leadT1ad

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এআই সন্ত্রাস: গণতন্ত্রের জন্য বিপদ

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩৬
এআই জেনারেটেড ছবি

ঢাকার একটি চায়ের দোকানে পাশাপাশি বসে তিনজন মধ্যবয়সী মানুষ মোবাইলের পর্দায় একটি ভিডিও দেখছিলেন। স্ক্রিনে একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতা কথা বলছেন। তার গলার আওয়াজ, মুখের ভাব, এমনকি বলার ঢং পর্যন্ত সম্পূর্ণ আসল নেতার মতো। কিন্তু কথার বিষয়বস্তু? এসব তিনি কখনো বলেননি। ভিডিওটি বানানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে। দোকানি জানেন না এটা নকল। ভিডিওটি ইতিমধ্যে হাজার হাজার বার শেয়ার হয়ে গেছে। আসছে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন যত কাছে আসছে, এমন ঘটনা তত বেড়ে চলেছে। প্রযুক্তির এই অপপ্রয়োগ শুধু নির্বাচনী চালবাজি নয়। এটা দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আঘাত করছে। ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার যখন ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়াবেন, তখন তারা কি সত্য আর মিথ্যার ফারাক বুঝতে পারবেন?

গত দুই মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ঘটেছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র এক মাসে ৯৭টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়েছে। এগুলো এসেছে ৬১৫টি পর্যবেক্ষণাধীন পেজ ও প্রোফাইল থেকে। ভিডিওগুলোর মধ্যে কিছু এসেছে একটি রাজনৈতিক ধারার সমর্থকদের কাছ থেকে, কিছু এসেছে অন্য ধারা থেকে। এই সংখ্যা কেবল শনাক্ত করা কন্টেন্টের। কতগুলো ধরা পড়েনি, সেই হিসাব কারও কাছে নেই। প্রতিটি কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে একটি উদ্দেশ্যে, ভোটারদের মন পরিবর্তন করা। রাজনৈতিক নেতাদের মুখে ভুয়া বক্তব্য বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ছবি বিকৃত করা হচ্ছে। এমনকি নেতাদের কণ্ঠস্বর নকল করে অডিও তৈরি হচ্ছে।

এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা হলো, সাধারণ মানুষ প্রথম দর্শনে বুঝতে পারেন না যে এটি ভুয়া। ফলে বিভ্রান্তি ছড়ায় দ্রুত। এই অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারাও। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে তৈরি করা এক ডিপফেক ভিডিওতে তাঁকে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানাতে দেখানো হয়েছে। তাঁর প্রেস উইং বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, জুয়াড়িরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে এমন ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে। ভিডিওগুলো দেখতে সংবাদ রিপোর্টের মতো, কিন্তু আসলে মানুষকে জুয়ার সাইটে টেনে নেওয়ার ফাঁদ। অন্য একজন শীর্ষ নেতাকে নিয়েও একাধিক ডিপফেক ভিডিও তৈরি হয়েছে। একটিতে তাঁকে গাজা ইস্যুতে নীরব থাকার এবং আমেরিকার মন রক্ষার পরামর্শ দিতে দেখা গেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এই ধরনের বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা ফ্যাক্ট ওয়াচ ও ডিসমিসল্যাব এই ভিডিওগুলোকে ডিপফেক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ভোটে দুই নির্দলীয় প্রার্থী আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার এবং বিউটি বেগম ডিপফেক ভিডিওর ফাঁদে পড়েন। ভোটগ্রহণের দিন গাইবান্ধা-১ ও বগুড়া-২ কেন্দ্রের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে তৈরি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করতে দেখা যায়। ডিসমিসল্যাব নিশ্চিত করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্থির ছবিকে চলমান ভিডিওতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। কম্পিউটার জেনারেটেড কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তাঁদের মুখ দিয়ে ভুয়া বিবৃতি দেওয়ানো হয়েছিল। দুটি ভিডিওই একই দিনে চালু হওয়া ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো হয়, যা সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। নাহিদ নিগার শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করলেও বিউটি বেগম মাত্র তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এই ভোটগুলো কি ডিপফেক ভিডিওর প্রভাবে হারিয়েছিলেন?

প্রশ্নটি এখনও খোলা। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার শুধু নেতাদের ক্ষতি করছে না, ভোটারদের মনেও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটারদের পছন্দ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রচারণা দ্বারা প্রভাবিত হবে। অনেক ভোটার বুঝতেই পারবেন না যে তাঁরা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই ধরনের তথ্য বিশৃঙ্খলা নির্বাচন পরবর্তী দাঙ্গার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যখন মানুষ বিশ্বাস করবে যে একজন নেতা এমন কিছু বলেছেন যা তিনি আদৌ বলেননি, তখন ক্ষোভ জন্মাবে। ক্ষোভ থেকে সহিংসতা দূরে নয়।

নির্বাচনের আগে মাত্র দশ দিন বাকি। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে কী করা যেতে পারে? নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে একটি ইলেকশন সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল সক্রিয় করতে হবে। এই সেল নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সন্দেহজনক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও রিপোর্ট করতে হবে।

আমেরিকার ২৫টি রাজ্য ইতোমধ্যে নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন করেছে। টেক্সাস ও মিনেসোটা ভোটের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক ডিপফেক প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে।

ডিজিটালি রাইটের গবেষণায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক কর্মকর্তারা মেটাকে এই ধরনের কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ করলেও বেশিরভাগ সময় সাড়া পান না। তাই সরকারি পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ এবং আইনি নোটিশ জারি করা জরুরি। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাৎক্ষণিক প্রচারণা চালু করতে হবে। টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপফেক চেনার সহজ উপায় শেখাতে হবে। ভিডিওতে ঠোঁটের নড়াচড়া ও কথার মধ্যে গরমিল, অস্বাভাবিক চোখের পলক ফেলা, মুখের অংশে অদ্ভুত ছায়া বা আলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বিকৃতি—এই লক্ষণগুলো সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।

প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে অবিলম্বে তাদের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া পেজে যাচাই ব্যাজ সংযুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি কেবল যাচাইকৃত পেজ থেকে দেওয়ার অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে। প্রতিটি গণমাধ্যমে একটি দ্রুত ফ্যাক্ট চেকিং ডেস্ক স্থাপন করতে হবে। ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা কদরুদ্দিন শিশির পরামর্শ দিয়েছেন, ইতিবাচক নির্বাচনী প্রচারণা ভিডিও নির্দিষ্ট ডিসক্লেমারসহ অনুমোদিত হতে পারে। কিন্তু নেতিবাচক বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ভিডিও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা উচিত।

মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাইরাল হওয়া সন্দেহজনক কনটেন্ট সম্পর্কে এসএমএস সতর্কতা পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একটি সাধারণ বার্তা, ‘সাবধান! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে। শেয়ার করার আগে যাচাই করুন।’ হাজার হাজার মানুষকে সতর্ক করতে পারে।

এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ঝুঁকি কমাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাই। নির্বাচনের পরপরই একটি জাতীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু করতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জন্য মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন পেশাদার ফ্যাক্ট চেকার রয়েছেন। এই সংখ্যা অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক এবং ফ্যাক্ট চেকিং কোর্স চালু করতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রয়োজন, কারণ তাঁরা ঐতিহ্যগত সত্যতা যাচাই পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই পদ্ধতি আর কার্যকর নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি ডিপফেক ডিটেকশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেখানে সন্দেহজনক কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য যেতে পারবেন। বাংলা ভাষার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিটেকশন টুল তৈরি করতে হবে। বর্তমানে যেসব টুল পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত ইংরেজি ভাষার জন্য। বাংলায় সেগুলো তেমন কার্যকর নয়। আইনি কাঠামোতে নির্দিষ্টভাবে ডিপফেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জেনারেটেড দুষ্প্রচারের বিষয়ে ধারা যুক্ত করতে হবে।

আমেরিকার ২৫টি রাজ্য ইতোমধ্যে নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন করেছে। টেক্সাস ও মিনেসোটা ভোটের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক ডিপফেক প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে। অন্যান্য ২৩টি রাজ্য বাধ্যতামূলক করেছে যে মিডিয়া কন্টেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জেনারেটেড উপাদান থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই অ্যাক্টও গণতন্ত্রের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত হুমকি মোকাবেলা করেছে। বাংলাদেশেরও অনুরূপ আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন টিম নিয়োগ করতে বাধ্য করতে হবে। সারফশার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচন সংক্রান্ত ডিপফেক ঘটনাগুলোর ৯২ শতাংশে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহৃত হয়েছে। যদি প্ল্যাটফর্মগুলো দায়িত্ব নিয়ে কনটেন্ট মডারেশন করে, তাহলে অনেক ভুয়া কনটেন্ট প্রথমেই আটকানো যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি নৈতিক আচরণবিধি তৈরি করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং মিডিয়া সাক্ষরতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত হুমকি মোকাবেলায় সক্ষম হয়।

আগামী বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেক আরও বিশ্বাসযোগ্য ও তৈরি করা সহজ হয়ে যাবে। গুগলের নতুন ভিডিও জেনারেশন টুল বাস্তব ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন ফুটেজ তৈরি করতে সক্ষম। অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম আরও ব্যবধান সংকুচিত করছে। কিন্তু প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, জনসচেতনতা আর আইন সেভাবে এগোয়নি।

বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী; এই প্রযুক্তির অপব্যবহার আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, আর ভুল পথে চালিত হলে সেই গণতন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচনের দিন নয়, বাংলাদেশের ডিজিটাল গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষার দিন। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যাপারটি নির্ভর করবে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর। সময় খুবই কম, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। কারণ একবার বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই লেখাটি লেখকের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও মতামত, যা প্রকাশিত সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এখানে উল্লিখিত মতামত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে বিবেচ্য নয়।

  • শোয়েব সাম্য সিদ্দিক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত