাহ রুট, দ্রুত বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উপস্থিতি—এসব নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগকালে পণ্যবাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়া কঠিন নয়।
মানুষ যখন অসহায়, তখন তাদের পকেট কাটার সুযোগ কাউকে দেওয়া যায় না। এই বার্তা সরকারকে কেবল মুখে নয়; কাজের মাধ্যমে দিতে হবে।
.png)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। আইন প্রণয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা। নতুন সংসদের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এসব কমিটি কতটা স্বাধীন, সক্রিয় ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম তার ওপর।
২১ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর ৬০ ভাগেরও বেশি কৃষি জমি কীটনাশক দূষণের ঝুঁকিতে এবং ৩০ ভাগেরও বেশি জমি উচ্চ ঝুঁকিতে। এইসব কীটনাশক ব্যবহারের নীতিমালা থাকলেও অধিকাংশ কৃষক তা জানে না এবং মানে না।
২৭ আগস্ট ২০২৬
বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দীর্ঘ বিবরণ লিখেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী শাসনামলে সরকারি দলের এবং ফ্যাসিবাদের প্রচার যন্ত্র হিসেবে বিটিভিকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিটিভি অতীতেও ক্রেডিবিলিট
২৭ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘ইসলামীয় নেটো’য় যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ, কেন পাক-সৌদি-তুর্কির হাত ধরতে চাইছে ঢাকা? চিন্তায় দিল্লি?’ শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আনন
২৭ আগস্ট ২০২৬