নাহিয়ান রহমান রচির সাক্ষাৎকার
বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশকে একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা—সবই এখন নীতিনির্ধারকদের প্রধান আলোচ্য। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র নির্বাহী সদস্য এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা স্ট্রিমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহবুবুল আলম তারেক।
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম: দেশের আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অনেক সংস্কারের আলাপ শোনা যায়। ২০২৫ সালে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কী কী উল্লেখযোগ্য সংস্কার ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিডার নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অগ্রাধিকার ছিল বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি বিনিয়োগ পরিবেশের বাস্তব সমস্যাগুলো জানা। এ লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২০০–২৫০ জন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হয়, যেখানে শিল্প অ্যাসোসিয়েশন ও বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সেই আলোচনা থেকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি হয়। এর ভিত্তিতে পাঁচটি প্রধান সমস্যা নির্ধারণ করা হয়—দুর্নীতি, সরকারি সেবার মান, শিল্প খাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত কনসালটেশনের অভাব, নীতির ধারাবাহিকতার ঘাটতি এবং রিসোর্স অ্যাক্সেস, বিশেষ করে জ্বালানি ও গ্যাস।
এই সমস্যাগুলো সমাধানে বিডা ২০২৫ সালে মোট ৩২টি সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে উদ্যোগগুলো উপস্থাপন করা হলে তারা নীতিগতভাবে একমত হন।
এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যেই ২৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থা, এইচএস কোড সরলীকরণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন এবং ফরেন লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা। পাশাপাশি আইপি ইন্টিগ্রেশন, এফডিআই ইনসেন্টিভ স্কিম ও বন্দর উন্নয়নসংক্রান্ত কৌশলগত উদ্যোগও অনুমোদন পেয়েছে। বাকি উদ্যোগগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্ট্রিম: বর্তমানে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন বিশেষ করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক প্রবণতার আলোকে?
নাহিয়ান রহমান রচি: বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুটো দিকই রয়েছে। ইতিবাচক দিক হলো, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও এফডিআই প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে এবং বিনিয়োগ পরিবেশে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। যেমন ২০২৫ সালে প্রথম ৩ প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় ৮০% বেড়েছে। নেতিবাচক বাস্তবতা হলো—সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এখনো প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ, যা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তুলনায় কম। ফলে বিনিয়োগের ভিত্তি এখনও ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি। গত এক বছরে একটি নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে, যা আগামী ছয় থেকে বারো মাসে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রাখে। এই পাইপলাইন ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে আমরা এখন পুনরুদ্ধারের পথে আছি।
স্ট্রিম: আগামী দিনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিডার স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনাগুলো কী?
নাহিয়ান রহমান রচি: স্বল্পমেয়াদে বিডার প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিনিয়োগ সহজীকরণ। বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন ব্যয় আকর্ষণীয় হলেও বিনিয়োগ শুরু করার সময় প্রশাসনিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। লাইসেন্স, অনুমোদন ও একাধিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল হয়। তাই লাইসেন্সিং, অনুমোদন, টাইম-টু-মার্কেট ও নীতির ধারাবাহিকতাসহ পুরো বিনিয়োগ যাত্রাকে সহজ করাই বিডার মূল লক্ষ্য।
মধ্যমেয়াদে অগ্রাধিকার হলো নীতিগত বাধা দূর করা। বিশেষ করে উদীয়মান খাতগুলোর জন্য ট্যাক্স ও কাস্টমস নীতি আধুনিক করা এবং দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশ নিশ্চিত করা। অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগের আগ্রহ আসে, কিন্তু বাস্তবে রূপ নেয় না। কারণ কাজ শুরু করতে গেলে বিনিয়োগকারীদের নানা চ্যালেঞ্জ ও জটিলতার মুখে পড়তে হয়। তাই বিনিয়োগ ফ্যাসিলিটেশনই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এই বিষয়টি সমাধানে বিডা ইতোমধ্যে কিছু কাজ শুরু করেছে এবং এগুলো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। যেমন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা। এখন বিডার অফিসেই বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একসঙ্গে বসে, যাতে একজন বিনিয়োগকারী এক জায়গা থেকেই ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সেবা পান।
২০১৮ সালে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলেও বাস্তবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে তাদের অনুমোদন ব্যবস্থা চালু রেখেছিল। ফলে একই সঙ্গে দুটি ব্যবস্থা চলায় এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়নি। এই সমস্যা দূর করে বাস্তবে একীভূত সেবা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
স্ট্রিম: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে না বাড়লেও, এই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে নীতিনির্ধারণে কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া গেছে বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেড় বিলিয়ন ডলারের এফডিআই বেজের মধ্যেই আটকে আছে এবং বড় কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া এই বেজ বাড়ানো সম্ভব নয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে কোনো দেশে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ তার ওপর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফ্র্যাগমেন্টেশন—লাইসেন্স, অনুমোদন ও একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ইত্যাদি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।
নীতিনির্ধারণের প্রধান শিক্ষা হলো—ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশনকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে এনে পুরো ব্যবস্থাকে সহজ ও সমন্বিত করা।
স্ট্রিম: বিনিয়োগ ঘিরে সরকারের উচ্চ প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কাঠামোগত বা নীতিগত বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, লজিস্টিকস ব্যবস্থা। বন্দরে ক্লিয়ারেন্স, কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগায় গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কঠিন হয়। বন্দর আধুনিকায়ন, ডিপ সি পোর্ট এবং ফ্রি ট্রেড জোন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এনার্জি সাস্টেইনেবিলিটি। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ চান। ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল, রিফাইনারি প্রকল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে আস্থা বাড়াবে।
তৃতীয়ত, ট্যাক্স প্রেডিক্টেবিলিটি। বিনিয়োগকারীরা পাঁচ থেকে দশ বছরের পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করেন। তাই এপিআই, মেডিকেল ডিভাইস ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উদীয়মান খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল কর কাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে।
স্ট্রিম: আশিক চৌধুরী বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব সুফল আসতে সময় লাগছে এটি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: শুরু হওয়া সংস্কারগুলোর পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগা স্বাভাবিক, কারণ কাঠামোগত সংস্কারের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না। তবে, কয়েকটি সংস্কার চালু হওয়ায়, যেমন বিদেশি লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই তাৎক্ষণিক সুফল মিলছে।
যেহেতু অধিকাংশ সংস্কার ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, তাই অন্তত ১২ মাস সময় লাগবে। বাস্তবসম্মতভাবে, আশা করা যায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু করে এসব সংস্কারের পূর্ণ প্রভাব স্পষ্ট হবে।
ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের প্রথম তিন কোয়ার্টারে এফডিআইয়ের ইকুইটি, রিইনভেস্টেড আর্নিংস ও লোন—সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এটিকে আপাতত একটি প্রাথমিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে; টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
স্ট্রিম: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: একটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে—অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এখনো যথেষ্ট পরিচিত ছিল না। বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ব্যয় এবং তরুণ জনসংখ্যার সুবিধা অনেক বিনিয়োগকারী পুরোপুরি জানতেন না। এ কারণে আমরা বুঝেছি যে সাধারণ ও বিস্তৃত প্রচারণার চেয়ে টার্গেটেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বেশি কার্যকর।
এই লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিকভাবে পাঁচটি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি একটি এফডিআই হিটম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ১৯টি অগ্রাধিকার খাত এবং প্রতিটি খাতের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ উৎস দেশগুলো চিহ্নিত রয়েছে। এই দেশ ও খাতভিত্তিক কৌশল অব্যাহত রাখলে বিনিয়োগ প্রচারণা আরও ফলপ্রসূ হবে।
স্ট্রিম: এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থেকে বিডা কী ধরনের নতুন কৌশল বা ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিডা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকেই কিছু ভিন্নধর্মী কৌশল গ্রহণ করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে বা বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে আগের নেতিবাচক ধারণা বদলান। এ কারণে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে কার্যকর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেমন, ইয়াং ওয়ান গ্রুপ কোরিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিলে তার প্রভাব অনেক বেশি হয়।
এই ধারণা থেকেই বিডা ইনভেস্টর অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর আওতায় মেটলাইফ, শেভরন, ইয়াং ওয়ান, লাফার্জ, ইউনাইটেড আই গ্যাসসহ বড় বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান করা হচ্ছে, যাতে তারা বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারেন।
পাশাপাশি বিডার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারী এক্সপ্লোরেশন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন—পুরো যাত্রায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পান। বিডাকে ইনভেস্টর-ফ্রেন্ডলি করতে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।
স্ট্রিম: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে আপনার দায়িত্বের মূল অগ্রাধিকারগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্বের অগ্রাধিকারগুলো সুস্পষ্ট ও ফলাফলভিত্তিক। আমার প্রধান কেপিআই হলো দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কৌশলগত ইন্টারভেনশন গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এর পাশাপাশি একটি সুসংগঠিত বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করা আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই পাইপলাইনে আগামী এক, তিন ও পাঁচ বছরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতেও এই কাঠামো ধরে কাজ চালানো যায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ও বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখাও আমার দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংক্ষেপে, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং কার্যকর বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি—এই দুটিই আমার দায়িত্বের মূল অগ্রাধিকার।
স্ট্রিম: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং সেগুলো মোকাবেলায় কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে কার্যকর বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে কোঅর্ডিনেশন ফ্র্যাগমেন্টেশন বা সমন্বয়ের অভাব। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। কোঅর্ডিনেশন বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
স্ট্রিম: আগামী এক থেকে তিন বছরে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী, এবং সেই আশাবাদের ভিত্তি কী?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমি আগামী এক থেকে তিন বছরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে খুবই আশাবাদী। এর প্রধান ভিত্তি হলো আমাদের এখন একটি সুসংগঠিত ও পরিচালনাযোগ্য বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে যা আগে ছিল না। এখন আমরা নির্দিষ্টভাবে জানি—কোন দেশ ও কোন খাতে কোন কোম্পানির সঙ্গে আগামী ছয় মাস, এক বছর বা দেড় বছরে কাজ করা হবে। আমরা একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছি। যেমন ২০২৫ সালে, আমাদের এই কিউরেটেড হাই-প্রবাবিলিটি ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইনে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ শনাক্ত ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
এই কাঠামোর কারণেই আমি বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক বছরে এফডিআই বর্তমান দেড় বিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য ও টেকসইভাবে বাড়বে। এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত, তাই এগুলোর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনও থাকবে। পরবর্তী সরকারগুলোও সেটা অব্যাহত রাখবে।
স্ট্রিম: চলমান সংস্কার ও পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ কোন নতুন অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি রিলায়েবল ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কম উৎপাদন ব্যয়, অনুকূল জনসংখ্যা কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থান—এই তিনটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আমাদের আছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে একটি রিজিওনাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ এই অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য একটি শক্তিশালী লিড ক্যান্ডিডেট হতে পারে।
স্ট্রিম: বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদারে যদি একটি অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার বা সিদ্ধান্ত চিহ্নিত করতে হয়, সেটি কোনটি হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমি মনে করি, ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সরলীকরণ ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রবেশের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা—এটাই বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর সংস্কার।
স্ট্রিম: কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করেছে বলে আমরা দেখেছি। এই অভিজ্ঞতা থেকে বিডা কী ধরনের বিশ্লেষণ বা নীতিগত শিক্ষা গ্রহণ করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: এটি শুধু বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট সমস্যা নয়; বরং বৈশ্বিক রিস্ট্রাকচারিংয়ের অংশ। বিডার অবস্থান স্পষ্ট—আমরা কোনো বিনিয়োগকারী হারাতে চাই না। যেসব ক্ষেত্রে নিজস্ব উন্নতির সুযোগ আছে, সেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটিই এই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া প্রধান শিক্ষা।
স্ট্রিম: সর্বশেষ, আজ যদি একজন বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করব কেন?’ আপনার এক বাক্যের উত্তর কী হবে?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমার উত্তর হবে—এটি একটি হাই-রিটার্ন মার্কেট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পাওয়ার বাস্তব সুযোগ অনেক। বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামী এক দশকের জন্য একটি ব্লু-চিপ বিনিয়োগ গন্তব্য।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
নাহিয়ান রহমান রচি: আপনাকেও ধন্যবাদ। ঢাকা স্ট্রিমের পাঠকদের জন্য শুভকামনা।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশকে একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা—সবই এখন নীতিনির্ধারকদের প্রধান আলোচ্য। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র নির্বাহী সদস্য এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা স্ট্রিমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহবুবুল আলম তারেক।
স্ট্রিম: দেশের আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অনেক সংস্কারের আলাপ শোনা যায়। ২০২৫ সালে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কী কী উল্লেখযোগ্য সংস্কার ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিডার নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অগ্রাধিকার ছিল বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি বিনিয়োগ পরিবেশের বাস্তব সমস্যাগুলো জানা। এ লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২০০–২৫০ জন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হয়, যেখানে শিল্প অ্যাসোসিয়েশন ও বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সেই আলোচনা থেকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি হয়। এর ভিত্তিতে পাঁচটি প্রধান সমস্যা নির্ধারণ করা হয়—দুর্নীতি, সরকারি সেবার মান, শিল্প খাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত কনসালটেশনের অভাব, নীতির ধারাবাহিকতার ঘাটতি এবং রিসোর্স অ্যাক্সেস, বিশেষ করে জ্বালানি ও গ্যাস।
এই সমস্যাগুলো সমাধানে বিডা ২০২৫ সালে মোট ৩২টি সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে উদ্যোগগুলো উপস্থাপন করা হলে তারা নীতিগতভাবে একমত হন।
এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যেই ২৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থা, এইচএস কোড সরলীকরণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন এবং ফরেন লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা। পাশাপাশি আইপি ইন্টিগ্রেশন, এফডিআই ইনসেন্টিভ স্কিম ও বন্দর উন্নয়নসংক্রান্ত কৌশলগত উদ্যোগও অনুমোদন পেয়েছে। বাকি উদ্যোগগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্ট্রিম: বর্তমানে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন বিশেষ করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক প্রবণতার আলোকে?
নাহিয়ান রহমান রচি: বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুটো দিকই রয়েছে। ইতিবাচক দিক হলো, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও এফডিআই প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে এবং বিনিয়োগ পরিবেশে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। যেমন ২০২৫ সালে প্রথম ৩ প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় ৮০% বেড়েছে। নেতিবাচক বাস্তবতা হলো—সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এখনো প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ, যা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তুলনায় কম। ফলে বিনিয়োগের ভিত্তি এখনও ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি। গত এক বছরে একটি নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে, যা আগামী ছয় থেকে বারো মাসে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রাখে। এই পাইপলাইন ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে আমরা এখন পুনরুদ্ধারের পথে আছি।
স্ট্রিম: আগামী দিনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিডার স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনাগুলো কী?
নাহিয়ান রহমান রচি: স্বল্পমেয়াদে বিডার প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিনিয়োগ সহজীকরণ। বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন ব্যয় আকর্ষণীয় হলেও বিনিয়োগ শুরু করার সময় প্রশাসনিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। লাইসেন্স, অনুমোদন ও একাধিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল হয়। তাই লাইসেন্সিং, অনুমোদন, টাইম-টু-মার্কেট ও নীতির ধারাবাহিকতাসহ পুরো বিনিয়োগ যাত্রাকে সহজ করাই বিডার মূল লক্ষ্য।
মধ্যমেয়াদে অগ্রাধিকার হলো নীতিগত বাধা দূর করা। বিশেষ করে উদীয়মান খাতগুলোর জন্য ট্যাক্স ও কাস্টমস নীতি আধুনিক করা এবং দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশ নিশ্চিত করা। অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগের আগ্রহ আসে, কিন্তু বাস্তবে রূপ নেয় না। কারণ কাজ শুরু করতে গেলে বিনিয়োগকারীদের নানা চ্যালেঞ্জ ও জটিলতার মুখে পড়তে হয়। তাই বিনিয়োগ ফ্যাসিলিটেশনই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এই বিষয়টি সমাধানে বিডা ইতোমধ্যে কিছু কাজ শুরু করেছে এবং এগুলো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। যেমন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা। এখন বিডার অফিসেই বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একসঙ্গে বসে, যাতে একজন বিনিয়োগকারী এক জায়গা থেকেই ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সেবা পান।
২০১৮ সালে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলেও বাস্তবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে তাদের অনুমোদন ব্যবস্থা চালু রেখেছিল। ফলে একই সঙ্গে দুটি ব্যবস্থা চলায় এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়নি। এই সমস্যা দূর করে বাস্তবে একীভূত সেবা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
স্ট্রিম: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে না বাড়লেও, এই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে নীতিনির্ধারণে কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া গেছে বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেড় বিলিয়ন ডলারের এফডিআই বেজের মধ্যেই আটকে আছে এবং বড় কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া এই বেজ বাড়ানো সম্ভব নয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে কোনো দেশে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ তার ওপর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফ্র্যাগমেন্টেশন—লাইসেন্স, অনুমোদন ও একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ইত্যাদি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।
নীতিনির্ধারণের প্রধান শিক্ষা হলো—ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশনকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে এনে পুরো ব্যবস্থাকে সহজ ও সমন্বিত করা।
স্ট্রিম: বিনিয়োগ ঘিরে সরকারের উচ্চ প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কাঠামোগত বা নীতিগত বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, লজিস্টিকস ব্যবস্থা। বন্দরে ক্লিয়ারেন্স, কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগায় গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কঠিন হয়। বন্দর আধুনিকায়ন, ডিপ সি পোর্ট এবং ফ্রি ট্রেড জোন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এনার্জি সাস্টেইনেবিলিটি। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ চান। ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল, রিফাইনারি প্রকল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে আস্থা বাড়াবে।
তৃতীয়ত, ট্যাক্স প্রেডিক্টেবিলিটি। বিনিয়োগকারীরা পাঁচ থেকে দশ বছরের পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করেন। তাই এপিআই, মেডিকেল ডিভাইস ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উদীয়মান খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল কর কাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে।
স্ট্রিম: আশিক চৌধুরী বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব সুফল আসতে সময় লাগছে এটি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: শুরু হওয়া সংস্কারগুলোর পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগা স্বাভাবিক, কারণ কাঠামোগত সংস্কারের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না। তবে, কয়েকটি সংস্কার চালু হওয়ায়, যেমন বিদেশি লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই তাৎক্ষণিক সুফল মিলছে।
যেহেতু অধিকাংশ সংস্কার ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, তাই অন্তত ১২ মাস সময় লাগবে। বাস্তবসম্মতভাবে, আশা করা যায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু করে এসব সংস্কারের পূর্ণ প্রভাব স্পষ্ট হবে।
ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের প্রথম তিন কোয়ার্টারে এফডিআইয়ের ইকুইটি, রিইনভেস্টেড আর্নিংস ও লোন—সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এটিকে আপাতত একটি প্রাথমিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে; টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
স্ট্রিম: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: একটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে—অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এখনো যথেষ্ট পরিচিত ছিল না। বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ব্যয় এবং তরুণ জনসংখ্যার সুবিধা অনেক বিনিয়োগকারী পুরোপুরি জানতেন না। এ কারণে আমরা বুঝেছি যে সাধারণ ও বিস্তৃত প্রচারণার চেয়ে টার্গেটেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বেশি কার্যকর।
এই লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিকভাবে পাঁচটি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি একটি এফডিআই হিটম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ১৯টি অগ্রাধিকার খাত এবং প্রতিটি খাতের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ উৎস দেশগুলো চিহ্নিত রয়েছে। এই দেশ ও খাতভিত্তিক কৌশল অব্যাহত রাখলে বিনিয়োগ প্রচারণা আরও ফলপ্রসূ হবে।
স্ট্রিম: এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থেকে বিডা কী ধরনের নতুন কৌশল বা ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিডা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকেই কিছু ভিন্নধর্মী কৌশল গ্রহণ করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে বা বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে আগের নেতিবাচক ধারণা বদলান। এ কারণে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে কার্যকর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেমন, ইয়াং ওয়ান গ্রুপ কোরিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিলে তার প্রভাব অনেক বেশি হয়।
এই ধারণা থেকেই বিডা ইনভেস্টর অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর আওতায় মেটলাইফ, শেভরন, ইয়াং ওয়ান, লাফার্জ, ইউনাইটেড আই গ্যাসসহ বড় বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান করা হচ্ছে, যাতে তারা বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারেন।
পাশাপাশি বিডার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারী এক্সপ্লোরেশন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন—পুরো যাত্রায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পান। বিডাকে ইনভেস্টর-ফ্রেন্ডলি করতে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।
স্ট্রিম: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে আপনার দায়িত্বের মূল অগ্রাধিকারগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্বের অগ্রাধিকারগুলো সুস্পষ্ট ও ফলাফলভিত্তিক। আমার প্রধান কেপিআই হলো দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কৌশলগত ইন্টারভেনশন গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এর পাশাপাশি একটি সুসংগঠিত বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করা আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই পাইপলাইনে আগামী এক, তিন ও পাঁচ বছরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতেও এই কাঠামো ধরে কাজ চালানো যায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ও বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখাও আমার দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংক্ষেপে, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং কার্যকর বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি—এই দুটিই আমার দায়িত্বের মূল অগ্রাধিকার।
স্ট্রিম: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং সেগুলো মোকাবেলায় কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে কার্যকর বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে কোঅর্ডিনেশন ফ্র্যাগমেন্টেশন বা সমন্বয়ের অভাব। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। কোঅর্ডিনেশন বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
স্ট্রিম: আগামী এক থেকে তিন বছরে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী, এবং সেই আশাবাদের ভিত্তি কী?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমি আগামী এক থেকে তিন বছরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে খুবই আশাবাদী। এর প্রধান ভিত্তি হলো আমাদের এখন একটি সুসংগঠিত ও পরিচালনাযোগ্য বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে যা আগে ছিল না। এখন আমরা নির্দিষ্টভাবে জানি—কোন দেশ ও কোন খাতে কোন কোম্পানির সঙ্গে আগামী ছয় মাস, এক বছর বা দেড় বছরে কাজ করা হবে। আমরা একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছি। যেমন ২০২৫ সালে, আমাদের এই কিউরেটেড হাই-প্রবাবিলিটি ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইনে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ শনাক্ত ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
এই কাঠামোর কারণেই আমি বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক বছরে এফডিআই বর্তমান দেড় বিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য ও টেকসইভাবে বাড়বে। এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত, তাই এগুলোর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনও থাকবে। পরবর্তী সরকারগুলোও সেটা অব্যাহত রাখবে।
স্ট্রিম: চলমান সংস্কার ও পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ কোন নতুন অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি রিলায়েবল ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কম উৎপাদন ব্যয়, অনুকূল জনসংখ্যা কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থান—এই তিনটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আমাদের আছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে একটি রিজিওনাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ এই অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য একটি শক্তিশালী লিড ক্যান্ডিডেট হতে পারে।
স্ট্রিম: বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদারে যদি একটি অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার বা সিদ্ধান্ত চিহ্নিত করতে হয়, সেটি কোনটি হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমি মনে করি, ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সরলীকরণ ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রবেশের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা—এটাই বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর সংস্কার।
স্ট্রিম: কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করেছে বলে আমরা দেখেছি। এই অভিজ্ঞতা থেকে বিডা কী ধরনের বিশ্লেষণ বা নীতিগত শিক্ষা গ্রহণ করেছে?
নাহিয়ান রহমান রচি: এটি শুধু বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট সমস্যা নয়; বরং বৈশ্বিক রিস্ট্রাকচারিংয়ের অংশ। বিডার অবস্থান স্পষ্ট—আমরা কোনো বিনিয়োগকারী হারাতে চাই না। যেসব ক্ষেত্রে নিজস্ব উন্নতির সুযোগ আছে, সেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটিই এই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া প্রধান শিক্ষা।
স্ট্রিম: সর্বশেষ, আজ যদি একজন বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করব কেন?’ আপনার এক বাক্যের উত্তর কী হবে?
নাহিয়ান রহমান রচি: আমার উত্তর হবে—এটি একটি হাই-রিটার্ন মার্কেট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পাওয়ার বাস্তব সুযোগ অনেক। বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামী এক দশকের জন্য একটি ব্লু-চিপ বিনিয়োগ গন্তব্য।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
নাহিয়ান রহমান রচি: আপনাকেও ধন্যবাদ। ঢাকা স্ট্রিমের পাঠকদের জন্য শুভকামনা।

ঢাকার একটি চায়ের দোকানে পাশাপাশি বসে তিনজন মধ্যবয়সী মানুষ মোবাইলের পর্দায় একটি ভিডিও দেখছিলেন। স্ক্রিনে একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতা কথা বলছেন। তার গলার আওয়াজ, মুখের ভাব, এমনকি বলার ঢং পর্যন্ত সম্পূর্ণ আসল নেতার মতো। কিন্তু কথার বিষয়বস্তু? এসব তিনি কখনো বলেননি। ভিডিওটি বানানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধি
৭ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। সমসাময়িক রাজনীতি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন পথচলা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
২ দিন আগে
গণমাধ্যম চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা ছিল পাহাড়সম। গণমাধ্যমের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থ, মালিকপক্ষের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ সবসময়ই ছিল। সব ক্ষেত্রে সেই চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
৩ দিন আগে
গণতন্ত্রের মহোৎসবে আজমলের কাছে ১ হাজার টাকার মূল্য অনেক বেশি। শোনা যায়, প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে যখন গণতন্ত্রের চর্চা হতো, তখন নাগরিকরা তাদের কাজ ফেলে ভোট দিতে যেত বলে তাদের নাকি রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দিত। আজমলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেউ নেই। তাঁর কাছে ব্যালট পেপারের চেয়ে দুই কেজি চালের দাম অনেক বেশি বাস্তব।
৩ দিন আগে